১৬ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

চট্টগ্রামে ৭৭৪ একরের ওপর চীনা অর্থনৈতিক অঞ্চল হচ্ছে

  • একনেকে ৭ প্রকল্প অনুমোদন, বাস্তবায়নে ব্যয় হবে ৫০৩৯ কোটি ৭৯ হাজার টাকা

অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ চীনের জন্য ৭৭৪ একরের নতুন অর্থনৈতিক অঞ্চলসহ ৭ প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)। মঙ্গলবার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এ অনুমোদন দেয়া হয়। এগুলো বাস্তবায়নে মোট ব্যয় হবে ৫ হাজার ৩৯ কোটি ৭৯ লাখ টাকা। এর মধ্যে সরকারী তহবিলের ২ হাজার ৯১৬ কোটি ৬০ লাখ এবং বৈদেশিক সহায়তা থেকে ২ হাজার ১২৩ কোটি ১৯ লাখ টাকা ব্যয় করা হবে। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন শেখ হাসিনা। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। এ সময় পরিকল্পনা বিভাগের সচিব শফিকুল আযম, সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের সদস্য ড. শামসুল আলম, ভৌত অবকাঠামো বিভাগের সদস্য আরাস্তু খান উপস্থিত ছিলেন।

অন্যদিকে একনেক বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যেসব দেশে বাংলাদেশের নিজস্ব দূতাবাস ভবন নেই সেখানে ভবন তৈরির জন্য নির্দেশ দিয়েছেন। এ বিষয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে নির্দেশ দিয়ে তিনি বলেন, যেসব দেশে জমি পাওয়া গেছে দ্রুত সেসব দেশে নিজস্ব দূতাবাস ভবন নির্মাণ করতে হবে। এজন্য প্রয়োজনে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে একটি আলাদা উইং খোলার কথাও বলেন তিনি। তাছাড়া চীনের জন্য নতুন অর্থনৈতিক অঞ্চলের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা চীনকে শুধু জমির ব্যবস্থা করে দিচ্ছি। গ্যাস তারা আমদানি করবে। সেই সঙ্গে অন্যান্য অবকাঠামোও তারাই তৈরি করে নেবে।

ব্রিফিং-এ পরিকল্পনা মন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, নতুন এ অর্থনৈতিক অঞ্চলটি তৈরি হলে চীনা কোম্পানিগুলোকে বিনিয়োগে আকৃষ্ট করতে অনুকূল ব্যবসায়িক পরিবেশ তৈরি, বহুমাত্রিক পণ্য উৎপাদনকারী শিল্প প্রতিষ্ঠান স্থাপন এবং টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়নে ব্যাপক কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হবে। জমি অধিগ্রহণের জন্য মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৪২০ কোটি ৩৬ লাখ ৯৪ হাজার টাকা। ২০১৬ সালের জুনের মধ্যেই ভূমি অধিগ্রহণের কাজ শেষ করবে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধীন বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা)।

অনুমোদিত অন্যান্য প্রকল্প হচ্ছে, ডাবল লিফটিং-এর মাধ্যমে ভূ-উপরিস্থ পানির সাহায্যে সেচ সম্প্রসারণ (তৃতীয় পর্যায়) এটি বাস্তবায়নে ব্যয় হবে ১১৮ কোটি ৭৩ লাখ টাকা। বৃহত্তর চট্টগ্রাম জেলা পল্লী অবকাঠামো উন্নয়ন (চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার জেলা) প্রকল্প, এর ব্যয় ৩৬৬ কোটি টাকা। দ্বিতীয় লোকাল গবর্ন্যান্স সাপোর্ট প্রজেক্ট (এলজিএসপি-২), এর ব্যয় ৩ হাজার ৯৪০ কোটি ৯১ লাখ টাকা। বনগাঁও-নুন্নী-হাতীপাগার সড়ক প্রশস্তকরণ ও মজবুতিকরণ প্রকল্প, ব্যয় ৬৩ কোটি ৬৬ লাখ টাকা। ডাক পরিবহন ব্যবস্থা শক্তিশালীকরণ, ব্যয় হবে ৭৮ কোটি ৩৩ লাখ টাকা এবং পাকিস্তানের ইসলামাবাদে চ্যান্সারি কমপ্লেক্স নির্মাণ প্রকল্প। এটি বাস্তবায়নে ব্যয় হবে ৫১ কোটি ৭৯ লাখ টাকা।

চীনের জন্য অর্থনৈতিক অঞ্চল সংক্রান্ত প্রকল্পের বিস্তারিত হচ্ছে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত বছরের ৬ থেকে ১১ জুন চীন সফরকালে চীনের প্রধানমন্ত্রী সেদেশের বিনিয়োগকারীদের জন্য চট্টগ্রামে একটি বিশেষ অর্থনৈতিক ও শিল্পাঞ্চল স্থাপনের প্রস্তাব করেন। এ লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় ভূমি সরবরাহের জন্য ইতোমধ্যেই প্রধানমন্ত্রী সম্মতি প্রদান করেছেন। ২০১৪ সালের ৯ জুন বেজা ও চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের মধ্যে চীনা বিনিয়োগকারীদের জন্য বিশেষ অর্থনৈতিক ও শিল্পাঞ্চল স্থাপনের লক্ষ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। সমঝোতা স্মারক মোতাবেক বাংলাদেশ সরকার দীর্ঘমেয়াদী বন্দোবস্তের ভিত্তিতে ভূমি প্রদান করবে এবং চীন সরকার মনোনীত প্রতিষ্ঠান ওই ভূমিতে অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তুলবে। এ অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলার জন্য চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলাকে নির্বাচন করা হয়েছে। গত ১৮ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের গভর্নিং বোর্ডের দ্বিতীয় সভায় সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় যে, জাপানীজ বিনিয়োগকারীদের জন্য নির্ধারিত অর্থনৈতিক অঞ্চল ও চীনা অর্থনৈতিক অঞ্চল ও শিল্প জোনের জমি অধিগ্রহণের জন্য উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) মাধ্যমে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসসূচী (এডিপি) থেকে অর্থায়ন করতে হবে। এজন্য প্রকল্পটি প্রস্তাব করা হয়েছে পরিকল্পনা কমিশনে। প্রকল্পের আওতায় প্রধান কার্যক্রম হচ্ছে, ৭৭৪ দশমিক ২৫০ একর ভূমি অধিগ্রহণ, ৭০০ বর্গফুটের সিকিউরিটি শেড নির্মাণ, ছয়টি সেন্ট্রি/গার্ড পোস্ট নির্মাণ এবং ১০০টি বাউন্ডারি পিলার নির্মাণ করা হবে।

