২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ব্রহ্মপুত্রের ভাঙ্গনে ৭ দিনে ॥ দু’শ পরিবার গৃহহারা

নিজস্ব সংবাদদাতা, গাইবান্ধা, ১৬ সেপ্টেম্বর ॥ বন্যার পানি কমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলায় ব্রহ্মপুত্র নদের ভাঙ্গনের তীব্রতা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। মাত্র এক সপ্তাহে ফুলছড়ির ফজলুপুর ইউনিয়নের উজালডাঙ্গা, চিকিরপটল ও কুচখালী গ্রামের দুই শতাধিক পরিবারের লোকজন নদী ভাঙ্গনের শিকার হয়ে বসতভিটা হারিয়েছে। ব্যাপক ভাঙ্গনের ফলে গ্রাম তিনটির অধিকাংশ এলাকা বিলীন হয়েছে।

এদিকে ভাঙ্গন এলাকায় বালুভর্তি জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙ্গন ঠেকানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। ব্রহ্মপুত্র নদের ডানতীরে সিংড়িয়া রক্ষা প্রকল্পের দক্ষিণাংশে ব্যাপক ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। ভাঙ্গন প্রতিরোধে জরুরী ভিত্তিতে পদক্ষেপ না নেয়া হলে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধটি নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এছাড়াও উপজেলার এরেন্ডাবাড়ী ইউনিয়নের তিনথোপা, আলগারচর, জিগাবাড়ি, সন্ন্যাসীর চর, হরিচ-ি, গজারিয়া ইউনিয়নের জিয়াডাঙ্গা, পূর্ব কাতলামারী, গলনা, উড়িয়া ইউনিয়নের রতনপুর, মধ্য উড়িয়া, কালাসোনা, উত্তর উড়িয়া, কাবিলপুর, কঞ্চিপাড়া ইউনিয়নের ছাতারকান্দি, রসুলপুর, হাড়ডাঙ্গা, পূর্ব কঞ্চিপাড়া ও উদাখালী ইউনিয়নের সিংড়িয়া গ্রামেও ব্যাপক আকারে নদী ভাঙন দেখা দিয়েছে। ব্রহ্মপুত্র নদের ডান তীরে পানি উন্নয়ন বোর্ডের সিংড়িয়া রক্ষা প্রকল্প এলাকার বাইরে দক্ষিণাংশে পানির স্রোতের তীব্রতা বৃদ্ধি পাওয়ায় ব্যাপক ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে।

চিকিরপটল মৌজার জিন্নাত আলী, সৈয়দ আলী, বাবলু ম-ল, রহমান শেখ, উজালডাঙ্গা মৌজার সাহেব আলী, ইয়াছিন আলী, কুচখালী মৌজার হাকিম উদ্দিন, বিল্লাল হোসেন, কলিম উদ্দিন, সিদ্দিক ম-ল, তমছের আলীসহ অনেকে আকস্মিক নদী ভাঙ্গনে ঘরবাড়ি হারিয়ে মাথা গোঁজার ঠাঁই খুঁজে পাচ্ছেন না। সরেজমিন ভাঙ্গনকবলিত এলাকায় গিয়ে এসব লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বন্যার পানি যেদিন থেকে কমতে শুরু করেছে সেদিন থেকেই ব্যাপক ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। অনেকে তাদের ঘরবাড়ি অন্যত্র সরাতেও পারেননি। গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-সহকারী প্রকৌশলী অরুণ কুমার সেন জানান, সিংড়িয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধটি রক্ষায় জরুরী ভিত্তিতে প্রায় ৭ হাজার বালুভর্তি জিওব্যাগ ডাম্পিং করা হয়েছে। এতে প্রকল্প এলাকায় আপাতত ভাঙ্গন ঠেকানো সম্ভব হয়েছে।

তিনি বলেন, স্রোতের গতি পরিবর্তনের ফলে প্রকল্প এলাকার বহির্ভূত সিংড়িয়ার দক্ষিণাংশে নতুন করে ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে।