১৬ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

লন্ডন গেলেন খালেদা জিয়া

স্টাফ রিপোর্টার ॥ ব্যক্তিগত সফরে লন্ডন গেলেন বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া। মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৯টায় এমিরেটস এয়ার লাইনসের একটি ফ্লাইটে তিনি লন্ডনের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করেন। তাকে বিদায় জানাতে হযরত শাহজালাল (র.) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে জড়ো হয়েছিলেন বিএনপির অনেক নেতাকর্মী। এবার তিনি লন্ডনে বেশ ক’দিন থাকবেন এবং সেখানেই ছেলে তারেক রহমানের বাসায় পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ঈদ উৎসব পালন করবেন। এর আগে ২০১১ সালে লন্ডন সফরে গিয়েছিলেন খালেদা জিয়া।

এর আগে রাত ৮টায় রাজধানীর গুলশানের ৭৯ নম্বর রোডের ১ নম্বর বাসা ‘ফিরোজা’ থেকে বের হয়ে বিমানবন্দরে যান খালেদা জিয়া। এ সময় বেশ ক’জন সিনিয়র নেতা তার সঙ্গে ছিলেন। খালেদা জিয়ার সফরসঙ্গী হিসেবে লন্ডন গেছেন তার ছোট ভাই শামীম এস্কান্দার ও তার স্ত্রী কানিজ ফাতেমা, একান্ত সচিব এবিএম আবদুস সাত্তার ও গৃহকর্মী ফাতেমা আখতার। খালেদা জিয়ার ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রী শার্মিলা রহমান সিঁথি, তার দুই মেয়ে জাহিয়া রহমান ও জাফিয়া রহমানও মালয়েশিয়া থেকে থাইল্যান্ড হয়ে লন্ডনে গেছেন বলে জানা গেছে।

স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য খালেদা জিয়া লন্ডন গেছেন বলে বিএনপির পক্ষ থেকে জানানো হলেও মূলত: ছেলে তারেক রহমান, ছেলে বউ ডা. জোবাইদা রহমান, নাতনি জায়মা রহমান, প্রয়াত ছেলে কোকোর স্ত্রী শর্মিলা রহমান ও তার ২ মেয়ে জাফিয়া রহমান ও জাহিয়া রহমানকে নিয়ে একান্তে কিছুদিন সময় কাটানোর জন্য তিনি ব্যক্তিগত সফরে লন্ডন গেছেন। এ ছাড়া বিএনপির সাংগঠনিক বিষয়ে কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেয়ার ব্যাপারে তিনি দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের মতামত নেবেন বলে জানা গেছে।

খালেদা জিয়ার ছেলে তারেক রহমান সাত বছর ধরে লন্ডনে রয়েছেন। ২০০৮ সালের ৩ সেপ্টেম্বর কারামুক্তির পর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান চিকিৎসা বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে অবস্থান করে মা খালেদা জিয়ার কারামুক্তির দিন ১১ সেপ্টেম্বর তিনি উন্নত চিকিৎসার লন্ডন চলে যান। এর পর থেকে তিনি লন্ডনেই অবস্থান করছেন। তবে গতবছর রোজার মাসে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে সৌদি আরবে হজ করতে গেলে মা খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা হয় তারেক রহমানের। এরপর টানা অবরোধ কর্মসূচী চলাকালে এ বছর ২৪ জানুয়ারি মালয়েশিয়ায় থাকা ছোট ভাই আরাফাত রহমান কোকো মারা গেলে পাসপোর্টের মেয়াদ না থাকায় ভিসার ব্যবস্থা করতে না পাওয়ায় তিনি ভাইয়ের লাশ দেখতে সেখানে যেতে পারেননি। একই কারণে এ বছর রোজার মাসে সৌদি আরবে যাওয়ার জন্যও ভিসা পাননি। আর তারেক রহমান সৌদি আরবের ভিসা না পাওয়ায় খালেদা জিয়াও এবার ওমরাহ করতে যাননি। তাই গত এক বছরে মা খালেদা জিয়ার সঙ্গে তারেক রহমানের দেখা হয়নি। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, লন্ডনে চিকিৎসার পাশাপাশি ছেলে তারেক রহমানসহ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সময় কাটাবেন দলের চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে এবারই প্রথম খালেদা জিয়া দেশের বাইরে ঈদ উৎসব পালন করছেন।

