১৫ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

চারুকলার জয়নুল গ্যালারিতে শুরু ‘কারুকাহন’ প্রদর্শনী

চারুকলার জয়নুল গ্যালারিতে শুরু ‘কারুকাহন’ প্রদর্শনী
  • সংস্কৃতি সংবাদ

স্টাফ রিপোর্টার ॥ ঘোড়ার পিঠে পাখি, পতুল খেলার দৃশ্য, মাছ, গরু, রাজার মুখ, প্রণয় মুহূর্তসহ নানা রকমের কারুশিল্প শোভা পাচ্ছে গ্যালারির চার দেয়ালে। এর কোনটি তৈরি হয়েছে কাঠ দিয়ে, আবার কোনটি মেটাল আথবা ট্যাপেস্ট্রি দিয়ে। কিছু ড্রইংয়ের কাজও রয়েছে প্রদর্শনীতে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের জয়নুল গ্যালারি ১-এ ‘কারুকাহন’ শীর্ষক এ প্রদর্শনীর উদ্বোধন হয় বুধবার বিকেলে। যৌথ এ প্রদর্শনীতে স্থান পেয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের কারুশিল্প বিভাগের ১৮তম ব্যাচের চার শিক্ষার্থীর শিল্পকর্ম। এরা হলেন-প্রজ্ঞা পারমিতা সেনগুপ্ত, হোসনে আরা সেলী শর্মী, নাবিলা নবী ও রাকিবুল ইসলাম। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক। বিশেষ অতিথি ছিলেন চিত্রশিল্পী রফিকুন নবী, আব্দুস শাকুর শাহ, আবুল বারক আলভী, চারুকলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক নিসার হোসেন, কারুশিল্প বিভাগের চেয়ারম্যান ফারুক আহমেদ মোল্লা, অধ্যাপক মোহাম্মদ নজিব, আবদুল মোমেন মিল্টন ও জামাল আহমেদ ।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অতিথিরা বলেন, শিল্পকর্ম প্রদর্শনীর মাধ্যমে প্রদর্শনীতে আসা লোকসমাগমের মধ্যে যেমন আনন্দের সঞ্চার ঘটে তেমনি মানুষের চিন্তা-চেতনার এবং রুচিবোধের মাত্রাও নতুন স্তরে উন্নীত হয়। এই উন্মুক্ত চিন্তার পথে হাঁটছে চারুকলা অনুষদের কারুশিল্প বিভাগের এমএফএ দ্বিতীয় পর্বের চার শিক্ষার্থী। ভিন্ন ভিন্ন আঙ্গিকে কারুশিল্পের শিল্পসত্তার নান্দনিকতাকে তারা যেমন আত্বস্থ করেছে তেমনি নিজের সৃজনশীলতাকে ছড়িয়ে দিচ্ছে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের পর অতিথিরা ঘুরে ঘুরে গ্যালারির চিত্রকর্ম দেখেন। কাঠ খোদাই একটি চিত্রকর্মে দেখা যায় প্রকৃতির সঙ্গে বাংলার নারীর যে অবিচ্ছেদ্য সম্পর্ক তার নমুনা। কাঠ খোদাইয়ের মাধ্যমে মানব-মানবীর নির্মল প্রণয়ের নির্বাক দৃশ্যকাব্য বিশেষ মর্যাদা নিয়ে প্রতিভাত হয়েছে। ট্যাপেস্ট্রি মাধ্যমে মোরগ, রাজা, মাছ, পাখিসহ বিভিন্ন পশুকে শিল্পে রূপ দেয়া হয়েছে। মেটাল দিয়ে তৈরি করা হয়েছে লক্ষ্মীপেঁচা, ময়ূরপঙ্খী নৌকাসহ বিচিত্র রকমের শিল্পকর্ম। কাঠ ও বেতের মিশ্রণে মগ, আয়না, ফুলদানি, পাতাসহ তৈরি করা হয়েছে লোকজ ব্যবহার সামগ্রী। প্রতিটি শিল্পকর্মে স্বদেশী কারুশিল্পের যে দীর্ঘ ঐতিহ্য রয়েছে তার সঙ্গেও আত্মীক সম্পর্ক রাখার চেষ্টা রয়েছে। কাহন তথা গল্প লোকজ, এই গল্প কখনও কারুসত্তার গভীর আলোকপাত। এসব মাথায় রেখেই কাঠ, পাতিনা, ট্যাপেস্ট্রি, সেরিগ্রাফ মাধ্যমগুলোতে শিল্পীরা তাদের সৃষ্টিশীল কাজের বহির্প্রকাশ ঘটিয়েছে। চার শিল্পীর আঁকা মোট ৪০ টি শিল্পকর্ম স্থান পেয়েছে প্রদর্শনীতে। প্রদর্শনী চলবে আগামী ২২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এবং প্রতিদিন সকাল ১০ টা থেকে সন্ধ্যা ৭ টা পর্যন্ত।

