১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

গণপরিবহন সোনার হরিণ

গণপরিবহন সোনার হরিণ
  • রাজধানীতে মধ্যবিত্তের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে সব ধরনের পরিবহন;###;বাস-মিনিবাসও এখন সাধারণের জন্য ব্যয়বহুল;###;প্রয়োজনের তুলনায় সংখ্যা অপ্রতুল

রাজন ভট্টাচার্য ॥ মিরপুর দশ নম্বর গোল চত্বর থেকে যাত্রাবাড়ী পর্যন্ত নতুন ট্যাক্সিক্যাবে যেতে গুনতে হচ্ছে কমপক্ষে ৭০০ টাকা। মধ্যবিত্তের প্রাইভেটকার হিসেবে খ্যাত এই পরিবহনে উঠলেই প্রথম দুই কিলোমিটারের জন্য ভাড়া প্রায় শত টাকা। ঢাকায় চলা ১৩ হাজার অটোরিক্সার একটিও সরকার নির্ধারিত ভাড়ার তালিকা মানে না। অন্তত ১৫০ টাকার নিচে স্বল্প দূরত্বেও যেতে নারাজ এই পরিবহন। মানুষকে জিম্মি করে ভাড়া আদায় করছে অটোরিক্সাচালকরা। বাস ও মিনিবাসে ওঠা দায়। সিটিং সার্ভিসের নামে চলছে প্রতারণা। ভাড়া আদায়ের ক্ষেত্রে চলছে অরাজকতা। পাশাপাশি পরিবহন স্বল্পতা যে চরমে উঠেছে তা নতুন করে বলার নেই। অটোরিক্সা-বাস-মিনিবাস-ট্যাক্সিসহ গণপরিবহন বৃদ্ধির উদ্যোগ লাল ফিতার দৌরাত্ম্যে আটকে আছে বছরের পর বছর। রাষ্ট্রীয় পরিবহন সংস্থা বিআরটিসিও চলছে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে। পাশাপাশি সব পরিবহনের সেবার মান নিয়ে তো প্রশ্ন আছেই। এই প্রেক্ষাপটে আবারও বাড়ছে বাস-মিনিবাসসহ অটোরিক্সার ভাড়া। সব মিলিয়ে মধ্যবিত্তের নাগালের বাইরে যাচ্ছে রাজধানীর গণপরিবহন। দিন দিন বাড়ছে ব্যক্তিগত গাড়ির সংখ্যা। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নানা কারণে রাজধানীতে উন্নত ও মান সম্মত গণপরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলার বিষয়টি উপেক্ষিত থেকে যাচ্ছে। মাত্র আট ভাগ যাত্রী ঢাকায় প্রাইভেটকার ব্যবহার করছেন। এর বাইরে প্রায় মানুষই গণপরিবহনের ওপর নির্ভরশীল। তাই গণপরিবহনের সংখ্যা বাড়াতে ডিটেইল প্ল্যান তৈরির তাগিদ দিয়েছেন তারা। সেই সঙ্গে প্রাইভেটকার ব্যবহারে নিরুৎসাহিত করার কথাও বলছেন বিশেষজ্ঞ মহল। দ্রুত সময়ের মধ্যে বাস-মিনিবাস-ট্যাক্সি-অটোরিক্সা নামানোর বিকল্প নেই। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় জায়গা চিহ্নিত করে অটোরিক্সা ও ট্যাক্সির জন্য স্টেশন নির্ধারণ করারও তাগিদ দিয়েছেন তারা।

