২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

‘ওগো জন্যি যত বদনাম’

স্টাফ রিপোর্টার, বাগেরহাট ॥ ‘শেখ হাসিনা ঠিকই দেয়- পাতি নেতারা কেড়ে নেয়, ওগো জন্যি যত বদনাম।’ বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলার ভিজিডি সুবিধাভোগী অসচ্ছল রেনু বেগম ৩০ কেজির পরিবর্তে ২৩ কেজি চাল পেয়ে ক্ষোভের সঙ্গে এ কথা বলেন।

মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয় ১৮ থেকে ৪৫ বছর বয়সী হতদরিদ্র, অসহায় ও অসচ্ছল মহিলাদের প্রতি মাসে ৩০ কেজি করে চাল দেয়। মঙ্গলবার ওই চাল হোগলাবুনিয়া ইউনিয়নের ১৯৯টি অসচ্ছল পরিবারের মাঝে বিতরণ করা হয়। ইউনিয়ন পরিষদ থেকে জনপ্রতি এক বস্তা চাল দেয়া হয়। খাদ্য অধিদফতরের ওই বস্তায় লেখা রয়েছে ৩০ কেজি। কিন্তু সুবিধাভোগীরা পরিষদের বাইরে গিয়ে ডিজিটাল মাপযন্ত্রে তুলে দেখেন বস্তায় আছে মাত্র ২৩ কেজি।

এ অবস্থা দেখে সুবিধাভোগীরা ক্ষুব্ধ হন। প্রতিবাদ করলে তালিকা থেকে নাম বাদ পড়বে। অন্যান্য রাষ্ট্রীয় সুবিধা থেকেও বঞ্চিত হতে হবে এই ভয়ে অনেকে নীরব। নির্বাচন আসন্ন তাই অনেকে মুখ খুলছেন। ন্যায্য পাওনাটুকু পেতে চান তারা।

ক্ষুব্ধ সুবিধাভোগীরা এই ঘটনাটি স্থানীয় সংসদ সদস্য ডাঃ মোজাম্মেল হোসেনকেও জানিয়েছেন। তিনি বলেন, হতদরিদ্রদের ন্যায্য অধিকার শতভাগ বুঝিয়ে দিতে হবে। উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার ও আওয়ামী লীগ সহ-সভাপতি মোঃ লিয়াকত আলী খানও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, তৃণমূল পর্যায়ের কিছু অসঙ্গতির কারণে সরকারের দুর্নাম হচ্ছে। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ ওবায়দুর রহমান বুধবার বলেন, চাল কম দেয়ার ঘটনাটি শুনেছি। সংশ্লিষ্ট ট্যাগ অফিসারকে সতর্ক করেছি এবং খতিয়েও দেখা হবে।

এই ভিজিডির চাল বিতরণের সময় ইউনিয়ন ট্যাগ অফিসার উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা অনুপম রায় উপস্থিত ছিলেন না। তিনি ছুটিতে আছেন। তার পক্ষে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মিজানুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।

বস্তায় চাল কম কেন জানতে চাইলে ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আলহাজ ছরোয়ার হোসেন বলেন, কয়েক দফা ওঠানামা করায় বস্তা থেকে চাল পড়ে কমে যায়। অনেক বস্তা ছেঁড়া থাকে। আবার ইঁদুরে বস্তা কেটে ফেলায় অনেক বস্তা থেকে চাল পড়ে গেছে। যারা বস্তায় চাল কম পেয়েছে তাদের ডেকে বাকি চাল দিয়ে দেয়া হবে বলে জানান তিনি।

শিমুলিয়া-কাউড়াকান্দি ॥ ২৭ দিন পর রো রো ফেরি চালু

স্টাফ রিপোর্টার, মুন্সীগঞ্জ ॥ শিমুলিয়া (মাওয়া)-কাওড়াকান্দি নৌরুটে দীর্ঘ ২৭ দিন পর বুধবার রো রো ফেরি চলাচল শুরু হয়েছে। পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী খননকাজের জন্য পাঁচ দিন বন্ধ থাকার পর বুধবার পদ্মার লৌহজং টার্নিং পয়েন্ট খুলে দেয়া হয়েছে। তবে রো রো ফেরিসহ এখনও ফেরি চলছে সীমিত আকারে। বুধবার সাতটি ফেরি পরীক্ষামূলভাবে লৌহজং টার্নিং পয়েন্ট দিয়ে একমুখী (ওয়ানওয়ে) পথে চলাচল করেছে।

বিআইডব্লিউটিসির এজিএম এসএম আশিকুজ্জামান জানান, নাব্য সঙ্কট ও পদ্মায় অতিরিক্ত স্রোতের কারণে বন্ধ হয়ে যাওয়া তিনটি রো রো ফেরি আবারও চলাচল শুরু করেছে। লৌহজং টার্নিং পয়েন্টের কাছে ডুবোচরে ড্রেজিংয়ের জন্য বিআইডব্লিউটিএ গত ১১ হতে ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এ চ্যানেল বন্ধ ঘোষণা করে। ফলে ফেরি চলাচলে নেমে আসে অচলাবস্থা। কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ যানবাহনের কথা বিবেচনা করে নতুন চ্যানেল পালেরচর-মাঝিকান্দি দিয়ে মাত্র তিনটি ফেরি চলাচলের মাধ্যমে সীমিত আকারে হলেও নৌপথ সচল রাখা হয়। প্রথম স্তর ড্রেজিংয়ের পর লৌহজং টার্নিং পয়েন্ট খুলে দেয়া হয়েছে।