উদীচীর প্রযোজনায় ‘হাফ আখড়াই’ নাটক মঞ্চস্থ ॥ বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর ‘হাফ আখড়াই’ নাটকের ৪৬ তম মঞ্চায়ন হয় শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালার প্রধান মিলনায়তনে বুধবার সন্ধ্যায়। এটি রচনা করেছেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় সংসদের সহসভাপতি অধ্যাপক ড. রতন সিদ্দিকী এবং নির্দেশনা দিয়েছেন আজাদ আবুল কালাম। নাটকে দেখা যায়- বাংলা টপ্পা গানের জনক রামনিধি গুপ্ত ১৮০৪ সালে প্রতিষ্ঠা করেন আখড়াই দল। কলকাতায় প্রতিষ্ঠিত এই দলে তার নিজস্ব গায়কী রীতি তিনি প্রচলন করেন। ধীরে ধীরে তার গায়কী রীতি এবং সৃজিত গীতাবলী সমকালে যথেষ্ট সমাদৃত হয়। নিধুবাবু তার কালে হয়ে ওঠেন জনপ্রিয়তম শিল্পী। নিধুবাবু বিশ্বাস করতেন, রসসৃষ্টি ব্যতীত সঙ্গীতের আর কোন উদ্দেশ্য নেই এবং সঙ্গীত সকলের কর্ম নয়। সঙ্গীতের স্রষ্টা বিশেষজনরা এবং ভোক্তা কেবল ধনী ও গুণীরা। বার্ধক্যের কারণে ১৮৩২ সালে তিনি আখড়াই দলের অধ্যক্ষ পদ পরিত্যাগ করেন এবং তার প্রিয় সুযোগ্য শিষ্য মোহনচাঁদ বসুকে তিনি অধ্যক্ষ নিয়োগ করেন। গুরুভক্ত ও দৃঢ়চেতা মোহনচাঁদ বসু অধ্যক্ষ পদ লাভের পর তার নিজস্ব মত ও রীতি প্রচলন করেন। মোহনচাঁদ বিশ্বাস করতেন মানুষের জন্য সঙ্গীত। তিনি বৈষ্ণব পদাবলী, মঙ্গলকাব্য, নাথগীতিকা প্রভৃতি নাট্যগুণসমৃদ্ধ বাংলা কাব্যকে উপস্থাপন করেন নিজস্ব রীতিতে। তার পরিবেশনায় এসব কাব্য নাট্যক্রিয়া হিসেবে জনপ্রিয়তা লাভ করে। রামনিধি গুপ্ত পরিবেশন রীতির এই পরিবর্তনকে গ্রহণ করতে পারেননি বলে দলে দ্বন্দ্ব সৃষ্টি হয়। মোহনচাঁদ বসু দল থেকে চলে গিয়ে গঠন করেন ‘হাফ আখড়াই’ দল। মোহনচাঁদ বসুর হাফ আখড়াই দল এক বছরের মধ্যে কলকাতায় অসম্ভব জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। ইতোমেধ্যে এদর সঙ্গে ছদ্মবেশে যুক্ত হয় ইংরেজ বিরোধীরা। হঠাৎ দেখা যায় কে বা কারা এক রাতে মোহনচাঁদের হাফ আখড়াই দলে আগুন ধরিয়ে দেয়ায় আগুনে পুড়ে মৃত্যুবরণ করেন দলের অধিকাংশ সদস্য। তারপর নিঃসঙ্গ মোহনচাঁদ বসু আবার নতুন করে দল গঠনের চেষ্টা করেন। ইতিহাসের ক্ষীণসূত্র নিধুবাবু ও মোহনচাঁদের দ্বন্দ্বকে অবলম্বন করে গড়ে উঠেছে হাফ আখড়াই নাটক। নাটকটিতে অভিনয় করেছেন উদীচী কেন্দ্রীয় নাটক বিভাগের শিল্পীরা। এটিতে রয়েছে ইতিহাসের চরিত্র রামনিধি গুপ্ত, তার প্রেমিকা বারাঙ্গনা শ্রীমতি, শিষ্য মোহনচাঁদ বসু, সংগ্রামী গঙ্গানারায়ণ আর আছে অনৈতিহাসিক চরিত্র শ্যামদাস, হরিশচন্দ্র, সত্য, বলরাম, চন্দ্রলেখা, কুন্দ, শৈব, নিকুঞ্জ, সার্জন, কেষ্ট ও তারা।

