১৭ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

লাব্বায়েক আল্লাহুম্মা লাব্বায়েক

লাব্বায়েক আল্লাহুম্মা লাব্বায়েক

অধ্যাপক মনিরুল ইসলাম রফিক ॥ লাব্বায়েক আল্লাহুম্মা লাব্বায়েক, লাব্বায়েক লা শারীকা লাকা লাব্বায়েক, ইন্নাল হামদা ওয়া নি’মাতা, লাকা ওয়াল মূলক, লা শারীকা লাকা...।’ এ গগনবিদারী আওয়াজ ধ্বনিতে এখন মুখরিত পবিত্র মক্কা নগরী ও এর আশপাশ এলাকা। কারণ আল্লাহতে মজনু হজ প্রত্যাশী মুমিন মুসলমানরা বিভিন্ন দেশের বর্ডার ক্রস করে ইতোমধ্যেই পৌঁছে গেছেন স্বপ্নের দেশ সৌদি আরবে। অনেকে এখন বিভিন্ন দেশে অপেক্ষমাণ, অনেকে জেদ্দায়, অনেকে মসজিদে হারামে তাওয়াফ সাঈ উপলক্ষে উপরোল্লিখিত দুআ পড়তে পড়তে খোদা তায়ালার দরবারে পৌঁছার স্বীকৃতি জানাচ্ছে, স্বীকার করে নিচ্ছে দুনিয়া ও জীবনের সবকিছুর উর্ধে খোদা তায়ালার মহিমা, তারই ইবাদত বন্দেগীর গুরুত্ব ও শ্রেষ্ঠত্ব, সর্বত্র তারই রাজত্ব ও প্রাধান্য।

জীবন মৃত্যুর মালিক পরওয়ার দিগার আল্লাহ। সম্পদ সম্মানের মালিক তিনি। কিন্তু দুনিয়ার নানা প্রাপ্তির প্রতিযোগিতায় মানুষ ভুলে বসে আল্লাহর সেই দান মহিমা, গোমরাহীতে লিপ্ত হয়, পদচ্যুত হয় সিরাতুল মুস্তাকিম থেকে। তাই রাহমানুর রাহীমের তাগিদ প্রতিনিয়ত হৃদয়ে ঈমান ও কালিমা সতেজ রাখা, সালাত সিয়ামের পাবন্দ হওয়া, যথাসম্ভব দান সাদাকা যাকাত দিয়ে অন্যের হক আদায় করা। এভাবে কোন মানুষ কোন মুমিন হৃদয়ে যখন পাপ তাপের আধিক্য কমিয়ে আলিমুল গায়িব খোদার দিদারে উন্মত্ত হয় তখনই তিনি তার ঘর জিয়ারতের পবিত্র হজ সম্পাদনের ডাক দেন তার বান্দাকে। বান্দা চেতনায় অবচেতনায় বলে উঠে লাব্বায়েক আল্লাহুম্মা লাব্বায়েক। অর্থাৎ প্রভু তুমি আমাকে গোপনে তোমার পানে ছুটে এসে নিষ্কলুষ ও প্রেমময় জীবনের আহ্বান করেছ সে আহ্বানে আমি আজ উন্মত্ততার সাথে হাজির। নিজ দেশের বিমানবন্দর ত্যাগ করার সময় থেকেই এ আকুতি, এ আত্মসমর্পণ। এ আওয়াজ তুলে যখন সর্বপ্রথম আল্লাহর কালো ঘর কাবার দিকে বান্দা তাওয়াফ সায়ীর জন্য ধাবিত হয় তখন অঝোরে ঝরে পড়ে তার দুচোখ বেয়ে অশ্রু। আমিও এখন বাংলাদেশ থেকে প্রায় সাড়ে ৩ হাজার মাইল দূরে পবিত্র মক্কা নগরীতে ইবরাহিমী পোশাকে সুশোভিত মজনু দলের সাথে মিশে আছি। হজ ও উমরা পালনে উৎসুক মুমিন নরনারীর মোহনীয় ইবাদত ও মক্কা মদীনা শরীফের প্রশাসন কী নয়নাভিরাম ব্যবস্থাপনা করে রেখেছে তা চোখে না দেখে অনুভব করা মুশকিল।

এমনিতেই জিলহজ ও পরবর্তী মুহররম মাস মুসলমানদের বার্ষিক ধর্মীয় জীবনাচরণের এক মোহনীয় সময়। জিলহজে একটি বছরের বিদায় আর মুহররমে নয়া বছরে অবগাহন। এ সময় একদিকে আসে পবিত্র মক্কা মদীনা শরীফ কেন্দ্রিক মুসলমানদের হজ ও জিয়ারতের ডাক, অপরদিকে দেশে দেশে সাধারণ মুসলমানদের কুরবানির উৎসব ঈদ-উল-আযহা। বিশেষত: পবিত্র হজ উমরা ও জিয়ারতকে ঘিরে মক্কা মদীনা শরীফ এখন উত্তাল। এ মাসের ৮ তারিখকে ‘ইয়াওমুত তারবিয়া’ বা পানি পানের দিবস বলা হয়। এ দিবসেই হাজীগণ মক্কা থেকে মিনায় গমন করেন। পরদিন ৯ জিলহজ ইয়াওমু আরাফা বা আরাফাতের দিবস। এ দিবসে হাজীগণ মিনা থেকে আরাফাতের মাঠে গমন করেন এবং সারাদিন আরাফাতে অবস্থান করে আল্লাহর যিকর ও দুআয় রত হন। রাতে তারা মুযদালিফায় ফিরে আসেন এবং পরদিন সকালে ১০ জিলহজ মিনায় জামারাতে কঙ্কর নিক্ষেপ, মাথা মু-ন, হজের পশু জবাই বা হাদয়ী ও কুরবানি আদায়, তাওয়াফ-সায়ী ইত্যাদি হজের আহকাম পালন করেন। পরবর্তী ২ বা ৩ দিন তারা মিনাতেই অবস্থান করেন। আল্লাহ পাক হাজীদের মনোবাসনা পূরণ করুন এবং সর্বত্র এ মাসের ফযীলত লাভের ক্ষেত্রে মুসলিম জাতিকে সুমতি দান করুন।