২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

শরত সন্ধ্যায় মঞ্চস্থ ধর্মান্ধতা বিরোধী নাটক ঊর্ণাজাল

  • সংস্কৃতি সংবাদ

স্টাফ রিপোর্টার ॥ উগ্র ধর্মান্ধতার কাছে বিপন্ন হয় মানবতা। পিছিয়ে যায় প্রগতির চাকা। থমকে দাঁড়ায় সমাজ ও রাষ্ট্র। আর এমন উগ্র ধর্মান্ধতার কাহিনীকে উপজীব্য করে নির্মিত নাটক ঊর্ণাজাল। নাট্যদল বাতিঘরের এই প্রযোজনার ভেতর দিয়ে বর্ণিত হয়েছে ধর্মান্ধতাবিরোধী চরিত্রের বয়ান। মঙ্গলবার শরতের সন্ধ্যায় শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালার এক্সপেরিমেন্টাল থিয়েটার হলে মঞ্চস্থ হলো নাটকটি। রচনার পাশাপাশি নাটকটির নির্দেশনা দিয়েছেন বাকার বকুল। নাটকের গল্পে দেখা যায়, বিদেশ থেকে শিক্ষাজীবন শেষ করে নিজ গ্রামে ফেরে খালেদ। দীর্ঘ প্রতীক্ষার প্রহর শেষ হয় গ্রামবাসীর। স্কুলের জন্য রেখে যাওয়া পিতার স্বপ্নের একখ- জমিতে মাদ্রাসা গড়ে তোলে সে। অপরদিকে সাঁইজির আখড়ায় বেড়ে ওঠা গায়েন সয়ফুল খালেদের বাল্যবন্ধু। ধর্মীয় শিক্ষায় শিক্ষিত হতে শিল্পের মনঃসংযোগ থেকে বিচ্ছিন্ন হয় শিল্পী। ঘূণে কাটে একতারাটি। চক্ষুদান করে যাওয়া জয়নাল গাতকের জানাজা পড়ানোর দায়ে ইমামের জিহ্বা কেটে নেয় কে বা কারা। গাতকের কবরে গো দেখে ভীতসন্ত্রস্ত হয় গ্রামবাসী। এই সুযোগে ধর্মীয় মতবাদের আশ্রয়ে ঢুকে পড়ে অপকৌশল-কূটনীতি। কাফের মুরতাদ হত্যার প্রশিক্ষণ চলতে থাকে দূরের জঙ্গলে, জঙ্গী ক্যাম্পে। বেধর্মী তিনজন ডাক্তার হত্যা করতে পুরো হাসপাতাল ধ্বংসের পরিকল্পনা করা হয়। বীভৎসতার চরম রূপ হিসেবে মৃত অন্তঃসত্ত্বা মায়ের পেট চিরে বেরিয়ে আসে মৃত নবজাতক। সমাবেশে গ্রেনেড বিস্ফোরণ ঘটাতে গিয়ে হতাহতের দৃশ্যে হতবিহ্বল মুজাহিদের মৃত্যু হয় পিন পয়েন্ট খোলা নিজের হাতের অন্য গ্রেনেডে। গোপনে বাঁশঝাড়ে দাফন হয় লাশটির। মধ্যরাতে শহীদের লাশ খায় একদল শিয়াল। মুরতাদের চোখ নিয়ে বেঁচে থাকা মুজাহিদ বিভ্রান্ত হয় জিহাদী কর্মে। কৌশলে তার চোখ দুটো উপড়ে ফেলে আমীর। তৃতীয় নয়ন উন্মোচিত হয় মুজাহিদের। এভাবেই অন্ধকারের রেখাযুক্ত ধর্মান্ধতাকে ছাপিয়ে জয়ী হয় মুক্তমনা চিন্তাশীলতার জগত।

প্রযোজনাটি প্রসঙ্গে নির্দেশক বাকার বকুল জানান, গল্পটি তাঁরই জীবনের একটি বিশেষ ঘটনা অবলম্বনে নির্মিত। নিজস্ব সংস্কৃতিকে চিনতে না পারার কারণেই ব্যক্তির অধঃপতন এ নাটকে ঘুরেফিরে এসেছে। বর্তমান সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে নাটকটি বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। ধর্মীয় অন্ধত্বের চর্চা ক্ষুদ্র থেকে বড় হতে হতে কালের পথ পরিক্রমায় ভয়ঙ্কর দানবরূপে ভর করেছে বাঙালীর ওপর। বাঙালী সংস্কৃতির বিপরীতমুখী সেই উগ্র ধর্মান্ধতার চিত্র তুলে ধরা হয়েছে নাটকের গল্পের। নাটকের মাধ্যমে জানানো হয়েছে ধর্মান্ধতাবিরোধী প্রতিবাদ।

নাটকটির বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন মুক্ত নীল, সজীব তানভীর, রবিউল ইসলাম, সৈয়দ মাসুম রেজা, ইন্দ্রানী ঘটক, সাদিয়া ইউসুফ, সায়মা করিম, সঞ্জয় হালদার, ফিরোজ মুনীর, শিশির সরকার, তানবীর লিমন প্রমুখ।

মওলানা ভাসানীর জীবনভিত্তিক গ্রন্থের প্রকাশনা

প্রকাশিত হলো মজলুম জননেতা মওলানা ভাসানীর জীবনভিত্তিক একটি গ্রন্থ। ড. আনিসুজ্জামান চৌধুরী সম্পাদিত বইটির শিরোনাম ‘মওলানা ভাসানী : লিডার অব দ্য টয়লিং ম্যাসেজ’। বইটি যৌথভাবে প্রকাশ করেছে মওলানা ভাসানী ফাউন্ডেশন নিউইয়র্ক এসএ ও এ্যাডর্ন পাবলিকেশন। মঙ্গলবার বিকেলে জাতীয় প্রেসক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে গ্রন্থটির প্রকাশনা উৎসব অনুষ্ঠিত হয়।

প্রকাশনা অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন এমেরিটাস অধ্যাপক ড. সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী। অতিথি হিসেবে আলোচনায় অংশ নেন ডাঃ জাফরুল্লাহ চৌধুরী, সাংবাদিক মাহফুজ উল্লাহ, সাংবাদিক নুরুল কবির, ফাউন্ডেশনের সভাপতি দেওয়ান শামসুল আরেফীন প্রমুখ।