২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

স্মিথকে মার্শের উপহার!

  • মোঃ নুরুজ্জামান

এ্যাশেজ হারে বিধ্বস্ত অস্ট্রেলিয়া। ব্যর্থতার দায় মাথায় নিয়ে অবসরে অধিনায়ক মাইকেল ক্লার্ক। তার সঙ্গী শেন ওয়াটসন-ব্র্যাড হ্যাডিনের মতো তারকা। ইনজুরিতে ডেভিড ওয়ার্নার। মাতলামি করে দ- ভোগ করছেন তুখোড় অলরাউন্ডার জেমস ফকনার। কি কঠিন পরিস্থিতিতেই না ওয়ানডে সিরিজটা শুরু করেছিরেন স্টিভেন স্মিথ। পূর্ণাঙ্গ নেতৃত্ব পাওয়ার পর এটি আবার তার প্রথম পরীক্ষা! সব মিলিয়ে শঙ্কা ছিল বিশ্বকাপের পরের দ্বৈরথেই না ভরাডুবি হয় বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের। প্রথম দুই ম্যাচের টানা জয়ে বুঝিয়ে দিলেন অসিরা যে কোন পরিস্থিতে ঘুরে দাঁড়াতে জানে। কিন্তু পরের দুটিতেই হার! পঞ্চম ও শেষ ওয়ানডেটি হয়ে উঠল অঘোষিত ফাইনাল। যেখানে স্বাগতিক ইংল্যান্ডকে এক প্রকার উড়িয়ে দিয়ে ৮ উইকেটের জয়, সঙ্গে ৩-২এ সিরিজ। ফকনারের অভাব বুঝতে না দিয়ে ব্যাটে-বলে জ্বলে উঠলেন মার্শ, হলেন সিরিজসেরা। তরুণ অধিনায়ককে জীবনের প্রথম মিশনেই দারুণ এক সাফল্য উপহার দিলেন আরেক তরুণ মিচেল মার্শ।

পাঁচ ম্যাচে দ্বিতীয় সর্বাধিক ৮ উইকেট নেয়ার পাশাপাশি ৪৫ গড়ে করেছেন ১৩৪ রান। তার চেয়ে বড় কি ব্যাটিং, কি বোলিং- গুরুত্বপূর্ণ সময়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজটাই করে দিয়েছেন ২৩ বছর বয়সী এ্যাডিলেড অলরাউন্ডার। ফাইনালসম শেষ ম্যাচেও মার্শ-ভেল্কি অব্যাহত ছিল। ইংলিশদের ১৩৮ রানে গুঁড়িয়ে দিয়ে জয়ের পথে অনেকদূর এগিয়ে দেন বোলাররা। যেখানে ৬ ওভারে ২৭ রান দিয়ে সর্বোচ্চ ৪ উইকেট নেন মার্শ। স্মিথদের সাফল্যে ওল্ডট্র্যাফোর্ডের পঞ্চম ওয়ানডেতে বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের মতোই নৈপুণ্য প্রদর্শন করে অসিরা। টস জিতে ব্যাটিং নিয়ে অসি-বোলিং তোপের মুখে পড়ে ইংলিশরা। এক ম্যাচের বিশ্রাম শেষে বড় তারকা মিচেল স্টার্ক ফিরলেও এদিন বল হাতে তা-ব চালান জন হেস্টিংস আর মিচেল মার্শ। মূলত এই দুজনের গতির সামনে বালুর বাঁধের মতো ভেঙে পড়ে স্বাগতিকদের ব্যাটিং-লাইন। ৪ রান করা জেসন রয়কে ফিরিয়ে ধ্বসের সূচনা করেন স্টার্ক। দলীয় ১৩ রানের মাথায় অপর ওপেনার এ্যালেক্স হেলেসকে তুলে নেন হেস্টিংস। ব্যক্তিগত ৪ গ্লেন ম্যাক্সওয়েলের হাতে ক্যাচ তুলে দেন তিনি।

নিজের পরবর্তী ওভারেই ১২ রান করা জেমস টেইলরকে উইকেটের পেছনে ম্যাথু ওয়েডের হাতে ক্যাচ বানিয়ে ফেরান হেস্টিংস। ষষ্ঠ ওভারে দলীয় ২২ রানে তৃতীয় উইকেট হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়ে ইংল্যান্ড। অবস্থাটা মারাত্মক পরিস্থিতে রূপ নেয় যখন স্টার্কের বল সরাসরি ইয়ন মরগানের হেলমেটে আঘাত করে। ‘রিটায়ার্ট হার্ট’ হয়ে প্যাভিলিয়নে ফিরতে বাধ্য হন ফর্মের তুঙ্গে থাকা অধিনায়ক। যিনি আগের দুই ম্যাচ জিতে সিরিজ বাঁচিয়ে রাখতে সাহায্য করেছিরেন। চতুর্থ ওয়ানডেতে হয়েছিলেন ম্যাচসেরা। একপ্রান্তে আশা জাগিয়ে রাখেন বেন স্টোকস। জনি বেয়ারস্টো তার সঙ্গে যোগ দিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত দিচ্ছিলেন। কিন্তু সে প্রচেষ্টা দীর্ঘ হয়নি। চতুর্থ উইকেটে ৬.৪ ওভারে সর্বোচ্চ ৩৪ রান করেন তারা। ১০ রান করা বেয়ারস্টোকে এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলে অপর প্রান্তে ধ্বসংযজ্ঞের শুরু করেন মিচেল মার্শ। ৫৬ রানে চতুর্থ উইকেট হারায় ইংলিশরা (মরগানের দুর্ঘটনায় কার্যত যা পঞ্চম)! ইংল্যান্ড আর মাথা তুলে দাঁড়াতে পারেনি।

