১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

কোটি টাকা নিয়ে উধাও এজেন্সি

  • রূপগঞ্জে ফুঁসে উঠছেন প্রতারিত হজযাত্রী

নিজস্ব সংবাদদাতা রূপগঞ্জ, ১৬ সেপ্টেম্বর ॥ নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে প্রতারণার শিকার হজযাত্রী ও তাদের পরিবাররা ফুঁসে উঠতে শুরু করেছেন। কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে উধাও হওয়া হজ এজেন্সি কর্তৃপক্ষকে বের করে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী হজযাত্রীরা। উপজেলার অর্ধশতাধিক যাত্রীর সৌদি আরবে হজ করতে যাওয়া অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। হজ করতে ইচ্ছুক এসব যাত্রী কেউ জমি বিক্রি করে, কেউ বছরের পর বছর ধরে চাকরি বা ব্যবসা থেকে অর্থ উপার্জন করে যোগান দিয়েছেন। এখন হজে যেতে না পেরে এসব হজযাত্রীদের মাঝে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ভুক্তভোগী ও প্রতারিত এসব হজযাত্রী ও তাদের পরিবাররা মানববন্ধনসহ বিভিন্ন কর্মসূচীর মাধ্যমে আন্দোলনের আল্টিমেটাম দিয়েছেন।

স্থানীয় সূত্র ও প্রতারিত হজযাত্রীদের কাছ থেকে জানা গেছে, কাঞ্চন পৌরসভার কালাদি এলাকার ফজলুল হক মনি ও খলিল মিয়া নামে দুই ব্যক্তি এলাকায় প্রসেসিং ট্রাভেলস নামে একটি হজ এজেন্সি খুলে বসেন। আর এ এজেন্সিতে প্রায় অর্ধশতাধিক হজে যেতে ইচ্ছুক মুসল্লি টাকা ও পাসপোর্ট জমা দিয়েছেন। হঠাৎ করে ওই হজ এজেন্সি কোটি টাকা নিয়ে পলায়নের সংবাদ পেয়ে হজযাত্রী ও তাদের পরিবারের লোকজন হজ প্রসেসিং ট্রাভেলস নামে এজেন্সির কার্যালয়ে গিয়ে ভিড় জমান। সেখানে গিয়ে দেখতে পান কার্যালয় বন্ধ, কার্যালয়ে তালা ঝুলছে। সেখানে হজে যেতে না পারা বেশ কয়েক যাত্রী অসুস্থ হয়ে পড়েন। প্রতারিত হজযাত্রীদের মধ্যে কেন্দুয়াপাড়া এলাকার জলিল ও তার স্ত্রী খোরশেদা বেগম, আলাউদ্দিন ও তার স্ত্রী মোসলেমা, কেরাব এলাকার আজাহার দেওয়ান ও তার স্ত্রী, ডাঙ্গা এলাকার কামরুল ইসলাম ও তার স্ত্রী গুলশান আরা বেগম, জামিল উদ্দিন ও তার মা, কাঞ্চন এলাকার আওলাদ হোসেন ও তার স্ত্রী জাহানারা বেগম, কালাদী এলাকার নুরুল ইসলাম ও তার স্ত্রী, আরজু মিয়া ও তার স্ত্রী, নুরু মিয়ার স্ত্রী, কুলিয়াদি এলাকার ফিরোজ মিয়া ও তার স্ত্রী, চরপাড়া এলাকার সালাউদ্দিন এবং তার মা, মমিন উদ্দিন ও তার স্ত্রী, বিরাব এলাকার আলিমুদ্দিনসহ অর্ধশতাধিক যাত্রীর কাছ থেকে কোটি টাকা হাতিয়ে নেয় ওই এজেন্সি। এছাড়া গত ১৭ আগস্ট তাদের হজে গমনের তারিখ ছিল। ধার্যকৃত দিনে হজে নিতে না পারায় তারা এজেন্সির কর্তৃপক্ষের কাছে কৈফিয়ত চান। এরপর ফজলুল হক মনি ও খলিল মিয়া নামে ওই দুই ব্যক্তি রাজধানীর মতিঝিল এলাকার কেরাবিয়াল ট্রাভেলস ও সুপার এয়ার সার্ভিসের মালিক আজাদ মিয়ার কাছে হজযাত্রীদের নিয়ে যান। ওই সময় যাত্রীদের আজাদ মিয়া জানান, মদিনায় বাসা ভাড়া না পাওয়ায় তাদের ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। চলতি মাসের ৯ তারিখে হজযাত্রীদের হজ পালন করানোর জন্য সৌদি আরবে নিয়ে যাওয়া হবে। ওই তারিখ অনুযায়ী সবাই লাগেজপত্র গুছিয়ে নিয়ে প্রস্তুত হন। বিদায় নেন আত্মীয়স্বজন ও এলাকাবাসীর কাছ থেকেও। অনেকে কাঙালিভোজ আর মসজিদে মিলাদ ও দোয়ার আয়োজন করেন। কিন্তু গত ৮ সেপ্টেম্বর রাত থেকেই ফজলুল হক মনি ও খলিল মিয়াসহ এজেন্সি মালিক আজাদের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন বন্ধ পান হজযাত্রীরা। এতে সবার মধ্যে হতাশা নেমে আসে। ৯ সেপ্টেম্বর সকালে হজ গমনইচ্ছুকরা ছুটে যান মতিঝিল এলাকার হজ এজেন্সি সুপার এয়ার সার্ভিস ও কেরাবিয়াল ট্রাভেলসে। কিন্তু দুটি প্রতিষ্ঠানই তালাবদ্ধ করে লোকজন আগেই পালিয়ে যায়। পলায়নের ৬ দিন পার হয়ে গেলেও প্রতারকদের খুঁজে পাওয়া পাননি হজযাত্রীরা।