অটোরিক্সাও যাচ্ছে হাতের নাগালের বাইরে ॥ এক নবেম্বর থেকে অটোরিক্সায় প্রথম দুই কিলোমিটারে দিতে হবে ৪০ টাকা। মালিকদের জমা বাড়িয়ে ৬০০ টাকার স্থলে করা হয়েছে ৯০০ টাকা। গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির প্রেক্ষিতে নতুন করে ভাড়া বাড়ানোর এই সিদ্ধান্ত নিল সরকার। নতুন ভাড়া অনুযায়ী, সিএনজিচালিত অটোরিক্সার ক্ষেত্রে ঢাকা-চট্টগ্রাম এই দুই সিটি কর্পোরেশনে প্রথম দুই কিলোমিটারের ভাড়া ২৫ টাকার স্থলে ৪০ টাকা করা হয়েছে। সর্বনিম্ন ভাড়াও তাই। পরবর্তী প্রতি কিলোমিটারের ভাড়া সাত টাকা ৬৪ পয়সার স্থলে ১২ টাকা করা হয়েছে। যানজট বা অন্য কোন কারণে রাস্তায় বিরতিকালে প্রতি মিনিটের ভাড়া এক টাকা ৪০ পয়সার স্থলে ২ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। সড়ক পরিবহনমন্ত্রী জানান, সরকার নির্ধারিত অটোরিক্সার ভাড়া মেনে চলতে মিটার মেরামতের জন্য পরিবহন মালিকরা সময় চেয়েছেন। বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে তাদের এক নবেম্বর পর্যন্ত সময় দেয়া হয়েছে। এ দিন থেকেই ভাড়া কার্যকর করার কথা জানান সড়ক পরিবহনমন্ত্রী।

ধরাছোঁয়ার বাইরে ট্যাক্সিক্যাব ॥ ২০১৪ সালের ২২ এপ্রিল রাজধানীতে নতুন ট্যাক্সিক্যাব উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেনাবাহিনী ট্রাস্টের ২৭টি এবং বেসরকারী প্রতিষ্ঠান তমা কনস্ট্রাকশনের ১৯টি ট্যাক্সিক্যাব সড়কে আনুষ্ঠানিকভাবে চলাচল শুরু করে। পর্যায়ক্রমে ঢাকা ও চট্টগ্রামে ৬০০টি গাড়ি নামানোর কথা থাকলেও তা এখন সিদ্ধান্তের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। নতুন ট্যাক্সিক্যাবে প্রথম দুই কিলোমিটারের ভাড়া ১০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল। এ নিয়ে তীব্র সমালোচনা হয়। পরে প্রধানমন্ত্রী উদ্বোধন অনুষ্ঠানে বক্তব্যে তা ৮৫ টাকা করতে প্রস্তাব দেন। প্রথম দুই কিলোমিটারের পর প্রতিকিলোমিটারের ভাড়া হবে ৩৪ টাকা এবং প্রতি দুই মিনিটের ওয়েটিং চার্জ নেয়া হচ্ছে ৮ টাকা ৫০ পয়সা। গুলশান থেকে কোন যাত্রী কমলাপুর রেলস্টেশন কিংবা মতিঝিলে আসতে চাইলে কমপক্ষে গুনতে হচ্ছে ৫০০ টাকা। আর মতিঝিল থেকে মিরপুর গেলে গুনতে হবে ছয় থেকে ৭০০ টাকা। এমন বাস্তবতায় এসব পরিবহন এখন আর সাধারণ মানুষের জন্য নয়। ভাড়ার কারণে মধ্যবিত্তের বাইরে চলে গেল মধ্যবিত্তের পরিবহন। তমা কনস্ট্রাকশনের এক চালক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, মধ্য আয়ের লোকজন আমাদের গাড়ি এখন আর ব্যবহার করেন না। উচ্চবিত্তরাই ট্যাক্সির মূল যাত্রী। তিনি জানান, গুলশান, বনানী, বারিধারা, কমলাপুর, ধানম-ির এলাকার যাত্রীরাই সবচেয়ে বেশি এসব ট্যাক্সিক্যাব ব্যবহার করে থাকেন। ভিআইপি ও ভিভিআইপি এলাকা থেকেই ভাড়াও মেলে যথেষ্ট। এছাড়া পুরনো ট্যাক্সিক্যাবের সবই এখন ঢাকার রাস্তা থেকে তুলে দেয়া হয়েছে। যদিও বিআরটিএ কাগজপত্রে এখনও এসব ট্যাক্সিক্যাব রয়েছে।

মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, এই ট্যাক্সিক্যাবগুলো জাপানের টয়োটা থেকে আনা। এই এক্সিও ও প্রোবক্স গাড়িগুলোর ইঞ্জিন ১৫০০ সিসি ক্ষমতাসম্পন্ন এবং অকটেনে চালিত। প্রতিটি গাড়ি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত। গাড়িতে সিকিউরিটি ট্র্যাাকিং, মনিটরিং এবং মিটারের ব্যবস্থা থাকবে। উল্লেখ্য, ১৯৯৬ সালে রাজধানীতে প্রথম ট্যাক্সিক্যাব চালু হয়।