নাট্যধারার তনুশ্রী পদক প্রদান আজ ॥ নাট্যধারা প্রবর্তিত ‘সৃজনশীল নাট্যতরুণ তনুশ্রী পদক ২০১৫’ প্রদান করা হবে আজ বৃহস্পতিবার। শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালার প্রধান মিলনায়তনে বিকেল ৫টায় আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি থাকবেন সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর। বিশেষ অতিথি থাকবেন আইটিআই বিশ্ব সভাপতি নাট্যজন রামেন্দু মজুমদার ও সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি গোলাম কুদ্দুছ। পদক প্রদান অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন নাট্যধারা প্রধান সম্পাদক মাসুদ পারভেজ মিজু। নাট্যধারা সূত্রে জানা গেছে, পদক প্রদান অনুষ্ঠান নিয়েই মূলত এ আয়োজন। প্রতিবছরের মতো অনুষ্ঠানেই জানানো হবে কে পাচ্ছেন পদক। এর আগে থাকবে নাটকের গান। পদক প্রদানের পর নাট্যধারার ২০তম প্রযোজনা ‘আয়না বিবির পালা’ নাটকের মঞ্চায়ন হবে। ময়মনসিংহ গীতিকা অবলম্বনে ‘আয়না বিবির পালা’ রচনা ও নির্দেশনা দিয়েছেন রবিউল আলম। নাটকের বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেনÑলিটু সাখাওয়াত, শামীমা আক্তার মুক্তা, হাফসা আক্তার জাহি, কাজী উজ্জ্বল, পলাশ মাহমুদ ও সব্যসাচী চঞ্চল ।

প্রাণের খেলা গানের আসরে গাইবেন ফরিদা পারভীন ও সফিউল আলম রাজা ॥ বেঙ্গল শিল্পালয়ের নিয়মিত ‘প্রাণের খোলা’ গানের আসরের এবারের শিল্পী ফরিদা পারভীন ও সফিউল আলম রাজা। আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা সাড়ে ৬ টায় এ আসরে গান করবেন শিল্পীদ্বয়। শিল্পী ফরিদা পারভীন লালনের গান পরিবেশেনের সঙ্গে গানের উৎপত্তি, বিকাশ ও প্রতিবন্ধকতা সম্পর্কিত নানাবিধ কথা বলবেন। একইভাবে শিল্পী সফিউল আলম রাজা ভাওয়াইয়া গান করবেন ও গানের বিষয়ে প্রাসঙ্গিক আলোচনা করবেন। আধ্যাত্মিক চেতনাসমৃদ্ধ এক অসামান্য মরমি সাধক ও সঙ্গীতকার লালন শাহ্ বাংলার সর্বশ্রেষ্ঠ বাউল কবি। তার গীত রচনা অধ্যাত্ম সঙ্গীতের সুমহান দৃষ্টান্তরূপে পরিগণিত হয়। মানুষের সত্যান্বেষার গভীরতম বিষয়কে তিনি অত্যন্ত সহজ ভাষায় ও মর্মস্পশী সুরে গ্রথিত করেছেন। মানব ধর্মের উদার দেহবাদী অধ্যাত্ম সাধনা ও সাধনার রীতি বাউল গানের মূলধারা। বাংলাদেশের উত্তরবঙ্গ এলাকার লোকগানের একটি বিশিষ্ট ধারার নাম ভাওয়াইয়া। ভাব শব্দ থেকে ভাওয়াইয়া, ভাবসমৃদ্ধ গান এই অর্থে ভাওয়াইয়া গান। নিজস্ব গীতিরীতির বৈশিষ্ট্য নিয়ে নর-নারীর প্রণয় সম্পর্কই ভাওয়াইয়া গানের প্রধান বিষয়, তার মধ্যে বিচ্ছেদবোধের যন্ত্রণাকেই এই গানে রূপায়িত করা হয়েছে।