বর্তমানে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলাসহ বেশ ক’টি মামলায় হুলিয়া থাকায় তিনি দেশে আসার চেষ্টা করছেন না। তবে লন্ডনে থেকেই তিনি সেখানকার দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে মাঝেমধ্যেই রাজনৈতিক কর্মসূচী পালন করেন। সেইসঙ্গে ঘনিষ্ঠজনদের মাধ্যমে খোঁজখবর নিয়ে দেশেও কেন্দ্রীয় বিএনপির বিভিন্ন কর্মপরিকল্পনার সঙ্গে জড়িত রয়েছেন।

প্রসঙ্গত: আগস্টে লন্ডন যাওয়ার তোড়জোড় করেও পরে যাননি খালেদা জিয়া। প্রথমে ১৫ আগস্টের আগে ও পরে ওই মাসের শেষ সপ্তায় তার লন্ডন যাওয়ার কথা শোনা যায়। কিন্তু তার না যাওয়া নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে জল্পনা-কল্পনার সৃষ্টি হয়।

এদিকে খালেদা জিয়া লন্ডন যাওয়ায় বিএনপির গুরুত্বপূর্ণ তিনটি পদ চেয়ারপার্সন, সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান ও মহাসচিব পদে থাকা নেতারা বিদেশে অবস্থান করছেন। এতে দলের আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত নেয়ার মতো কোন শীর্ষ নেতা দেশে থাকছেন না। তারপরও খালেদা জিয়ার দীর্ঘ অনুপস্থিতিতে বিএনপির দায়িত্ব পালন করতে সুনির্দিষ্টভাবে কাউকে দায়িত্ব দেয়া হয়নি। তবে অনানুষ্ঠানিকভাবে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, নজরুল ইসলাম, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, যুগ্ম মহাসচিব মোঃ শাহজাহান ও আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ড. আসাদুজ্জামান রিপনকে সমন্বয় করে দল পরিচালনার দায়িত্ব দেয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। আর চিকিৎসা শেষ হলে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম ঈদের আগেই দেশে ফিরে আসতে পারেন।

লন্ডন সফরের আগে রবিবার রাতে গুলশানের নিজ কার্যালয়ে সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া। এ বৈঠকে খালেদা জিয়া তার অনুপস্থিতিতে নেতাদের মিলেমিশে দলের কাজ করার নির্দেশ দেন। এ ছাড়া সারাদেশে তৃণমূল পর্যায়ে দলের কমিটি গঠনের কাজ দ্রুত শেষ করার তাগিদ দেন। তবে কোনভাবেই যেন পকেট কমিটি না করা হয় সে ব্যাপারে সবাইকে সতর্ক করে দেন।

খালেদা জিয়ার এবারের লন্ডন সফর ব্যক্তিগত হলেও যুক্তরাজ্যের ক্ষমতাসীন ও বিরোধী দলের গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের সঙ্গে বৈঠকের চেষ্টা করবেন তিনি। বিশেষ করে বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ এমপি রুশনারা আলী ওই দেশের পররাষ্ট্র দফতরের পদস্থ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন তিনি। এর আগে ২০১১ সালে যুক্তরাজ্য সফরে গিয়ে ওই দেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী গর্ডন ব্রাউন ও বিরোধীদলীয় নেতা এড মিলিব্যান্ডের সঙ্গে সাক্ষাত করেন খালেদা জিয়া। অবশ্য তখন খালেদা জিয়া ছিলেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা। বর্তমানে তিনি সরকার কিংবা বিরোধী দলের কোন পদেই নেই। তাই লন্ডন সফরে গিয়ে আগের মতো সুযোগ-সুবিধা পাবেন কি না তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। তবে বিএনপির কিছু সিনিয়র নেতা কয়েক মাস আগে থেকেই যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন মহলের সঙ্গে যোগাযোগ করে খালেদা জিয়ার সফর ও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সরকারী-বেসরকারী প্রতিনিধিদের সঙ্গে সাক্ষাতের চেষ্টা চালিয়েছেন বলে জানা গেছে।

নির্বাচিত সংবাদ