১৩ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

জামায়াতকে সন্ত্রাসী সংগঠন ঘোষণা করতে যুক্তরাষ্ট্রকে জয়ের আহ্বান

  • ওয়াশিংটন টাইমসে নিবন্ধ

স্টাফ রিপোর্টার ॥ ‘ওয়াশিংটন টাইমস’এ প্রকাশিত এক নিবন্ধে জামায়াতের কড়া সমালোচনা করে বাংলাদেশ মৌলবাদী জঙ্গী দমনে যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়। একই সঙ্গে তিনি বাংলাদেশে সন্ত্রাসবাদের জন্য জামায়াতকে দায়ী করে ধর্মভিত্তিক উগ্রবাদী এ দলটিকে বিদেশী সন্ত্রাসী সংগঠন ঘোষণা করার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। জয় লিখেছেন, আল-কায়েদাকে সহায়তাকারী জামায়াত ইসলামীকে একটি বিদেশী সন্ত্রাসী সংগঠন ঘোষণা করতে যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিধা করা উচিত নয়। মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের পত্রিকা ওয়াশিংটন টাইমসে জয়ের লেখা ‘আনমাস্কিং টেররিস্টস ইন বাংলাদেশ’ (বাংলাদেশে সন্ত্রাসবাদীদের মুখোশ উন্মোচন) শীর্ষক নিবন্ধটি প্রকাশিত হয়েছে।

এর আগে এই পত্রিকাটিতেই বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া তার লেখায় বাংলাদেশের জিএসপি সুবিধা বাতিলের জন্য সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের কাছে আহ্বান জানিয়েছিলেন। সরকারের সমালোচনা করতে গিয়ে দেশের স্বার্থবিরোধী ওই আহ্বান জানিয়ে দেশজুড়ে সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন খালেদা জিয়া। পরে ‘ওই লেখা আমি পাঠাইনি’ বলে বিএনপি চেয়ারপার্সন রক্ষা পাওয়ার চেষ্টা করলেও তা কাজে আসেনি। কারণ পত্রিকাটি জানিয়ে দিয়েছিল ওটা খালেদা জিয়ারই লেখা। মঙ্গলবার বাংলাদেশে মৌলবাদী জঙ্গীদের কর্মকা- নিয়ে জয়ের লেখা প্রকাশের পর থেকেই সারা ফেলেছে বিভিন্ন মহলে। ব্যাপক সাড়া জাগিয়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও। ‘আনমাস্কিং টেররিস্টস ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক নিবন্ধটি জয় লিখেছেন, ভয়ঙ্কর ইসলামিক স্টেট মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকার বালুতে সার্বভৌম সীমানা পুনরঙ্কন করেছে এবং বিশ্বব্যাপী এদের এবং অন্যান্য সন্ত্রাসবাদী সংগঠনের হুমকি ভয়াবহ এবং ক্রমবর্ধমান। এসব আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসীদের মোকাবিলা এবং পরাস্ত করার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ আইনপ্রণেতারা এবং নির্বাহী বিভাগের কর্মকর্তারা নতুন মিত্র এবং কৌশল খুঁজে বের করার জন্য দিনরাত কাজ করে চলেছেন। একটি মুসলিম জাতি বাংলাদেশ, দেশীয় এবং আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে নির্ভরতায় মাথা তুলে দাঁড়াতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের গর্বিত মিত্র বাংলাদেশকে ব্যাপকভাবে সেক্যুলার, সমগ্র দক্ষিণ এশিয়ার জন্য গণতান্ত্রিক মডেল এবং সন্ত্রাস দমনের যুদ্ধে এক অদম্য বলে বিবেচনা করা হয়। বাংলাদেশে সন্ত্রাসবাদের প্রাথমিক পৃষ্ঠপোষক হচ্ছে চরমপন্থী ইসলামী দল জামায়াতে ইসলামী। বাংলাদেশের পুলিশ সম্প্রতি রাজধানী ঢাকায় দুই তলা বিশিষ্ট একটি এ্যাপার্টমেন্টে অভিযান চালিয়ে অবিস্ফোরিত ২০টি বিস্ফোরকের ডিভাইস, ২৫টি বাঁশের লাঠি এবং জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট উগ্রপন্থী সাহিত্য জব্দ করেছে। পুলিশ বলেছে, এসব বোমা ‘খুবই শক্তিশালী’ এবং দুর্ভাগ্যজনকভাবে এ ধরনের দেশীয় বোমা জামায়াতে ইসলামীর সন্ত্রাসী হামলায় দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহৃত এক প্রতীকে পরিণত হয়েছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, দেশের নিরাপরাধ সাধারণ মানুষ যারা মজুরির বিনিময়ে কাজ করছেন সেসব পোশাক শ্রমিকদের ওপর হামলা চালানোর জন্যই এ বোমাগুলো তৈরি করা হয়েছিল। পুলিশ বলছে, দুর্ভাগ্যজনকভাবে এ আক্রমণের জন্য ইসলামের পবিত্র কোরবানির ঈদের সময়কে বেছে নেয়া হয়। শান্তিপ্রিয় বেসামরিক জনগণকে লক্ষ্যবস্তু বানানো জামায়াতে ইসলামী জন্য নতুন কোন ঘটনা নয় উল্লেখ করে জয় বলেন, ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধের পর থেকেই তারা ভিন্ন মতাবলম্বী রাজনৈতিক দলের নেতাদের ওপর প্রায়শই নির্মমভাবে সহিংসতার আশ্রয় নিচ্ছে। রক্তাক্ত সেই সংঘাতের সময় জামায়াতের সদস্যরা পাকিস্তানী সৈন্যদের ৩০ লাখ মানুষ হত্যা, ২ লাখ নারী ধর্ষণ এবং লাখ লাখ মানুষকে দেশত্যাগে বাধ্য করতে সহায়তা করেছিল। সম্প্রতি ভয়ানক সহিসংতার ঢেউয়ের জন্য পরিকল্পিত যে সন্ত্রাসী পরিকল্পনা নস্যাৎ করে দেয়া হয় সে ধরনের ঘটনা বাংলাদেশে সম্প্রতিক বছরগুলোতে বেশ পাকাপোক্ত হয়েছে।

