১১ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

অর্থনৈতিক কূটনীতিকে জোরদার করতে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ

অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তির বাইরেও বহুপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তিতে বাংলাদেশকে অন্তর্ভূক্ত হতে ‘অর্থনৈতিক কূটনীতিকে’ জোরদার করার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

এসব চুক্তিতে নিজেদের স্বার্থ সংরক্ষণ করতে নেগোসিয়েশনের সক্ষমতা বাড়াতে হবে। এছাড়া শ্রম অধিকার রক্ষা, পরিবেশ সংরক্ষণ, মেধাস্বত্ব আইনের প্রয়োগ, সুশাসনের নিশ্চয়তাসহ আন্তর্জাতিক মান ও চাহিদাকে গুরুত্ব দিতে হবে বলে মত দেন তাঁরা।

বুধবার রাজধানীর ইস্কাটনে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাটেজিক স্টাডিজ আয়োজিত এক সেমিনারে তারা এমন মতামত দেন।

‘বাংলাদেশ এন্ড দ্য এমার্জিং প্লুরিলেটেরাল ট্রেডিং অ্যারেঞ্জমেন্ট’ শীর্ষক ওই সেমিনারে সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিব, কূটনীতিক ও অর্থনীতিবিদরা অংশ নেন।

বহুপক্ষীয় বাণিজ্য চুক্তির অংশ হিসেবে বক্তারা যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে ১২ দেশের সমন্বয়ে টিপিপি (ট্রান্স প্যাসিফিক পার্টনারশিপ) প্রসঙ্গ তোলেন। এই চুক্তির ফলে চুক্তির আওতায় থাকা দেশগুলো আমদানি রফতানিতে শুল্ক ও কোটামুক্ত সুবিধা পাবে।

এই চুক্তির বাস্তবায়ন হলে বাংলাদেশের প্রধান রফতানি পণ্য পোশাক শিল্প, চামড়াজাত পন্য ও ওষুধ রফতানি হুমকির মুখে পড়তে পারে বলে আশংকা প্রকাশ করেন তারা। বিশেষত গার্মেন্টসের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ভিয়েতনাম টিপিপিতে থাকায় তারা যুক্তরাষ্ট্র, কানাডার বাজারে শুল্কমুক্ত রফতানি সুবিধা পাবে। অন্যদিকে বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে প্রায় ১৬ শতাংশ শুল্ক পরিশোধ করতে হয়। এর ফলে পোশাক রফতানি ঝুঁকির মুখে পড়বে। এ চুক্তিতে অন্তর্ভূক্ত হতে হলে কিছু শর্ত মানতে হয় যা বাংলাদেশ এখনো পারেনি।

অবশ্য আলোচনায় অংশ নিয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মনোজ কুমার রায় বলেন, টিপিপি হলে আমাদের বাজারও খুলে দিতে হবে। সেক্ষেত্রে দেশীয় শিল্প টিকতে কি না সেটিও ভাবতে হবে।

দিনব্যাপী ওই সেমিনারের তিনটি কর্ম অধিবেশনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোশাররফ হোসেন ভুঁইয়া।

একটি কর্মঅধিবেশনে আলোচনায় অংশ নিয়ে বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স ডেভিড মিলি শ্রম আইনের বিধিমালা জারি হওয়ার তথ্যকে উৎসাহব্যাঞ্জক বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, কয়েকদিনের মধ্যেই ইউএসটিআরের (যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য দফতর) প্রতিনিধিরা বাংলাদেশ সফর করবেন। তখন এ বিষয়ে আলোচনা হবে। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের কাছে শ্রম আইনের বিধিমালা গুরুত্বপূর্ণ। সেই সঙ্গে শ্রমিকের অধিকার, মেধাস্বত্ব আইন, ঘুষের বিরুদ্ধে আইন, স্বচ্ছতা গুরুত্বপূর্ণ।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত পিয়েরে মায়াদুন বলেন, বহুপক্ষীয় চুক্তিতে অন্তর্ভ্ক্তূ হতে হলে বাংলাদেশের বাণিজ্য উদারীকরণ করতে হবে। সেই সঙ্গে বাংলাদেশের পণ্য ও বাজার বহুমুখীকরণ করতে হবে।

এ সময় অন্যদের মধ্যে আলোচনায় অংশ নেন অর্থনীতিবিদ ড. এ বি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম, ড. আহসান এইচ মনসুর, ড. মোস্তাফিজুর রহমান, ড. নাজনীন আহমেদ, মোস্তফা আবিদ খান প্রমুখ।

এই মাত্রা পাওয়া