২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

পুঁজিবাজারের স্বার্থে যে কোন পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত কমিশন

অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ পুঁজিবাজারের উন্নয়ন ও বিনিয়োগকারীদের স্বার্থে যে কোন পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ এ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি)। সোমবার বিকেলে রাজধানীর পূর্বানী হোটেলে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ট্রেক হোল্ডারদের নিয়ে আয়োজিত এক সিম্পোজিয়ামে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন সংস্থাটির চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এম খায়রুল হোসেন।

এম খায়রুল হোসেন বলেন, দেশের পুঁজিবাজার উন্নয়নে একটা দৃশ্যমান পরিবর্তন আসুক এটা সবাই চায়। তবে অনুঘটক হিসেবে কেউ এগিয়ে আসে না। তিনি আরও বলেন, পুঁজিবাজার উন্নয়নে ৫টি জিনিসের উপস্থিতি থাকতে হবে। এগুলো হলো- শক্তিশালী আইন-কানুনের উপস্থিতি, দক্ষ জনবল, স্টেক হোল্ডার, তথ্য-প্রযুক্তি ও আস্থা। বিএসইসি এই লক্ষ্যকে সামনে রেখে পরিবর্তন সাধনের চেষ্টা করছে বলে জানান তিনি। তিনি ট্রেক হোল্ডারদের উদ্দেশে বলেন, পুঁজিবাজারে ডিমিউচুয়ালাইজেশন এত সহজে আসেনি। এটা সম্ভব হয়েছে সবাই মিলে কাজ করার কারণে। বাংলাদেশের পুঁজিবাজার নিয়ে বিদেশী বিনিয়োগকারীদের এখন ইতিবাচক ধারণা তৈরি হয়েছে। পুঁজিবাজারে নতুন নতুন পণ্যের বিষয়ে তিনি বলেন, বাজারে নতুন কোন পণ্য বা প্রোডাক্ট চালু করার আগে সচেতনতার জন্য অন্তত ৬ মাস প্রচারণা চালানো হবে। নতুন প্রোডাক্ট চালু হলে আগামীতে বাজার আরও স্থিতিশীল হবে বলে মনে করেন তিনি।

বিএসইসির কমিশনার অধ্যাপক হেলাল উদ্দিন নিজামী বলেন, পুঁজিবাজারে আস্থার সংকট আছে বলে মনে হয় না। তবে যেটুকু সংকট রয়েছে তা বিনিয়োগকারীদের নিজস্ব সৃষ্টি বলে মনে করেন তিনি। তিনি বলেন, এই বাজারে কার ভূমিকা কতটুকু তা পরিষ্কার থাকা উচিত। বিশেষ করে ট্রেক হোল্ডারদের দায়িত্ব পরিষ্কার থাকতে হবে। সেটা না থাকলে আস্থার সংকট বেড়ে যাবে। যত বেশি সচেতনতামূলক প্রোগ্রাম হাতে নেয়া যাবে; তত আস্থার সংকট দূর হবে।

ডিএসই চেয়ারম্যান ও সাবেক বিচারপতি সিদ্দিকুর রহমান মিয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সিম্পোজিয়ামে বিএসইসির মুখপাত্র মোঃ সাইফুর রহমান ও ডিএসইর ব্যবস্থাপনা পরিচালক স্বপন কুমার বালা পৃথক পৃথক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। এ সময় ডিএসইর পরিচালকবৃন্দ, ব্রোকারেজ এ্যাসোসিয়েশন ও ট্রেক হোল্ডাররা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানের শুরুতে ডিএসই’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. স্বপন কুমার বালা পুঁজিবাজারের উন্নয়নে ডিএসই’র নেয়া পদক্ষেপগুলো তুলে ধরেন। তিনি বলেন, আগামী মাসের শেষ দিকে মোবাইল এ্যাপলিকেশনের মাধ্যমে লেনদেন চালু করা হবে। এছাড়া জুলাই ২০১৬ এর মধ্যে এক্সচেঞ্জ ট্রেডেট ফান্ড (ইটিএফ) ও ট্রেজারি বন্ড, ডিসেম্বর ২০১৬ এর মধ্যে সুকুকসের কার্যক্রম শুরু করা হবে। স্বপন কুমার বালা বলেন, ফরেন ডিভিপি এর ক্ষেত্রে কাস্টডিয়ান চার্জ কমাতে আমরা সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করেছি। আর বিদেশীরা যাতে অনলাইনের মাধ্যমে টাকা পরিশোধ করতে পারে সে জন্য আগামী মাসে অনলাইন পেমেন্ট সিস্টেম চালু করা হবে। এদিকে পুঁজিবাজারের উন্নয়নে বিএসইসি’র নেয়া পদক্ষেপগুলো নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মোঃ সাইফুর রহমান উপস্থাপন করেন। তিনি বলেন, ধস পরবর্তী সময়ে পুঁজিবাজারের উন্নয়নে বিএসইসি নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করে গেছে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে স্পেশাল ট্রাইব্যুনাল গঠন করা সম্ভব হয়েছে। এছাড়া আমাদের উন্নত সার্ভেইল্যান্স সফটওয়্যার স্থাপনের ফলে বাজারের প্রতি বিএসইসি’র স্বচ্ছ নজরদারি বেড়েছে।