১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

মেডিক্যালে ভর্তির প্রশ্নপত্র ফাঁস করে কোটিপতি! আটক চক্রের ৪ জন

স্টাফ রিপোর্টার ॥ রাতারাতি কোটিপতি হওয়ার নির্ভরযোগ্য উপায় হচ্ছে মেডিক্যাল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস। এ উপায়েই জসিমের মতো অনেক পেশাদার ব্যবসায়ীও রাতারাতি কোটিপতি বনে গেছেন। দুর্ভাগ্য-তার কপালে এত টাকা সয়নি। জসিম ধরা পড়েছেন সাঙ্গোপাঙ্গসহ।

উচ্চশিক্ষা প্রত্যাশী তরুণ-তরুণীদের কাছে আগেই প্রশ্নপত্র ফাঁস করে সমাধানসহ অবৈধ উপায়ে ভর্তিতে সাহায্য করার গুরু দায়িত্ব পালন করতেন জসিম। মূলত আগ্রহী পরীক্ষার্থীদের কাছে প্রশ্নপত্র ফাঁসের পর বিক্রি করে আসছিলেন জসিম। পরিচিতদের মধ্য থেকে এ ধরনের পরীক্ষার্থী সংগ্রহ করে জসিমের কাছে বুঝিয়ে দিতেন সানোয়ার ও তুষার। আর অসাধু পরীক্ষার্থীদের প্রশ্নপত্রের ওপর কোচিং করাতেন ডাঃ শোভন। এভাবেই মেডিক্যালে ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের মাধ্যমে অর্থ আদায় করে আসছিলেন একটি জালিয়াত চক্রের ওই চারজন। অবশেষে তারা ধরা পড়ে র‌্যাবের কাছে ভয়াবহ এ জালিয়াতির কথা স্বীকারও করেছেন। কোটিপতি বনে যাওয়া চক্রটির কাছ থেকে ১ কোটি ২১ লাখ টাকা জব্দ করা হয়েছে। ধরা পড়ার পর এমন সব চাঞ্চল্যকর তথ্য বের হয়ে আসছে তার জবানবন্দীতে।

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ওই চারজনকে আটকের পর বুধবার দুপুর আড়াইটায় র‌্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব) সদর দফতরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা জানানো হয়। আটককৃতরা হলোÑ জসিম উদ্দিন (৪১), ডাঃ জেডএমএ সালেহীন শোভন (৪০), এস এম সানোয়ার (৩০) এবং আকতারুজ্জামান খান তুষার (৩৮)। গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে এ চক্রের মূল হোতা জসিম উদ্দিন ও ডাঃ শোভন।

র‌্যাব জানায়, রাজধানীর মহাখালীর ডিওএইচ এলাকার একটি বাসায় মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাতটায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। এ সময় আটককৃতদের কাছ থেকে দুটি মডেল প্রশ্নের ৮৮ কপি প্রশ্নপত্র ও উত্তরপত্র এবং বিভিন্ন ব্যাংকের ১৩ চেক ও নগদ ৩৮ হাজার টাকাসহ মোট ১ কোটি ২১ লাখ টাকা জব্দ করা হয়।

র‌্যাবের লিগ্যাল ও মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক মুফতি মাহমুদ খান সংবাদ সম্মেলনে জানান, মেডিক্যালে ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের মাধ্যমে এ চক্রের হোতা জসিম উদ্দিন ও ডাঃ জেডএমএ সালেহীন দীর্ঘদিন ধরে প্রতারণা করে আসছিলেন। শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎ করে আসছিলেন তারা। চক্রের মূল হোতা জসিমকে এর আগেও ২০১১ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর এমবিবিএস ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র জালিয়াতির অভিযোগে ওই চক্রের ২০ সদস্যের সঙ্গে র‌্যাব গ্রেফতার করেছিল।

জিজ্ঞাসাবাদে জসিম জানান, সাধারণত পরীক্ষার দু’একদিন আগে প্রশ্নপত্র সংগ্রহ করতেন তিনি। আগ্রহী পরীক্ষার্থীদের ভর্তি পরীক্ষার আগে একসঙ্গে সমবেত করে সরবরাহ করতেন এবং কিছু ক্ষেত্রে বাসায় গিয়ে প্রশ্নপত্র সমাধানসহ পৌঁছে দিয়ে আসতেন। গ্রেফতারকৃত অপর আসামি এস এম সানোয়ার ই. হক কোচিংয়ের এক শিক্ষক ও আকতারুজ্জামান খান তুষার লাইলী-আবেদ কনস্ট্রাকশন কোম্পানির ম্যানেজিং ডিরেক্টরের দায়িত্বে ছিলেন। পরিচিত লোকজনের মধ্য থেকে পরীক্ষার্থী সংগ্রহ করে মূল হোতা জসিম উদ্দিনের কাছে তাদের বুঝিয়ে দিতেন ওই দু’জন।