বেড়েছে ১৫০ গুণ ভাড়া ॥ বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির পরিসংখ্যান বলছে, গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির প্রেক্ষিতে ঢাকা ও চট্টগ্রামে ১৫০ গুণ পরিবহন ভাড়া বাড়ানো হয়েছে। যাত্রী অধিকারের স্বার্থে কাজ করা এই সংগঠনের নেতারা বলছেন, নানাদিক বিবেচনা করে যেখানে বিদ্যমান ভাড়া কমানোর কথা ছিল সেখানে বেড়েছে। তাছাড়া যেসব ১৭টি মানদ-ের ওপর ভাড়া নির্ধারণ করা হয় সেখানে পরিবহন মালিকরা নানা কৌশলে ভাড়া বাড়িয়ে নিয়েছেন। এই কমিটিতে যাত্রীদের পক্ষ থেকে কোন প্রতিনিধি রাখা হয়নি। সঙ্গত কারণেই জনস্বার্থের বিষয়টি উপেক্ষিত রয়েই গেছে। যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোঃ মোজাম্মেল হক চৌধুরী জনকণ্ঠ’কে বলেন, রাজধানীতে মান সম্মত কোন গণপরিবহন নেই। এবার গণপরিবহনের ভাড়া বেড়েছে ১৫০ ভাগ। যা প্রায় দ্বিগুণ বলে দাবি করেন তিনি।

কমছে গণপরিবহন ॥ রাজধানীতে ব্যক্তিগত গাড়ি যেভাবে বাড়ছে সে তুলনায় কমছে গণপরিবহনের সংখ্যা। বিআরটিএ পরিসংখ্যান বলছে, মাস কিংবা দিনের হিসাব অনুযায়ী সবচেয়ে বেশি নামছে ব্যক্তিগত পরিবহন। এর মধ্যে নতুন বাস কিংবা গণপরিবহন অনুমোদন দেয়ার বিষয়ে রিজিওনাল ট্রান্সপোর্ট কমিটি (আরটিসি)’র বৈঠক বন্ধ রয়েছে দীর্ঘ সময়। বুধবার জাতীয় সংসদে এক প্রশ্নের জবাবে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের জানিয়েছেন, ঢাকা শহরের রাস্তায় চলাচলের জন্য প্রতিদিন বিভিন্ন ধরনের ৩১৭টি গাড়ির নিবন্ধন দেয়া হয়। ২০১৫ সালের আগস্ট মাসের পরিসংখ্যানের ভিত্তিতে ঢাকায় গাড়ির নিবন্ধন দেয়া নিয়ে এ তথ্য জানান মন্ত্রী।

তিনি বলেন, গত ৩১ অগস্ট পর্যন্ত ঢাকা শহরে নিবন্ধিত বিভিন্ন শ্রেণীর যানবাহনের সংখ্যা নয় লাখ ২৪ হাজার ৩৯২টি। এর মধ্যে তিন লাখ ৬৫ হাজার ৩৫০টি মোটরসাইকেল এবং দুই লাখ ১৬ হাজার ৫৫৫টি প্রাইভেটকার। ঢাকা শহরে যানজট কমাতে প্রাইভেটকার কেনা ও ব্যবহারে কোন নীতিমালা হবে কিনা- এক সংসদ সদস্যের এ প্রশ্নের জবাবে সড়ক পরিবহনমন্ত্রী বলেন, যানজট নিরসনে প্রাইভেটকারের ব্যবহার সীমিত করার বিষয়টি ‘জাতীয় সমন্বিত বহু মাধ্যমভিত্তিক পরিবহন নীতিমালা ২০১৩’ এ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

এছাড়া বিআরটিএ সূত্রে জানা গেছে, রাজধানীতে অটোরিক্সা চলছে আট হাজার ৩৬৬টি। যদিও ১৩ হাজার অটোরিক্সা অনুমোদন দেয়া হয়েছিল। অটোটেম্পো চলছে এক হাজার ৬৬৪টি। বাস চলছে ২৩ হাজার ২৯টি। মিনিবাসের সংখ্যা নয় হাজার ৯৯৯টি। ট্যাক্সি ৩৬ হাজার ৪৬৫টি।