বাংলাদেশের চার সেক্যুলার ব্লগারের হত্যার খবর আন্তর্জাতিক শিরোনাম হয়েছে। বাংলাদেশের অনেক ঘনিষ্ঠ পর্যবেক্ষকই জানেন, নিহত ব্লগার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে জামায়াতে ইসলামীর নেতাদের মৃত্যুদ-ের পক্ষে লেখালেখি করতেন।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জামায়াতে ইসলামী আইসিটির রায়ের প্রতিবাদে সন্ত্রাসী কার্যক্রম বৃদ্ধি করেছে, দেশব্যাপী শত শত বোমা নিক্ষেপ করেছে এবং এতে শিশু ও বয়স্করাও নিহত হয়েছে। সাম্প্রতিক ওই বিস্ফোরক উদ্ধারের ঘটনায় ১৩ জামায়াত নেতাকে আটক করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রভাবশালী সাবেক দুই সংসদ সদস্যও রয়েছেন। স্থানীয় গণমাধ্যমের রিপোর্টে বলা হয়েছে যে, কার্যত সাবেক এই দুই সংসদ সদস্যই বর্তমানে দলটিকে পরিচালনা করছিলেন। ঘটনা সত্য হলে, এটি অতিরিক্ত প্রমাণ বহন করে যে, বাংলাদেশ একটি বৈধ রাজনৈতিক দলের ছদ্মবেশে মৌলবাদী সন্ত্রাসী সংগঠনটি তৎপরতা চালাচ্ছে।

চরমপন্থী সহিংসতার এই উর্ধগতি আরও বেশি ভয়াবহ এই কারণে যে কাকতালীয়ভাবে ভারতীয় উপমহাদেশে আল কায়েদার সম্প্রসারণের সঙ্গে এটি মিলে গেছে। সর্বশেষ সেপ্টেম্বরে আল কায়েদার কথিত প্রধান আইমান আল-জাওয়াহিরির ৫৫ মিনিটের একটি ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেয়া হয়েছে। ভিডিওটিতে দক্ষিণ এশিয়াজুড়ে ‘জিহাদের পতাকা তুলে নিতে’ বাংলাদেশীদের আহ্বান জানানো হয়েছে। এমটি ঘটবে নাÑ তা নিশ্চিত করার জন্য বাংলাদেশ সরকার প্রচেষ্টা চালাচ্ছে।

জয় লিখেছেন, জামায়াতের নেতৃত্ব দলটির লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য লুকানোর কোন প্রচেষ্টাই করেনি। জামায়াত ও তার সহযোগী সংগঠণগুলো তরুণ ছাত্রদের তাদের দলে ভেড়ানোর জন্য প্ররোচিত করছে। তারা আল কায়েদার মতো বাংলাদেশে একটি মোল্লাতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে চাচ্ছে। আল-কায়েদাকে সহায়তাকারী জামায়াত এটা প্রমাণ করেছে যে, তারা যে কোন উপায়ে এই উদ্দেশ্য প্রতিষ্ঠা করবে।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যান্য পশ্চিমা দেশগুলোর প্রয়োজন একটি স্থিতিশীল, সন্ত্রাস মুক্ত দক্ষিণ এশিয়া। বাংলাদেশ এই বিষয়ে এ অঞ্চলের জন্য একটি বাতিঘর হিসেবে দাঁড়িয়েছে আছে। ধর্মনিরপেক্ষ আইন দ্বারা দেশটি শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিকভাবে পরিচালিত হচ্ছে। একটি শক্তিশালী, সমৃদ্ধ বাংলাদেশ এই অঞ্চলে মার্কিন পররাষ্ট্র নীতির কেন্দ্র হওয়া উচিত। কারণ এটা তার (যুক্তরাষ্ট্রের) জাতীয় নিরাপত্তা এবং অর্থনৈতিক স্বার্থ সমৃদ্ধ করেছে। এ কারণে জামায়াতে ইসলামীকে একটি বিদেশী সন্ত্রাসী সংগঠন ঘোষণা করতে যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিধা করা উচিত নয়।