২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

লাব্বায়েক আল্লাহুম্মা লাব্বায়েক

অধ্যাপক মনিরুল ইসলাম রফিক ॥ আজ হিজরী সনের সমাপনী মাস পবিত্র জিলহজের ২য় তারিখ। বিশ্বব্যাপী চলছে হজ গমন ও সম্পাদনের ব্যস্ততা ও ঈদ-উল-আযহা উদযাপনের নানা প্রস্তুতি। এ মাস শাব্দিক অর্থে হজের মাস হলেও সব ধরনের ধর্মপ্রাণ মুসলমানের কাছে এর গুরুত্ব অপরিসীম। যারা হজে যাচ্ছেন তাদের জন্য যেমনি মাসটি ব্যাপক তাৎপর্যপূর্ণ তেমনি যারা হজে গমন করেন না, তাদের জন্যও জিলহজ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মাস। এ মাসের দশ তারিখে আমরা ঈদ-উল-আযহা বা কোরবানির ঈদ আদায় করি। এ ছাড়াও এ মাসের প্রথম দশটি দিন মুমিনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ফযিলতের দিন, যে বিষয়ে আমাদের অনেকেই সচেতন নই। বিভিন্ন সহীহ হাদিস থেকে আমরা জানতে পারি যে, জিলহজ মাসের প্রথম দশ দিনের নেক আমল আল্লাহর কাছে সর্বাধিক প্রিয়। সহীহ বুখারী অন্যান্য গ্রন্থে সঙ্কলিত হাদিসে রাসূলুল্লাহ (সা) বলেন : জিলহজ মাসের প্রথম দশ দিনে নেক আমল করা আল্লাহর নিকট যত বেশি প্রিয় আর কোন দিনের আমল তাঁর নিকট তত প্রিয় নয়। সাহাবীগণ প্রশ্ন করেন, হে আল্লাহর রাসূল, আল্লাহর পথে জিহাদও কি এ দশদিনের নেক আমলের চেয়ে আল্লাহর নিকট প্রিয়তর নয়? তিনি বলেন, ‘না, আল্লাহর পথে জিহাদও প্রিয়তর নয়, তবে ঐ ব্যক্তি ছাড়া, যে ব্যক্তি নিজের প্রাণ ও সম্পদ নিয়ে জিহাদে বেরিয়ে গেল এবং কোন কিছুই আর ফিরে এলো না (সম্পদও শেষ হলো, সেও শহীদ হলো)।’ বুখারী ১/৩২৯।

অন্য হাদিসে তিনি বলেন, দুনিয়ার সবচেয়ে বেশি ফযিলতের দিন হলো জিলহজ মাসের প্রথম এ দশ দিন। হাদিসে বর্ণিত হয়েছে যে, এই দশ দিনের সিয়াম এক বছরের সিয়ামের তুল্য এবং প্রত্যেক রাতের নামাজ বা লাইলাতুল কাদ্রের নামাজের তুল্য। (তিরমিযী, আস-সুনান ৩/৩১৩)। এভাবে আমরা দেখি যে, জিলহজ মাসের এ দশটি দিন মুমিনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দিন। এদিনগুলো অবহেলায় নষ্ট করার চেয়ে দুর্ভাগ্য আর কিছুই হতে পারে না। প্রত্যেক মুমিনের চেষ্টা করা দরকার এ সময় বেশি বেশি নেক আমল করার। সকল প্রকার ইবাদতই নেক আমল। ফরয ইবাদত তো সঠিক সময়ে সঠিকভাবে করতেই হবে। ফরযের জন্য ফযিলতের সময় খোঁজা মুশকিল। এজন্য নেক আমল বলতে সাধারণত সকল প্রকারের নফল আমলই বুঝানো হয়। যিক্র, দুআ, ইসতিগফার, নফল নামায, নফল রোজা, কুরআন তিলাওয়াত, সালাত, সালাম, দান, পরোপকার, মানুষকে সাহায্য করা, সৃষ্টির সেবা করা, অসুস্থ মানুষকে দেখতে যাওয়া, সত্য সাক্ষ্য দেয়া, মানুষকে আল্লাহর পথে ডাকা সবই নেক আমল। আমাদের সকলেরই উচিত এ দিনগুলোতে এ সকল নেক আমলের মধ্য থেকে যা কিছু সম্ভব বেশি বেশি পালন করা।

বিশেষত জিলহজ মাসের প্রথম দশ রাতে কিয়ামুল্লাইল বা নফল সালাত আদায় করতে হবে এবং প্রথম ৯ দিন নফল সিয়াম পালনের চেষ্টা করতে হবে। জিলহজ মাসের ৯ তারিখে যেদিন হাজীগণ আরাফার মাঠে অবস্থান করেন সে দিন যারা হজে যান না তাদেরকে সিয়াম পালন করতে বিশেষভাবে উৎসাহ দিয়েছেন রাসূলুল্লাহ (সা)। তিনি বলেন: ‘আমি আশা করি আরাফার দিবসের সিয়াম বিগত বছর ও আগামী বছরের কাফ্ফারা হবে।’ (মুসলিম, আস-সহীহ ২/৮১৯)।

নির্বাচিত সংবাদ