যানজট নিরসনে ঢাকায় ‘ম্যাস র‌্যাপিড ট্রানজিট’ (এমআরটি)’র কাজ অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে শুরু হয়েছে এ কথা উল্লেখ করে সড়ক পরিবহনমন্ত্রী বলেন, এই কাজ সমাপ্ত হলে প্রাইভেটকারের ব্যবহার সীমিত হয়ে যাবে। ২০ বছরের পুরনো গাড়ি উচ্ছেদে সফলতা আসছে কিনা সে প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, কতিপয় অসাধু পরিহন মালিকের অসহযোগিতার কারণে অভিযানে পুরোপুরি সফলতা আসছে না। অভিযান বন্ধ হলে এ সকল গাড়ি পুনরায় রাস্তায় নিয়ে আসে। ২০ বছরের পুরনো বাস-মিনিবাস এবং ২৫ বছরের পুরনো পণ্যবাহী গাড়ি ঢাকা শহরে চলাচল নিষিদ্ধ।

মন্ত্রী জানান, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) চলমান কার্যক্রমের অংশ হিসেবে বিআরটিএর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের মাধ্যমে ২০১৪ সালের জুলাই থেকে গত জুলাই পর্যন্ত ৫ হাজার ৭২৪টি মামলার মাধ্যমে ৬৮ লাখ ৭৪ হাজার ৩০ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এছাড়া ১১৩ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদন্ড এবং ২৮০টি গাড়ি ডাম্পিং স্টেশনে পাঠানো হয়েছে। ভুয়া ড্রাইভিং লাইসেন্স ব্যবহারকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে বলেও জানান মন্ত্রী।

ফের বাড়ল বাস ভাড়া ॥ সর্বশেষ বিদ্যুত ও গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির পর আবারও ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরীতে বাস-মিনিবাস ও অটোরিক্সার ভাড়া বাড়ছে। আগামী পহেলা অক্টোবর থেকে প্রতি কিলোমিটারে বাস ভাড়া এক টাকা ৭০ পয়সা ও মিনিবাসে এক টাকা ৬০ পয়সা করা হয়েছে। ভাড়া নির্ধারণ কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী ঢাকা ও চট্টগ্রামের দুই সিটিতে আগে কিলোমিটার প্রতি বাস ভাড়া ছিল এক টাকা ৬০ পয়সা। মিনিবাসের কিলোমিটারপ্রতি ভাড়া ছিল এক টাকা ৫০ পয়সা। এখন উভয় বাসেই ১০ পয়সা করে বাড়ানো হয়েছে। এছাড়া বাসে ৭ টাকা ও মিনিবাসে ৫ টাকা সর্বনিম্ন ভাড়া বহাল রাখা হয়েছে। ঢাকা ট্রান্সপোর্ট কো-অর্ডিনেশন অথরিটির (ডিটিসিএ) আওতায় হওয়ায় মানিকগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর, মুন্সীগঞ্জ, নরসিংদীসহ পাঁচ জেলায় ঢাকা-চট্টগ্রামের বাস ও মিনিবাসের ভাড়া আদায় করা হবে।

পরিবহন সংশ্লিষ্টরা ও সাধারণ মানুষের বক্তব্য প্রতিকিলোমিটারে ১০ পয়সা বাড়ানো হলেও মাঠপর্যায়ে তা বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। কারণ দিন দিন পয়সার প্রচলন কমছে। এদিক বিবেচনায় প্রকৃত অর্থে যাত্রীদের কিলোমিটারপ্রতি বাড়তি ভাড়া গুনতে হতে পারে। এ বিষয়টি সড়ক পরিবহন সেতু মন্ত্রণালয়, বিআরটিএ, পুলিশ থেকে শুরু করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা উচিত বলে মনে করেন তারা।

বাড়ানো হবে বিআরটিসির বাস ॥ রাজধানীতে গণপরিবহন সঙ্কট সমাধানে বাস বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে রাষ্ট্রীয় পরিবহন সংস্থা (বিআরটিসি)। জানা গেছে, সড়কপথে যাত্রী সেবার মান বাড়াতে ভারতীয় ঋণের আওতায় ৩০০টি দ্বিতল ও ১০০টি আর্টিকুলেটেড বাস সংগ্রহে বিস্তারিত প্রকল্প প্রতিবেদন তৈরি করা হচ্ছে।

