২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

সূচকের পতনে পুঁজিবাজারে লেনদেন শেষ

অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ চার কার্যদিবসে সূচকের উর্ধগতির পরে আবারও দরপতনের ধারায় ফিরেছে দেশের পুঁজিবাজার। ঈদ-উল-আযহার ছুটির আগে বিনিয়োগকারীদের নগদ টাকার চাহিদা বেড়ে যাওয়ার কারণেই বুধবারে বাজারে দরপতন ঘটেছে বলে বাজারসংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। তবে দরপতন ঘটলে চাহিদার শীর্ষে ফিরে এসেছে মৌলভিত্তি সম্পন্ন কিছু কোম্পানি। এর বিপরীতে স্বল্প মূলধনী বা কম পুঁজির কোম্পানিগুলোর দর হারিয়েছে বেশি। এটিও বাজারের জন্য ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, এর ফলে বাজারে সুস্থ ধারা ফিরে এলো। যাই হোক বুধবারে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) লেনদেন উত্থানে শুরু হলেও শেষ হয়েছে মূল্য সূচকের পতনে। চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) লেনদেন শেষ হয়েছে মিশ্র প্রবণতায়। তবে উভয় বাজারেই লেনদেনের পরিমাণ মঙ্গলবারে তুলনায় বেড়েছে।

বাজার পর্যালোচনায় দেখা গেছে, বুধবার ডিএসইতে ৪২৭ কোটি ৪১ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে; যা আগের দিনের তুলনায় সাত কোটি টাকা বা ১ দশমিক ৬৭ শতাংশ বেশি লেনদেন। আগের দিন এ বাজারে ৪২০ কোটি ৪০ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছিল।

ডিএসইতে লেনদেনে অংশ নেয় ৩২০টি কোম্পানি ও মিউচ্যুয়াল ফান্ড। এর মধ্যে দর বেড়েছে ১০৮টির, কমেছে ১৬৬টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ৪৬টির শেয়ার দর।

সকালে সূচকের ইতিবাচক প্রবণতা দিয়ে শুরুর পরে দিনশেষে ডিএসইএক্স বা প্রধান মূল্যসূচক ৪ পয়েন্ট কমে ৪ হাজার ৭৯৬ পয়েন্টে অবস্থান করছে। ডিএসইএস বা শরিয়াহ সূচক দশমিক ৪৯ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে এক হাজার ১৭৯ পয়েন্টে। ডিএস৩০ সূচক ১ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে এক হাজার ৮৩৬ পয়েন্টে।

বাজার পর্যালোচনায় দেখা গেছে, বুধবারে ডিএসইতে তালিকাভুক্ত প্রকৌশল খাতের প্রতি বিনিয়োগকারীদের বেশি আগ্রহী দেখা গেছে। শুধু মাত্র একটি খাতেই ৯৮ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে, যা মোট লেনদেনের ২৪ দশমিক ১৪ ভাগ। এর পরে দ্বিতীয় অবস্থানে ছিল জ্বালানি এবং শক্তি খাতটি। পুরোদিনে খাতটির মোট লেনদেনের পরিমাণ দাঁড়ায় ৪৭ কোটি টাকা, যা মোট লেনদেনের ১১ দশমিক ৫৭ ভাগ। তৃতীয় অবস্থানে ছিল বস্ত্র খাতটি। খাতটির মোট লেনদেনের পরিমাণ ৪৩ কোটি টাকা, যা মোট লেনদেনের ১০ দশমিক ৬১ ভাগ।

ডিএসইতে লেনদেনের শীর্ষে থাকা দশ কোম্পানি হলো- ইউনাইটেড এয়ারওয়েজ (বিডি), ইসলামী ব্যাংক, বাংলাদেশ স্টিল রি-রোলিং মিলস লিমিটেড, বিএসআরএম স্টিলস লিমিটেড, কাশেম ড্রাইসেলস, বেক্সিমকো ফার্মা, ইফাদ অটোস, এ্যাপোলো ইস্পাত কমপ্লেক্স লিমিটেড, আমান ফিড লিমিটেড এবং ইউনাইটেড পাওয়ার জেনারেশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি।

ডিএসইর দরবৃদ্ধির সেরা কোম্পানিগুলো হলো : কাসেম ড্রাইসেল, ১ম প্রাইম মিউচ্যুয়াল ফান্ড, মুন্নু স্টাফলারস, ইবনে সিনা, ন্যাশনাল টিউবস, ওরিয়ন ইনফিউশন, বিচ হ্যাচারি, ইসলামী ব্যাংক, মিউচ্যুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক ও বিএসআরএম স্টিল মিলস লিমিটেড।

দর হারানোর সেরা কোম্পানিগুলো হলো : মেঘনা কনডেন্স মিল্ক, মডার্ন ডাইং, বিডি অটোকারস, মুন্নু সিরামিক, প্রগ্রেসিভ লাইফ, লিগ্যাসি ফুটওয়ার, এ্যাপেক্স ট্যানারি, আমান ফিড, স্ট্যান্ডার্ড সিরামিক ও আরামিট সিমেন্ট।

এদিকে দিনটিতে ঢাকার মতো অপর বাজারেও শেয়ার বিক্রির চাপ বেশি ছিল। যার কারণে সূচকের পতন ঘটেছে সেখানেও তবে লেনদেন আগের দিনের তুলনায় কিছুটা বেড়েছে। বুধবারে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) ২৮ কোটি টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। এদিন সিএসই সার্বিক সূচক ৮ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ১৪ হাজার ৬৮৭ পয়েন্টে। সিএসইতে মোট লেনদেন হয়েছে ২৪৬টি কোম্পানি ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের শেয়ার। এর মধ্যে দর বেড়েছে ৮৯টি কোম্পানির, দর কমেছে ১২৪টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ৩৩টি কোম্পানির।

সিএসইর লেনদেনের সেরা কোম্পানিগুলো হলো : ইউনাইটেড এয়ার, উইনাইটেড পাওয়ার জেনারেশন এ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড, আমান ফিড, বিএসআরএম লিমিটেড, বেক্সিমকো ফার্মা, অলিম্পিক এক্সেসরিজ, বিএসআরএম স্টিল মিলস লিমিটেড, লাফার্জ সুরমা সিমেন্ট, স্কয়ার ফার্মা ও বেক্সিমকো।