২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

মতবিনিময়ে বক্তারা সিডও সনদ পূর্ণ বাস্তবায়ন করতে হবে

স্টাফ রিপোর্টার ॥ নারীর অধিকার নিশ্চিত করতে গণমাধ্যম অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক ও সহায়ক শক্তি। গণতন্ত্রের ৪র্থ স্তম্ভ হিসেবে কাজ করছে গণমাধ্যম। যখন গণতন্ত্রের প্রক্রিয়ার ভেতর নানা চড়াই উৎরাই ঘটছে, তখন সমাজ বিকাশের ধারায় নারীরা তাদের কাজের মধ্য দিয়ে দৃশ্যমান হচ্ছে। নারী পরিবর্তন ও উন্নয়নের বাহক। নারীর এই বিকাশে সিডও সনদের একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। কিন্তু সিডও সনদের ২নং ধারা, যেটি বাংলাদেশের সংবিধানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ, সেটি অনুমোদন করা হচ্ছে না। এই সংরক্ষণ বাতিল করে সিডওর পূর্ণ বাস্তবায়ন দাবি করেন বক্তারা।

মঙ্গলবার বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের প্রচার ও গণমাধ্যম উপ-পরিষদের উদ্যোগে সিডও সনদ পূর্ণ অনুমোদন ও বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেগুনবাগিচার সুফিয়া কামাল ভবন মিলনায়তনে সভায় সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি আয়শা খানম।

সভাপতির বক্তব্যে আয়শা খানম বলেন, নারীর প্রতি বিরাজমান সকল প্রকার বৈষম্য বিলোপের সনদ হচ্ছে সিডও সনদ। এই সনদে ১৮৯ দেশ স্বাক্ষর করেছে। বিভিন্ন দেশের সামাজিক, রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে পরবর্তীকালে ২০০০ সালে অপসনাল প্রটোকল দেয়া হয়। এর ৯টি কনভেনশন নারীর মানবাধিকারকে চিহ্নিত করেছে। তিনি বলেন, সরকার একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য কাজ করে, কিন্তু রাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে ধারাবাহিকভাবে কাজ করে। ধর্ম-বর্ণ-গোত্র-গোষ্ঠী নির্বিশেষে সকল মানুষ নারী, শিশু, দলিত, আদিবাসী সকল মানুষ সমতার সুযোগ পাচ্ছে কি না সেটা দেখা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। কিন্তু বাংলাদেশের নারীরা নানাভাবে বৈষম্যের শিকার। রাজনৈতিকভাবে সংসদে নারী বৈষম্যের শিকার।

সভায় প্রচার ও গণমাধ্যম সম্পাদক দিল মনোয়ারা মনু বলেন, বাংলাদেশে নারী-পুরুষ বৈষম্য, নারীর শোষণ ও নির্যাতনের হার ও মাত্রা এতই অধিক যে, নারীর ক্ষমতায়নের জন্য বিশেষ ব্যবস্থাসহ সিডও দলিল একটি কার্যকর কৌশল হিসেবে উল্লেখ্যযোগ্য অবদান রাখবে। এজন্য সিডও দলিলের ব্যাপক প্রচার এবং এর ধারাগুলোর ব্যাখ্যা সম্বন্ধে সচেতনতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে আমাদের গণমাধ্যমের একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। ঢাকা সাব এডিটরস কাউন্সিলের আবুল কালাম আজাদ, ডেসটিনি পত্রিকার মামুন, সকালের খবরের সোহরাব শান্ত, জনকন্ঠের আনোয়ার রোজেনসহ উপস্থিত সাংবাদিকবৃন্দ মুক্ত আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন।

মুক্ত আলোচনায় সাংবাদিকবৃন্দ বলেন, শব্দ নির্বাচনে আমাদের সকলকে সচেতনভাবে জেন্ডার সংবেদনশীল হওয়া প্রয়োজন। তারা সিডও সনদ বাস্তবায়নে সকল নারীকে সক্রিয় আন্দোলন করার আহ্বান জানান। সাংবাদিকবৃন্দ মেয়েদের বিয়ের ন্যূনতম বয়স ১৮ বহাল রাখার দাবিও জানান।