গণপরিবহনের জন্য প্রয়োজন ডিটেইল প্ল্যান ॥ দিন দিন রাজধানীতে বাড়ছে মানুষ। প্রতিদিন প্রায় আড়াই কোটি মানুষ নগরীতে চলাফেরা করে। এর মধ্যে প্রায় ৫০ লাখ মানুষ কাজ শেষে ঢাকার বাইরে চলে যান। মোট জনসংখ্যার মধ্যে বেশিরভাগ অংশ গণপরিবহনের ওপর নির্ভরশীল। বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির পরিসংখ্যান বলছে, ঢাকায় প্রায় ২০ লাখ গাড়ি চলছে। এর মধ্যে নিবন্ধনহীন গাড়ির সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। এক নম্বর প্লেটে চলছে একাধিক গাড়ি। অবৈধ এসব পরিবহন বন্ধে কার্যকর কোন পদক্ষেপ নেই।

প্রতিষ্ঠানের মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, নতুন ট্যাক্সিক্যাব নামানোর সময় আমরা ভাড়া নিয়ে প্রতিবাদ করেছিলাম। তখন আমাদের কথা কেউ শোনেনি। এখন নতুন ট্যাক্সিগুলো গণপরিবহনের ভূমিকা রাখতে পারছে না। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো এখন ভাড়া কমাতে মন্ত্রণালয়ে দৌড়ঝাঁপ করছে। গণপরিবহনের জন্য ডিটেইল প্ল্যান করার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, রাজধানী শহরে মান সম্মত ও প্রয়োজনীয় গণপরিবহন না থাকার কথা ভাবা যায় না। গণপরিবহন না থাকায় দিন দিন বাড়ছে ব্যক্তিগত গাড়ির সংখ্যা। পাল্লা দিয়ে বাড়ছে যানজট ও জনভোগান্তি। রাজধানীতে যানজটমুক্ত রাখা ও উন্নত গণপরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলার বিষয়টি মাথায় রেখে সম্প্রতি স্ট্র্যাটেজিক ট্রান্সপোর্ট প্ল্যান (এসটিপি) করা হয়েছিল। কোন রকম কাটাছেঁড়া ছাড়াই এসটিপি বাস্তবায়নের দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, সম্প্রতি রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষকে রাজধানীর উন্নয়নে আরেকটি পরিকল্পনা করতে বলা হয়েছে। যার লক্ষ্যমাত্রা ২০৩৫ সাল পর্যন্ত। বাস্তবতা হলো এই পরিকল্পনায় গণপরিবহনের বিষয়টি নাকি ভুলবশত আনা হয়নি।

এদিকে গণপরিবহনের বর্ধিত ভাড়া প্রত্যাখ্যান করেছে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি। বর্ধিত এ ভাড়ার সঠিক ব্যয় বিশ্লেষণ করা হলে বর্তমান বিদ্যমান ভাড়া আরও কমে আসত বলে মনে করে সংস্থাটি। নেতৃবৃন্দ বলছেন, এই ভয়ে সরকারের সংশ্লিষ্টরা যাত্রী প্রতিনিধি বাদ দিয়ে শুধু মালিক-শ্রমিকদের নিয়ে বৈঠক করেছে। যা মালিক-শ্রুমিকদের লাভবান করার স্বার্থ সংরক্ষণ করা হয়েছে। এতে যাত্রী স্বার্থ চরমভাবে উপেক্ষিত হয়েছে। বর্তমানে বিদ্যমান ভাড়া নৈরাজ্যকে আরও উস্কিয়ে দেয়া হয়েছে। ফলে দেশের সাধারণ জনগণের ভোগান্তি বাড়বে। তারা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

নেতারা অভিযোগ করে বলেন, জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধির আগেই মালিক-শ্রমিকদের স্বার্থে সিএনজিচালিত অটোরিক্সার ভাড়া ৬০ ভাগ বাড়াতে বিআরটিএর প্রচেষ্টা চালায়। নামে মাত্র জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধি পেলেও বাস ভাড়া কয়েক গুণ বাড়ানো হয়েছে।