১৯ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

সংঘাত-সহযোগিতার পথে চলছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান

  • পরমাণু চুক্তিকে সুসম্পর্ক প্রতিষ্ঠার পথ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা

অশান্ত আনবার প্রদেশে ইরাকী নিরাপত্তা বাহিনীকে পরামর্শদানকারী আমেরিকান সৈন্যরা অদ্ভুত বন্ধনে আবদ্ধ লোকজনের সঙ্গে একটি ঘাঁটি শেয়ার করছে : তারা হলো ইরান সমর্থিত একটি মিলিশিয়া বাহিনী, যারা এক সময় মার্কিন সেন্যদের হত্যা করেছে। উভয় পক্ষই ইসলামিক স্টেটের (আইএস) জঙ্গীদের বিরুদ্ধে লড়াই করছে। যদিও রাজধানী বাগদাদে তেহরান এবং ওয়াশিংটনের অবস্থান বিপরীতমুখী। যুক্তরাষ্ট্র শিয়া আধিপত্যের ইরাক সরকারের প্রতি আইএসের বিরুদ্ধে সংখ্যালঘু সুন্নী সম্প্রদায়ের আরও সদস্যের অন্তর্ভুক্তির আহ্বান জানিয়ে আসছে। শিয়া নেতৃত্বাধীন ইরান ও তার প্রক্রিয়া এই প্রয়াসকে ব্যর্থ করে দিতে চাচ্ছে। খবর নিউইয়র্ক টাইমসের।

এই বৈপরীত্যের চিত্রে ইরাকের মতো জায়গায় যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের মধ্যে সম্পর্কের জটিলতাবোধ তুলে ধরে, যেখানে দুই প্রতিদ্বন্দ্বীর স্বার্থের সংঘাত এবং সংযোগ দুটোই ঘটেছে। তখন ইরানের পরমাণু কর্মসূচীকে সীমিত করার একটি চুক্তি গত সপ্তাহে মার্কিন কংগ্রেসে বড় ধরনের বাধা অতিক্রম করতে সক্ষম হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রকে আন্তর্জাতিক বৈধতা ও অর্থনৈতিক অবরোধ থেকে স্বস্তি লাভের মধ্য দিয়ে নতুন সামর্থ্যরে অধিকারী ইরানের সঙ্গে একটি অবশ্য জটিল হয়ে পড়া আধুনিক গোলকধাঁধার মধ্যে সঠিকভাবে পথ চলতে হবে। অধিকন্তু এরকম ইঙ্গিতও পাওয়া গেছে যে, পররমাণু আলোচনাকে কেন্দ্র করে দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগ ইরাক ও আফগানিস্তানে সীমিত সহযোগিতার আরও ক্ষেত্র যেমন সৃষ্টি করছে তেমনি ইয়েমেনে এই সহযোগিতা হচ্ছে আরও নিম্ন মাত্রায়, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।

সমালোচকরা বলছেন, পরমাণু চুক্তি শুধু ইরানকে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের বিরুদ্ধে তার অগণন প্রক্সি প্রচারণা বাড়িয়ে দিতে আরও সাহসী করে তুলবে। যেমন ইসরাইলের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে হেজবুল্লাহ ও হামাসকে অস্ত্রসজ্জিত করা, সিরিয়ার আসাদকে রক্ষায় ইরানী সৈন্য মোতায়েন করা, ইয়েমেনে হুতি বিদ্রোহীদের কিংবা অন্যান্য পারস্য উপসাগরীয় দেশের আরও রহস্যময় জঙ্গীদের সমর্থন প্রদান এবং লেবাননের রাজনীতিকে ইরানের স্বার্থের সঙ্গে জিম্মি করে ফেলা। ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু অভিযোগ করেছেন, এই চুক্তি তাঁর দেশের সর্ব প্রথম শত্রুকে ঐশ্বর্যশালী করে তুলবে। পারস্য উপসাগরের সুন্নী নেতৃত্বাধীন রাজতন্ত্রগুলোতে আমেরিকান মিত্ররা সিরিয়া ও ইরাকে অব্যাহত যুদ্ধের মতো ওই অঞ্চলজুড়ে ব্যাপক সাম্প্রদায়িক সংঘাত সম্পর্কে সতর্ক করে দিয়েছেন।

তবে, যদিও যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরান প্রত্যেকে ঘনিষ্ঠতর সম্পর্কের বিরুদ্ধে অভ্যন্তরীণ চাপের সম্মুখীন হচ্ছে, তবু কিছু বিশ্লেষক পরমাণু চুক্তিকে সফলকারী আলোচনার অবশ্যম্ভাবী যদিও অস্বস্তিকর ফলাফলকে অধিক সহযোগিতামূলক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা হিসেবে দেখছেন উপভয়ক্ষের নেতৃবৃন্দের এ ধরনের জেদ সত্ত্বেও যে, আমেরিকার মধ্যস্থতায় সম্পাদিত চুক্তি কেবল ইরানের পরমাণু কর্মসূচীতেই সীমিত থাকবে।