১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

সেঞ্চুরির অপেক্ষায় লিওনেল মেসি

সেঞ্চুরির অপেক্ষায় লিওনেল মেসি

স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ গৌরবময় অনেক রেকর্ড পদতলে ফেলেছেন লিওনেল মেসি। বছরের পর বছর আপন মহিমায় পায়ের জাদু দেখিয়ে চলেছেন বার্সিলোনার আর্জেন্টাইন সুপারস্টার। আজ রাতে উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লীগের ম্যাচেও ক্ষুদে জাদুকরকে হাতছানি দিচ্ছে গৌরবময় অর্জন। ইতালিয়ান ক্লাব এএস রোমার বিপক্ষে মাঠে নামলেই ইউরোপ সেরার লড়াইয়ে ১০০ ম্যাচ খেলার গৌরব অর্জন করবেন সাবেক রেকর্ড টানা চারবারের ফিফা সেরা ফুটবলার।

রোমের স্টাডিও অলিম্পিকো এখন মেসির এই মাইলফলকের অপেক্ষায় প্রহরগুনছে। গত মৌসুমের ফাইনাল ম্যাচের মধ্য দিয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লীগে ৯৯ ম্যাচ খেলেন মেসি। ২০০৪ সাল থেকে ইউরোপীয় ক্লাব ফুটবলের শ্রেষ্ঠত্বের আসরে খেলছেন তিনি। এ পর্যন্ত ৯৯ ম্যাচে করেছেন ৭৭ গোল। শিরোপা জয়ের স্বাদ পেয়েছেন চারবার। ২০০৪ সালের ডিসেম্বরে ইউক্রেনের ক্লাব শাখতার ডোনেস্কের বিপক্ষে চ্যাম্পিয়ন্স লীগে অভিষেক ম্যাচ খেলেন মেসি। এরপর তাকে আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। একে একে টুর্নমেন্টটির ১১টি আসরে অংশ নেন। অভিষেকের প্রায় এক বছর পর চ্যাম্পিয়ন্স লীগে প্রথম গোল পান মেসি। ২০০৫ সালের নবেম্বরে প্যানাথিনাকোসের বিপক্ষে বার্সার গ্রুপ ম্যাচে ৫-০ ব্যবধানে জয়ের ম্যাচে গোল করেন মেসি। সেবার চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরবও অর্জন করে স্প্যানিশ ক্লাবটি। পেপ গার্ডিওলার অধীনে ২০০৮-০৯ মৌসুমে মেসি ১২ ম্যাচে নয় গোল করে বার্সাকে আবারও চ্যাম্পিয়নের মুকুট পরান। সেবার রোমের স্টাডিও অলিম্পিকোতে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের বিপক্ষে ফাইনালে জয় পায় বার্সা। ফাইনালে অসাধারণ একটি গোলও করেন মেসি। মজার বিষয় হচ্ছে নিজের ১০০তম ম্যাচও সেই মাঠেই খেলতে যাচ্ছেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। ইউরোপ সেরার এই আসরটিতে সর্বোচ্চ ১৫১টি ম্যাচ খেলেছেন বার্সিলোনা থেকে অবসর নেয়া জ্যাভিয়ার হার্নান্দেজ। এক ম্যাচ কম খেলে দ্বিতীয় স্থানে আছেন সাবেক রিয়াল মাদ্রিদ তারকা ইকার ক্যাসিয়াস। তিনি রিয়ালের হয়ে ১৫০ ম্যাচ খেলেছেন। তবে পর্তুগীজ ক্লাব পোর্তোতে এ মৌসুমে যোগ দেয়ায় আরও ম্যাচ খেলার সম্ভাবনা আছে ক্যাসিয়াসের। রিয়াল ও শালকে জিরো ফোরের হয়ে ১৪২ ম্যাচ খেলে তৃতীয়স্থানে আছেন স্পেনের কিংবদন্তি ফুটবলার রাউল গঞ্জালেস। আর বর্তমান ফুটবলে মেসির সবচেয়ে বড় প্রতিদ্বন্দ্বী ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ও রিয়ালের হয়ে এখন পর্যন্ত ১১৫টি চ্যাম্পিয়ন্স লীগ ম্যাচ খেলেছেন। এ টুর্নামেন্টে সর্বাধিক ম্যাচ খেলার দিক দিয়ে শীর্ষ দশে নেই মেসি। তবে তাতে কি! মেসি ঠিকই আসরটির ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলের মালিক। রোনাল্ডো ও তার গোলসংখ্যা ৭৭টি করে। মঙ্গলবার রাতে সি আর সেভেন গোল পেলে অবশ্য মেসিকে ছাড়িয়ে যাবেন। তবে পর্তুগীজ তারকাকে ছাড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে পাবেন মেসিও। গত মৌসুমে চ্যাম্পিয়ন্স লীগের ফাইনালের আগে দারুণ এক সম্মানে ভূষিত হন তিনি। চ্যাম্পিয়ন্স লীগের অন্যতম স্পন্সর মাস্টার কার্ডের আয়োজনে করা ভোটে আসরটির সর্বকারের সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হন তিনি। এক্ষেত্রে মেসি পেছনে ফেলেন জিনেদিন জিদান ও ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোকে। ফাইনালের আগে সেরা নির্বাচনে ভোটাভুটির আয়োজন করে মাস্টার কার্ড কর্তৃপক্ষ। এতে ভোট প্রদান করেন ইউরোপের ফুটবল ভক্তরা। ভোটাভুটিতে সেরা মেসি পান ২৭ শতাংশ ভোট। রিয়াল মাদ্রিদ ও জুভেন্টাসের সাবেক তারকা জিদান ১২ শতাংশ ভোট পেয়ে দ্বিতীয় ও রোনাল্ডো ১১ শতাংশ ভোট পেয়ে তৃতীয় হন।

ফাইনাল জিতে ইতিহাসের অংশীদার হন মেসি, লাভ করেন অমরত্ব। বার্লিনে গোল করতে পারলে প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে তিনটি চ্যাম্পিয়ন্স লীগ ফাইনালে গোল করার কৃতিত্বও দেখাতেন তিনি। কিন্তু সেটা সম্ভব হয়নি। অনেক দিন ধরেই চ্যাম্পিয়ন্স লীগের ইতিহাসে গোলদাতাদের তালিকার শীর্ষস্থানটি মেসি ও রোনাল্ডোর মধ্যে অদলবদল হচ্ছে। মঙ্গলবারের আগ পর্যন্ত ৭৭ গোল করে দু’জনই আছেন এক কাতারে।