২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

চামড়া কিনতে ৬৫০ কোটি টাকা ঋণ দেবে চার ব্যাংক

রহিম শেখ ॥ কোরবানির পশুর চামড়া কিনতে রাষ্ট্র মালিকানাধীন চার বাণিজ্যিক ব্যাংক এবার ব্যবসায়ীদের প্রায় ৬৫০ কোটি টাকার ঋণ দিচ্ছে। গত বছর এই ব্যাংকগুলো এই খাতে ঋণ দিয়েছিল প্রায় ৫৪০ কোটি টাকা। তবে এসব ব্যাংকের বাইরে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন কৃষি ব্যাংক, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক ও বেসিক ব্যাংক এবং বেসরকারী ন্যাশনাল ব্যাংক ও সিটি ব্যাংক এই খাতে শাখা পর্যায় থেকে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের ঋণ দিয়ে থাকে।

সোনালী ব্যাংক কর্তৃপক্ষ জানায়, চামড়া খাতে এখন তাদের তিনটি ভাল মানের ঋণগ্রহীতা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এ বছর ব্যাংক এই গ্রাহকদের জন্য নতুনভাবে ৭৩ কোটি টাকার ঋণ অনুমোদন করেছে। এর বাইরে আরও ১২২ কোটি টাকার বকেয়া ঋণ রয়েছে। সব মিলিয়ে এই খাতে ব্যাংকের ঋণ এবার হবে ১৯৫ কোটি টাকা। জনতা ব্যাংক এবার চামড়া খাতে ২৫০ কোটি টাকা ঋণ দেয়ার লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করেছে। প্রাপ্ত তথ্য অনুসারে বুধবার পর্যন্ত ব্যবসায়ীরা ২৩০ কোটি টাকার ঋণের আবেদন জমা দিয়েছেন। আগেরবার ব্যাংক এই খাতে ঋণ দিয়েছিল ২৫০ কোটি। অগ্রণী ব্যাংক সূত্র জানায়, গতবার চামড়া ক্রয়ে তারা ঋণ দিয়েছিল ১০০ কোটি টাকা। এবারও দিচ্ছে ১২০ কোটি টাকা। বুধবার ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সভায় এ ঋণ অনুমোদন দেয়া হয়। এ প্রসঙ্গে অগ্রণী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ আব্দুল হামিদ জনকণ্ঠকে বলেন, ঋণের চাহিদা অনেক বেশি। কিন্তু সবাইকে তো ঋণ দেয়া যাবে না। তবে আমরা ভাল ঋণ গ্রহীতাদেরই বেছে নিয়েছি। একই সঙ্গে যাঁদের রফতানি খাতে আয় ভাল হচ্ছে এবং যাঁরা সরকার নির্ধারিত সময়ের মধ্যে হাজারীবাগ থেকে সাভারে চলে যাওয়ার কার্যক্রম শুরু করেছেন তারাই এ খাতে ঋণ পাবেন। রূপালী ব্যাংক এবার ৮৪ কোটি টাকার চামড়া ঋণ দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে এবার এ খাতে ঋণের আবেদন পড়েছিল ১৩৫ কোটি টাকা। গত বছর এই খাতে ব্যাংকটির ঋণ ছিল ৫০ কোটি টাকা।

রাষ্ট্র খাতের ব্যাংকগুলোতে ইতোমধ্যে কিছু ক্ষেত্রে ঋণ অনুমোদন হয়েছে। আবার কোন কোন ক্ষেত্রে পরিচালনা পর্ষদে চূড়ান্ত অনুমোদন নিতে হতে পারে বলে জানা গেছে। ঋণের ক্ষেত্রে ব্যাংকগুলোর সাধারণ নীতিমালা হচ্ছে, আগের বছর যাঁরা ঋণ নিয়ে ফেরত দিয়েছেন, তাঁদের নতুন ঋণ দেয়া হবে। এ ক্ষেত্রে নবায়নও ঋণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে কোন খেলাপী প্রতিষ্ঠান যেন ঋণ না পায়, সে বিষয়ে কর্তৃপক্ষ সজাগ রয়েছে বলে ব্যাংকগুলো জানিয়েছে। জানা গেছে, পশুর ভাল মানের চামড়ার সিংহভাগ যোগান আসে কোরবানির পশু থেকে। কোরবানি করতে ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা বাছাই করা পশু ক্রয় করে থাকেন। ফলে শিল্পের জন্য উন্নত মানের চামড়া কিনতে ব্যবসায়ীরাও এ সময় ব্যতিব্যস্ত থাকেন। ট্যানারি শিল্পে বার্ষিক চামড়ার চাহিদার বড় অংশই সংগ্রহ করা হয় কোরবানি দেয়া পশু থেকে। এই চামড়া অন্যান্য সময় সংগৃহীত পশুর চামড়া থেকে উন্নত মানের। বিপুল পরিমাণ চামড়ার সরবরাহ হওয়ায় ব্যবসায়ীরা এ সময় সব চামড়া নিজেদের নগদ অর্থে কিনতে পারেন না। তাই প্রতিবছরই ঈদ-উল-আযহার আগে চামড়া খাতে ঋণ বিতরণের জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী-শিল্পপতিরা তৎপর হন। ব্যবসায়ীরা ব্যাংকগুলোতে বিশেষত রাষ্ট্র মালিকানাধীন ব্যাংকগুলোতে ধরনা দিয়ে থাকেন। তবে তথ্যমতে, চামড়া খাতে ৪৫০ কোটি টাকার মতো খেলাপী ঋণ রয়েছে; যার বেশিরভাগই বিতরণ করা হয়েছিল নব্বইয়ের দশকের প্রথম ভাগে। বর্তমানে এই খাতে ঋণ আদায়ের হার আগের তুলনায় ভাল।