২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

শিক্ষা উপকরণের টাকা কর্মকর্তাদের পকেটে

নিজস্ব সংবাদদাতা, শরীয়তপুর, ১৫ সেপ্টেম্বর ॥ সরকার শিক্ষাখাতকে গুরুত্ব দিয়ে শিক্ষা উপকরণ ক্রয় করার জন্য প্রতিটি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অনুকূলে ৫ হাজার টাকা করে বরাদ্দ দিয়েছে। সেই মতে শরীয়তপুরে মোট ৬৩৯টি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মোট ৩১ লাখ ৯৫ হাজার টাকা বরাদ্দ দিয়েছে সরকার। এই টাকা দিয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতির সমন্বয়ে শিশু শিক্ষা উপকরণ ক্রয় করার কথা থাকলেও কয়েকটি উপজেলার প্রাথমিক শিক্ষা অফিস থেকে এই টাকা ছাড় না দিয়ে নিজেরা নামমাত্র মূল্যের উপকরণ কিনে বাকি টাকা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার, উপজেলা শিক্ষা অফিসার ও উপজেলা সহকারী শিক্ষা অফিসারগণ যোগসাজশে এই টাকা পকেটস্থ করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

নড়িয়া উপজেলার বিভিন্ন বিদ্যালয় ঘুরে প্রধান শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নড়িয়া উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস উক্ত টাকা প্রধান শিক্ষকদের বরাবর ছাড় না দিয়ে নিজেরা শিশু শিক্ষা উপকরণ সরবরাহ করছে। এতে টাকার অনুপাতে শিক্ষা উপকরণের মধ্যে শুভঙ্করের ফাঁক রয়েছে। এই উপজেলায় মোট ১২৫টি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। উপজেলা শিক্ষা অফিস থেকে প্রতিটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সরবরাহ করা উপকরণের মূল্য থেকে সাতশ’ টাকার বেশি হবে না। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক প্রধান শিক্ষক বলেন, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের যোগসাজসে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার টাকা হাতিয়ে নিয়ে নামমাত্র মূল্যের শিক্ষা উপকরণ সরবরাহ করছেন। উপজেলার পূর্বনড়িয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা আসমা বেগম বলেন, সরকারী বরাদ্দকৃত টাকায় শিশু শিক্ষা উপকরণ উপজেলা অফিস কিনেছে, আমি তাদের কাছ থেকে এগুলো এনেছি। দিনারাহাট সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মতিউর রহমান বলেন, আমাদের সমিতির লোকেরা এর সঙ্গে জড়িত আছে, অনেকেই অফিস থেকে মালপত্র নিয়েছে, আমি এখনও আনিনি। নসাশন সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুলতান মাহমুদ স্বপন বলেন, আমি অফিসের কেনা ওই অল্প টাকার জিনিস আনিনি, আমি টাকা নিয়ে এসেছি, শিক্ষক সমিতির নেতাদের সঙ্গে মিলে উপজেলা শিক্ষা অফিসার শিক্ষকদের ভয়ভীতি দেখিয়ে মাত্র পাঁচ থেকে সাতশ’ টাকার জিনিস দিতেছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন শিক্ষক জানান, আমরা অফিসের কিনে দেয়া জিনিস আনতে চাইনি কিন্তু উপজেলা শিক্ষা অফিসারের ভয়ে শেষ পর্যন্ত না এনে পারিনি। এ ব্যাপারে নড়িয়া উপজেলা শিক্ষা অফিসার মহিউদ্দিনের সঙ্গে মুঠোফোনে বিষয়টি জানতে চাইলে, তিনি এ বিষয়ে কোন কথা বলতে অস্বীকৃতি জানান এবং এ প্রতিবেদককে তার অফিসে গিয়ে চা খাবার জন্য অনুরোধ করেন।

দক্ষিণাঞ্চলের ১৩ রুটে পাঁচ ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ

ট্রাক দুর্ঘটনা

স্টাফ রিপোর্টার, বরিশাল ॥ ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের গৌরনদী উপজেলার বাটাজোর এলাকায় বুধবার সকালে দুটি ট্রাকের মুখোমুখী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে বিদ্যুতের খুঁটি বোঝাই একটি ট্রাক সড়কের পাশে ছিটকে পড়ে। দুর্ঘটনার কারণে সকাল ছয়টা থেকে বেলা ১১টা পর্যন্ত দক্ষিণাঞ্চলের ১৩টি রুটে যানচলাচল বন্ধ থাকে। বেলা এগারোটার পর দুর্ঘটনাকবলিত ট্রাক দুটি সরিয়ে নিলে যানচলাচল স্বাভাবিক হয়। যানচলাচল বন্ধ থাকার কারণে মহাসড়কের দু’পাশে কয়েক হাজার যানবাহন আটকা পড়ে।

নির্বাচিত সংবাদ