ডাক বিভাগের জন্য গাড়ি ক্রয় সংক্রান্ত প্রকল্পের বিস্তারিত হচ্ছে, বর্তমানে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে ডাক পরিবহন ব্যবস্থায় আমুল পরিবর্তন আনা হচ্ছে। বাড়ানো হবে সড়ক পথের ব্যবহার। এজন্য প্রকল্পটি হাতে নিয়েছে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়। এটি বাস্তবায়িত হলে ডাক পরিবহন ও বিতরণ ব্যবস্থা শক্তিশালীকরণ, বিদ্যমান রেল পরিবহন ও ব্যক্তি খাতে ভাড়ায় ডাক পরিবহনের নির্ভরতা কমানো, বাংলাদেশ ডাক বিভাগের বর্তমান ও ভবিষ্যত আর্থিক সেবাসমুহকে শক্তিশালীকরণ এবং যানবাহনসমূহের বাণিজ্যিক ব্যবহারের মাধ্যমে ডাক অধিদফতরের রাজস্ব আয় বৃদ্ধি পাবে। বাংলাদেশ ডাক বিভাগ শুধুমাত্র ঢাকা-রাজশাহী, খুলনা-বরিশাল এবং খুলনা-সাতক্ষীরা এই তিনটি রুটে সড়ক পথে মাত্র তিনটি যানবাহনের মাধ্যমে নিজস্ব পরিবহন ব্যবস্থায় ডাক পরিবহন করে। ফলে মোটর চুক্তির মাধ্যমে বেসরকারী পরিবহনে ১৮ হাজার ২৬৬ কিলোমিটার পথে দৈনিক ডাক পরিবহন করতে হচ্ছে। অন্যদিকে রেল পথের মাধ্যমে ৪ হাজার ৪৭৬ কিলোমিটার ও স্টিমারের মাধ্যমে ২ হাজার ৪৯৮ কিলোমিটার ডাক পরিবহন করা হলেও তা রেল ও স্টিমারের সময়ের উপর নির্ভরশীল হওয়ায় ডাক বিভাগ ক্রমান্বয়ে গতিহীন হয়ে পড়েছে।

পাশাপাশি কুরিয়ার সার্ভিসগুলো সড়ক পথে নিজস্ব পরিবহন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করে বাজার দখল করে নিচ্ছে। পরিবহন ব্যবস্থায় সনাতন পদ্ধতি থেকে বের হতে না পাড়লে ডাক বিভাগ গ্রাহকদের কাক্সিক্ষত সেবা প্রদানে সক্ষম হচ্ছে না। বর্তমানে সারা বিশ্বে পার্সেল ও লজিস্টিক সার্ভিসের ব্যাপক প্রসার লাভ করেছে। কিন্তু ডাক অধিদফতরের নিজস্ব পরিবহন ব্যবস্থা না থাকায় পার্সেল ও লজিস্টিক সার্ভিস পরিবহন করতে পারছে না। ফলে বেসরকারী কোম্পানিগুলোর সঙ্গে ডাক সেবা প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশ ডাক বিভাগ ক্রমাগত পিছিয়ে পড়ছে। এ কারণে দেশের সাধারণ মানুষকে অতিরিক্ত মাসুল দিয়ে বেসরকারী কুরিয়ারের মাধ্যমে তাদের পণ্য পরিবহন করতে হচ্ছে। কিন্তু ডাক বিভাগের নিজস্ব পরিবহন ব্যবস্থা শক্তিশালী ও আধুনিক হলে গ্রামীণ জনগণের সঙ্গে শহরের জনগণের মধ্যে পণ্য পরিবহনে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে। এসব বিবেচনায় ডাক বিভাগ এ প্রকল্পটি অনুমোদন দেয়া হয়েছে।

প্রকল্পের আওতায় প্রধান কার্যক্রম হচ্ছে, ১১৮টি গাড়ি ক্রয় করা হচ্ছে। এর মধ্যে দেড় টন ক্যাশ ওয়াগন ৩৫টি, এক টনের ওপেন বডি পিক আপ ভ্যান ১০টি, কাভার্ড ভ্যান দেড় টনের ২০টি, কাভার্ড ভ্যান তিন টনের ৩০টি, কাভার্ড ভ্যান পাঁচ টনের ১১টি, কাভার্ড ভ্যান সাত টনের তিনটি এবং বিভিন্ন স্থানে ৩৩টি গ্যারেজ নির্মাণ করা হবে।