প-িত রামকানাই দাশ স্মরণানুষ্ঠান ১৯ সেপ্টম্বর ॥ একুশে পদকপ্রাপ্ত সঙ্গীতগুরু রামকানাই দাশের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে এক স্মরণানুষ্ঠানের আয়োজন করেছে প-িত রামকানাই দাশ স্মৃতি পরিষদ। ধানম-ির ছায়ানট ভবনে ১৯ সেপ্টেম্বর বিকেল ৫ টায় আয়োজিত এ স্মরণসভায় প্রধান অতিথি থাকবেন সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর। সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব কামাল লোহানীর সভাপতিত্বে আলোচনায় অংশ নেবেন সঙ্গীতশিল্পী অনুপ ভট্টাচার্য ও শিল্পী কাবেরী দাশ। মূল প্রবন্ধ পাঠ করবেন লোকসংস্কৃতি গবেষক ও প্রাবন্ধিক সুমন কুমার দাশ। অনুষ্ঠানে রামকানাই দাশের জীবন ও কর্ম নিয়ে দেশের প্রখ্যাত লেখক, সাংবাদিক ও বুদ্ধিজীবীর লেখা নিয়ে একটি বিশেষ স্মরণিকা প্রকাশ করা হবে। স্মরণসভার অংশ হিসেবে ধানম-ির ছায়ানট সংস্কৃতি ভবনে আগামীকাল শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৫ টায় দুই দিনব্যাপী এ কর্মশালার উদ্বোধন করবেন সঙ্গীতশিল্পী আব্দুল হাদী। এবং কর্মশালা পরিচালনা করবেন প-িত রামকানাই দাশের সুযোগ্য উত্তরসূরি শিল্পী কাবেরী দাশ। কর্মশালায় অংশগ্রহণকারীদের সনদপত্র প্রদান করা হবে।

জাতীয় ভাষা উৎসব উদ্বোধন আজ ॥ জাতীয় পর্যায়ে শিক্ষার্থীদের প্রমিত বাংলা চর্চায় উৎসাহিত করার লক্ষ্যে ‘জাতীয় ভাষা উৎসব ২০১৫’ শুরু হচ্ছে আজ বৃহস্পতিবার। দ্বিতীয়বারের মতো এ উৎসবের আয়োজন করেছে যৌথভাবে বাংলা একাডেমি, ঢাকা রেসিডেন্সিয়াল মডেল কলেজ ও মাই একাডেমি। বাংলা একাডেমির আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ মিলনায়তনে সকাল ১০ টায় তিন দিনব্যাপী এ উৎসবের উদ্বোধন করবেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি থাকবেন সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর। সভাপতিত্ব করবেন বাংলা একাডেমির সভাপতি ইমেরিটাস অধ্যাপক আনিসুজ্জামান। অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখবেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক শামসুজ্জামান খান ও ঢাকা রেসিডেন্সিয়াল মডেল কলেজের অধ্যক্ষ ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আসাদুজ্জামান সুবহানী।