২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ডেঙ্গুতে ঢাকায় প্রতিদিন গড়ে ২৭ জন আক্রান্ত

স্টাফ রিপোর্টার ॥ সেপ্টেম্বরেও রাজধানীতে রেকর্ড সংখ্যক ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হচ্ছে। এ পর্যন্ত প্রতিদিন গড়ে আক্রান্ত হয়েছে ২৭। গত ১৫ দিনে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৩৯৮। আগস্টে প্রতিদিন গড়ে আক্রান্ত হয় ২১ করে । চলতি মাসে প্রতিদিন গড়ে আক্রান্তের সংখ্যা গত মাসের চেয়ে ৬ জন বেশি। দশ বছরের রেকর্ড ভেঙ্গে গত আগস্টে মোট ৭২৭ ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছিল। বেসরকারী হিসাবে নগরীতে মোট আক্রান্তের সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। এ বছর গত চার মাস ধরে রাজধানীতে ডেঙ্গুর প্রকোপ চলছে। জুন থেকে এ পর্যন্ত প্রতিমাসেই ক্রমান্বয়ে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। গত দশ বছরে এ ধরনের ধারাবাহিকতা লক্ষ্য করা যায়নি। গত আগস্টে রাজধানীতে তিন দিনে শনাক্ত হয়েছিল তিন শতাধিক ডেঙ্গু রোগী। ডেঙ্গু প্রতিরোধে ইতোমধ্যে বিশেষ সভা আহ্বান করে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় করণীয় সম্পর্কে নির্দেশনা দিয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। রাজধানীর ডেঙ্গু নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই এবং এ রোগে আক্রান্তের চিকিৎসার সুব্যবস্থা রয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম। তবে তিন দিনে তিন শতাধিক ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হওয়ায় চিন্তামুক্ত থাকতে পারছে না নগরবাসী।

আইইডিসিআর জানায়, রাজধানীতে জুলাই থেকে অক্টোবর পর্যন্ত ডেঙ্গুর প্রকোপ বেশি হয়ে থাকে। মশক নিধন কার্যক্রমের স্থবিরতা, গাইডলাইনের অভাব এবং মানুষের অসচেতনতাই ডেঙ্গুর প্রকোপের জন্য দায়ী বলে মনে করছেন এ প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞানীরা। সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নির্ণয় ও রোগ গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) প্রতিবেদনে দেখা যায়, গত মার্চে ২, এপ্রিলে ২, মে’তে ১, জুনে ১৫, জুলাইয়ে ১৫৬ ও আগস্টে ৭২৭ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়। চলতি মাসে ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছে মোট ৩৯৮। সূত্রটি আরও জানায়, রাজধানীতে ২০১৩ সালের জানুয়ারিতে ৬, ফেব্রুয়ারিতে ৭, মার্চে ৩, এপ্রিলে ৩, মে’তে ১২, জুনে ৫০, জুলাইয়ে ১৭২, আগস্টে ৩৩৯, সেপ্টেম্বরে ৩৮৫ এবং অক্টোবরে আক্রান্ত হয় ৫০১ জন। ২০১২ সালে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয় ১২শ’ ৮৬। আর গত ২০১১ সালে রেকর্ড সংখ্যক মানুষ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়। প্রতিবেদনে দেখা যায়, ওই বছর জুনে ৬১, জুলাইয়ে ২৫৫, আগস্টে ৬৯১, সেপ্টেম্বরে ১৯৩ এবং অক্টোবরে আক্রান্ত হয় ১২০। আর এভাবে গত ২০১০ সালে ২৫৭, ২০০৯ সালে ৪৭১, ২০০৮ সালে ১১শ’ ৫১ এবং ২০০৭ সালে ৪৭১ ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত হয়। কিন্তু এ বছর জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ১শ’ জন আক্রান্ত হয়েছে।