মঈন আলি ৫ ও ডেভিড উইলিও মার্শের শিকারে পরিণত হলে দলীয় ৮৫ রানেই ষষ্ঠ উইকেট হরায় স্বাগতিকরা। সর্বোচ্চ ৪২ রান করা স্টোকসও এই অসি পেসারের বলে এলবিডব্লিউ হলে সেটি সপ্তম হতে সময় লাগেনি। শেষ দিকে দলকে আরও বড় লজ্জার হাত থেকে রক্ষা করেন আদিল রশিদ। নয় নম্বরে নেমে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ অপরাজিত ৩৫ রান করেন তিনি। ৩৩ ওভারে ১৩৮ রানে অলআউট হয় ইংল্যান্ড। জবাবে ২৪.২ ওভারে ২ উইকেট হারিয়ে লক্ষ্যে পৌঁছে যায় অস্ট্রেলিয়া। অধিনায়ক স্টিভেন স্মিথ ১২ ও ওপেনার জো বার্নস ০ রানে আউট হলেও এ্যারন ফিঞ্চ ৭০ এবং জর্জ বেইলি ৪১ রানে অপরাজিত থেকে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়েন। অদম্য অস্ট্রেলীয় মানসিকতার কাছে পাত্তাই পায়নি বদলে যাওয়া ইংল্যান্ড! এ্যাশেজ হারের ক্ষতে সান্ত¡নার প্রলেপের পাশাপাশি এ সাফল্য বাংলাদেশ সফরে স্মিথদের বাড়তি আত্মবিশ্বাস যোগাবে। তার আগে প্রথমেই টানা দুই জয়ে সিরিজে ২-০তে এগিয়ে যায় অতিথি অসিরা। সিরিজ বাঁচিয়ে রাখতে ইংলিশদের জন্য তৃতীয় ওয়ানডেটি হয়ে ওঠে ‘ডু অর ডাই’। কারণ দুটি ম্যাচেই পাত্তা পায়নি স্বাগতিকরা।

সাউদাম্পটনের প্রথম ওয়ানডেতে ৫৯ ও লর্ডসে বেন স্টোকসের অনাকাক্সিক্ষত আউট ঘিরে বিতর্কের দ্বিতীয় ম্যাচে ৬৪ রানের বড় ব্যবধানে হারে ইংল্যান্ড। প্রতাপের সঙ্গে এ্যাশেজ টেস্ট জিতে শুরু করলেও বাংলাদেশের কাছে হেরে বিশ্বকাপের প্রথম রাউন্ড থেকে বিদায় নেয়া মরগান-বাহিনী রঙিন পোশাকে কঠিন পরীক্ষার সামনে পড়ে। ঠিক সেই অবস্থায়ই ঘুরে দাঁড়ায় তারা। জেমস টেইলরের দারুণ এক সেঞ্চুরির ওপর ভর করে তৃতীয় ওয়ানডেতে ৯৩ রানের বড় জয় পায় স্বাগতিকরা। সিরিজ বাঁচিয়ে রাখার ম্যাচে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৮ উইকেটে ৩০০ রান সংগ্রহ করে টস জিতে ব্যাটিং নেয় ইংলিশরা। জবাবে ৪৪ ওভারে ২০৭ রানে অলআউট হয় বিশ্বচ্যাম্পিয়ন অস্ট্রেলিয়া। ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরির সৌজন্যে ম্যাচসেরা হন টেইলর। পরের ম্যাচেও সে ধারা বজায় থাকে। টানা দুই জয়ে সিরিজে ২-২এ সমতা আনে ইংলিশরা। চতুর্থ ওয়ানডেতে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ৩ উইকেটের জয় তুলে নেয় ইয়ন মরগানের দল।

লিডসের প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ সেই ম্যাচে আগে ব্যাট করে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৭ উইকেটে ২৯৯ রানের চ্যালেঞ্জিং স্কোর গড়ে অস্ট্রেলিয়া। জবাবে কোন সেঞ্চুরি না এলেও ব্যাটসম্যানদের সমন্বিত প্রচেষ্টায় ৪৮.২ ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে লক্ষ্যে পৌঁছে যায় ইংল্যান্ড। ৯২ রানের দৃষ্টিনন্দন ইনিংস খেলে ম্যাচসেরা হন মরগান। ঘুরে দাঁড়ালেও শেষ রক্ষা হয়নি। লিডসের সিরিজ নির্ধারণী শেষ ম্যাচে প্রতিপক্ষ পেসার মিচেল স্টার্কের বাউন্সারে আঘাত পেয়ে মাঠ ছাড়েন ফর্মের তুঙ্গে থাকা ইংলিশ সেনাপতি। চূড়ান্ত লড়াইয়ে দলও হারে বড় ব্যবধানে। অন্যদিকে এ্যাশেজ হারের বদল নিয়ে মান রক্ষা করে ওয়ানডের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন অস্ট্রেলিয়া।