২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

যা পারেন ল্যাহেন, আড়াইশ’ টাকার কমে বিদ্যুত পাইবে না

  • কলাপাড়ায় চাঁদাবাজের দম্ভোক্তি

নিজস্ব সংবাদদাতা, কলাপাড়া, ১৬ সেপ্টেম্বর ॥ কলাপাড়ায় পল্লীবিদ্যুতের সদস্য ভর্তি ফির নামে লাখ টাকার চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠেছে। সদস্য ভর্তির নামে একেক জনের কাছ থেকে বিশ টাকার রশিদ দিয়ে হাতিয়ে নেয়া হচ্ছে দুই শ’ পঞ্চাশ টাকা। এ থেকে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানও বাদ পড়ছে না। লতাচাপলী ইউনিয়নের মাইটভাঙ্গা, পোনাউপাড়া ও লক্ষ্মীপাড়া গ্রামের ভুক্তভোগীরা এমনসব অভিযোগ করেছেন। সাধারণ মানুষ এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে আছে। জানা গেছে, কুয়াকাটা সংলগ্ন আমখোলাপাড়া সাবমেরিন কেবল ল্যান্ডিং স্টেশন থেকে লক্ষ্মীবাজার হয়ে মিশ্রিপাড়া পর্যন্ত চার কিলোমিটার এলাকা নতুন বিদ্যুত সংযোগের আওতায় আনা হচ্ছে। পল্লী বিদ্যুত সমিতি এসব এলাকার ৩৭৮ পরিবারকে তাদের সমিতির সদস্যভুক্ত হওয়ার জন্য উদ্যোগ নেয়। এ সুযোগে পল্লীবিদ্যুত সমিতির পরিচয়দানকারী একটি চক্র বিদ্যুতের নতুন সংযোগ নিতে আগ্রহীদের কাছ থেকে ২০ টাকার স্থলে ভর্তি ফি বাবদ ২৫০ টাকা করে আদায় করছে।

নোমাউপাড়া জামে মসজিদের মুসল্লি হাসেম জোমাদ্দার (৬৫) জানান, মসজিদের বিদ্যুত সংযোগ নিতে ২০ টাকার পরিবর্তে আড়াইশ টাকা দিতে হয়েছে। মাইটভাঙ্গা গ্রামের ফিরোজ খানসহ শতাধিক বিদ্যুত সংযোগ প্রত্যাশী এমন অভিযোগ করেছেন। স্থানীয় জাকির মোল্লা, আলী হোসেন খাঁ, লোকমান ও পল্লী বিদ্যুতের অনুমোদিত ইলেকট্রিশিয়ান একরামিন খান নতুন সদস্যদের কাছ থেকে এ টাকা উত্তোলন করছে। এদের সবাই পল্লী বিদ্যুতের দালাল হিসাবে চেনেন। ভুক্তভোগীরা আরও জানান, ২০ টাকার রসিদ দিয়ে দুইশ’ পঞ্চাশ টাকা কেন আদায় করা হচ্ছে এমন প্রশ্ন করলে তাকে বিদ্যুত সংযোগ না দেয়ার হুমকি দেয়া হয়েছে। এমনকি এ দালালচক্র এটি উপরের নির্দেশ বলে আগ্রহী গ্রাহকদের জিম্মিদশায় ফেলেছে।

পোনাউপাড়া গ্রামের আদায়কারী লোকমান হোসেন জানান, পল্লী বিদ্যুত সমিতির ইলেকট্রিশিয়ান একরামিনের কথায় সদস্য প্রতি আড়াইশ’ টাকা আদায় করছি। আপনারা (সাংবাদিক) যা পারেন ল্যাহেন, আড়াইশ’ টাকার এক টাকা কম দিলেও বিদ্যুত পাইবে না। একরামিন খানের সঙ্গে বহু দফা চেষ্টা করেও কথা বলা সম্ভব হয়নি। এ এলাকার দায়িত্বপ্রাপ্ত পটুয়াখালী পল্লী বিদ্যুত সমিতির পরিচালক মোঃ জিসান হায়দার আলমগীর জানান, ২০ টাকা সদস্য ভর্তি ফি ছাড়া কাউকে কোন টাকা দিতে হবে না। পল্লী বিদ্যুত সমিতি কলাপাড়ার ডিজিএম লিয়াকত আলী জানান, কাউকে বাইরে বসে টাকা দেয়ার সুযোগ নেই। প্রত্যেককে সরাসরি অফিসে এসে টাকা দিয়ে রসিদ সংগ্রহ করার পরামর্শ দেন।