১০ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

সকল উপজেলা হাসপাতালে জরুরী প্রসূতি সেবা নিশ্চিত করার উদ্যোগ

  • প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি সরবরাহ করবে স্বাস্থ্য অধিদফতর

নিখিল মানখিন ॥ জরুরী প্রসূতি সেবা নিশ্চিত করতে দেশের সকল উপজেলা হাসপাতালে প্রয়োজনীয় আট ধরনের যন্ত্রপাতি সরবরাহ করবে স্বাস্থ্য অধিদফতর। স্বাস্থ্য অধিদফতরের উপপরিচালক প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরিচর্যা (পিএইচসি) ডাঃ পবিত্র কুমার শিকদার সম্প্রতি এক চিঠিতে দেশের সকল উপজেলা হাসপাতালে জরুরী প্রসূতি সেবার যন্ত্রপাতির চাহিদা রয়েছে কি-না তা জানতে চেয়ে চিঠি দিয়েছেন। স্বাস্থ্য অধিদফতর সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গর্ভকালীন অতিরিক্ত রক্তপাত মাতৃমৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ। বেশিরভাগ সরকারী স্বাস্থ্য সেবা কেন্দ্রে প্রাথমিক জরুরী প্রসূতি সেবা প্রদানের সুযোগ-সুবিধা নেই। গর্ভকালীন অতিরিক্ত রক্তপাত বন্ধ করতে প্রয়োজনীয় ওষুধ পাওয়া যায় না। ফলে গর্ভবতী মায়েরা সরকারী হাসপাতালে যেতে আগ্রহী হন না। আর জরুরী সেবা না পেয়ে অনেক প্রসূতির মৃত্যুর ঘটনাও ঘটছে।

জানা গেছে, জরুরী প্রসূতি সেবার জন্য ডায়াথারমি মেশিন, ডেলিভার টেবিল, ওটি টেবিল, পোর্টেবল ওটি লাইট উইথ চার্জার/সেন্টার স্পট লাইট, লেরিংগোস্কোপ, অটোক্লেব (ইলেক্ট্রিক) টেবিল টপ স্টিম স্টেরিলাইজার, প্রেসার স্টিম স্টেরিলাইজার (ইলেক্ট্রিক) ও স্টেরিলাইজার ফুয়েল হিটেড ২৪ লিটার ইত্যাদি যন্ত্রপাতি সরবরাহ করবে স্বাস্থ্য অধিদফতর। জরুরী প্রসূতি সেবায় ব্যবহৃত এসব যন্ত্রপাতি বর্তমানে সেন্ট্রাল মেডিসিন স্টোর ডিপোতে (সিএমএসডি) মজুদ রয়েছে। সিএমএসডি থেকে এসব যন্ত্রপাতি দ্রুত সরবরাহ করার তাগিদ দেয়া হলে স্বাস্থ্য অধিদফতর এগুলো উপজেলা হাসপাতালে পাঠানোর উদ্যোগ নেয়। অত্যাবশ্যক এসব যন্ত্রপাতি ক্রয় করাই বড় কথা নয়, এর যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত সম্ভব হলেই কেবল জরুরী প্রসূতি সেবা নিশ্চিত করা যাবে।

উপজেলা থানা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অনেক কর্মকর্তা জানান, উপজেলা হাসপাতালগুলোতে জরুরী প্রসূতি সেবা নিশ্চিত করতে হলে একজন গাইনি বিশেষজ্ঞ ও একজন এ্যানেসথেসিওলজিস্ট থাকা আবশ্যক। দেশের প্রায় ৫শ’ উপজেলা হাসপাতালের অধিকাংশেই ভাল যন্ত্রপাতিসমৃদ্ধ অস্ত্রোপচার কক্ষ রয়েছে, কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে কোথাও গাইনি থাকলে এ্যানেসথেসিওলজিস্ট থাকে না। আবার কোথাও এ্যানেসথেসিওলজিস্ট থাকে না। ফলে অত্যাবশ্যক যন্ত্রপাতি থাকলেও তা ব্যবহৃত হয় না।

হাসপাতালের চাহিদাপত্র ছাড়া কোন যন্ত্রপাতি কেনা হবে না -এ মর্মে গত বছর স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় একটি পরিপত্র জারি করেছিল। সে হিসেবে অত্যাবশ্যক যন্ত্রপাতি সিএমএসডিতে পড়ে থাকার কথা নয় কিংবা স্বাস্থ্য অধিদফতর থেকে ওই সব যন্ত্রপাতির চাহিদা রয়েছে কি-না জানতে চাওয়ারও কথা নয় বলে মন্তব্য করেন উপজেলা থানা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অনেক স্বাস্থ্য কর্মকর্তা। এদিকে মাতৃ ও শিশু মৃত্যুরোধে বাংলাদেশ উল্লেখযোগ্য সাফল্য লাভ করেছে। ১৯৯০ সালে প্রতি ১ লাখ জীবিত শিশু জন্ম দিতে গিয়ে ৫৭৪ মা মারা যেত। সর্বশেষ জাতিসংঘের জরিপে বর্তমানে ১৭০ জনে নেমে এসেছে। একই সময় ৫ বছরের কম বয়সী প্রতি ১ হাজার জীবিত শিশু মৃত্যুর হার ১৪৪ থেকে ৪১-এ নেমে এসেছে। বর্তমানে নবজাতকের মৃত্যুহার প্রতিহাজার জীবিত শিশুতে মাত্র ২৪ জন। স্বাস্থ্য অধিদফতরের কর্মকর্তারা বলছেন, নবজাতকের মৃত্যুহার রোধে নিরাপদ প্রসূতি সেবা অপরিহার্য। তাই উপজেলা হাসপাতালগুলোকে অধিকতর উপযোগী করে গড়ে তোলার প্রচেষ্টা চলছে বলে জানান অধিদফতরের কর্মকর্তারা।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দেশে প্রতি ৫ লাখ গর্ভবতী মহিলার প্রাথমিক জরুরী প্রসূতি স্বাস্থ্য সেবা প্রদানে সরকারীভাবে মাত্র ১ থেকে ২টি হাসপাতাল রয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মানদ- অনুযায়ী কমপক্ষে ৫টি সরকারী হাসপাতাল প্রয়োজন। এছাড়া দেশের অধিকাংশ সরকারী হাসপাতালে বিনামূল্যে গর্ভকালীন ও গর্ভোত্তর জরুরী প্রসূতি সেবা এবং নবজাতকের স্বাস্থ্য সেবা গ্রহণের সুযোগ খুবই সীমিত।