১০ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ঈদের অডিও এ্যালবামের হালচাল

গুরু-শিষ্যর দ্বৈত এ্যালবাম : বাউল শফি ম-লকে গুরু হিসেবেই মানেন কণ্ঠশিল্পী সালমা। সাত-আট বছর বয়স থেকেই সালমা তাঁর কাছে গান শেখেন, শিখছেন এখনও। সম্পর্কটা এখন শুধু গুরু-শিষ্যই নয়, আরও বেশিকিছু। বাবা-মেয়ের মতোই। সালমার অনেক গানের পেছনে শফি ম-লের প্রচেষ্টা আছে। তাঁর কথা-সুরে সালমা গান গেয়েছেন, আছে দুজনের দ্বৈতও। এবার পুরো এ্যালবামই শুনতে পাবে শ্রোতারা।

মোট ১০টি গান থাকবে তাতে। শফি ম-লের পাঁচটি, বাকিগুলো সালমার। গানগুলো প্রস্তুত। তবে এ্যালবামের নাম এখনও ঠিক করে উঠতে পারেননি সালমা। বললেন, ‘গুরু দেশের বাইরে আছে। দিনকয়েক পরই ফিরবেন। তারপরই আলোচনা করে নাম ঠিক করা হবে।’

এস আই টুটুলের ‘আকাশ উধাও’ : দশটি গান দিয়ে সাজানো হচ্ছে এ্যালবামটি। সবগুলো গানের কাজ প্রায় শেষ। গানগুলো লিখেছেন- কবির বকুল, জাহিদ আকবর, রঞ্জু রেজা, জয়, লিটন ঘোষ, কায়েস চৌধুরী এবং এস আই টুটুল নিজেই। ‘আকাশ উধাও’ সম্পর্কে তিনি বললেন, ‘নতুন এ্যালবাম নিয়ে সব শিল্পীরই ইতিবাচক প্রত্যাশা থাকে। আমিও এর ব্যতিক্রম নই। মূলত আমি যে ধরনের সঙ্গীত পরিবেশন করি, সে ধরনের গান নিয়েই এ্যালবামটি সাজাচ্ছি। তবে, গানগুলোর কথা ও সঙ্গীতায়োজনে কিছুটা ভিন্নতা খুঁজে পাওয়া যাবে। আশা করছি স্থবির অডিও বাজারে এ্যালবামটির গানগুলো শ্রোতাদের মুগ্ধ করবে।’

তাহাদের ‘বেঁচে থাকার গান’ : ‘আরশিনগর ঠিকই আছে, কোথায় লালন সাঁই..’ এমনই কথায় বাপ্পা মজুমদার খুঁজে বেড়াচ্ছেন লালনকে। দিনাত জাহান মুন্নী বলছেন, ‘এ দেশ ছেড়ে আমি কোথায় যাব?’ আর, পান্থ কানাই নাগরিক যন্ত্রণা এড়িয়ে বেঁচে থাকার উপায় খুঁজছেন। তাদের সঙ্গে যোগ দিয়েছেন নিশিতা বড়ুয়া, স্বচ্ছ কাচে আবছায়া জল নিয়ে অচেনা কারও অপেক্ষায়।

সবই ঘটছে শব্দে আর সুরে, গানে গানে। নবাব আমিনের কথায় ও সুমন কল্যাণের সুর-সঙ্গীতায়োজনে ওরা চারজন ছাড়াও ‘বেঁচে থাকার গান’ এ্যালবামটিতে কণ্ঠ দিয়েছেন ঝাঁঝালো কণ্ঠের তরুণ ঐশী এবং সুমন কল্যাণ নিজেও।

বাপ্পা মজুমদার ও পান্থ কানাই-এর সঙ্গে গান গাওয়া প্রসঙ্গে দিনাত জাহান মুন্নী বললেন, ‘বাপ্পা দা এবং পান্থ কানাই দুজনই আমার পছন্দের শিল্পী। তাদের সঙ্গে একই এ্যালবামে বন্দী হতে পেরে ভাল লাগছে। নিশিতা বড়ুয়া বললেন, ‘এত গুণীর সঙ্গে কাজ করতে পারা সৌভাগ্যের।’

ন্যান্সির চতুর্থ একক : ঈদ উপলক্ষে ‘সাউন্ডটেক’ থেকে আসছে ন্যান্সির চতুর্থ এ্যালবামটি। এ নিয়ে তিনি বেশ উচ্ছসিত। বললেন, ‘আমার তৃতীয় একক এ্যালবামটি তৈরির পর ভালভাবেই টের পেয়েছিলাম শিল্পীদের এ্যালবাম প্রকাশে সবখানেই এক ধরনের অনীহা কাজ করছে। একটা পর্যায়ে তো মনেই হয়েছিল যে, আর বুঝি গান গাওয়াই সম্ভব হবে না। কিন্তু, এখন সে ধারণার পুরোপুরি পরিবর্তন ঘটেছে। নতুন এ্যালবাম নতুন করে আশা জাগিয়েছে মনে।’

মিষ্টিকণ্ঠী এ শিল্পী আরও বললেন, ‘গানের বহুমাত্রিক ব্যবসার দরজা প্রসারিত হওয়াতে হয়ত এমনটা সম্ভব হচ্ছে। সব মিলিয়ে আমি বলতে পারি, অডিও ইন্ডাস্ট্রির সুবাতাস বইতে শুরু করেছে।’

ন্যান্সির নতুন এ্যালবামটির কাজ চলছে ভালভাবেই। তবে, নাম ঠিক হয়নি এখনও। এ এ্যালবামের সবগুলো গানের কথা বেরিয়েছে আহমেদ রিজভীর কলম থেকে। সঙ্গীতায়োজনে আছেন শওকত আলী ইমন, নাজির মাহমুদ, শফিক তুহিন প্রমুখ।

তিনজনের ‘খুব খেয়াল কইরা’ : সাংবাদিক ও গীতিকার ইশতিয়াক আহমেদ তিন শিল্পীকে নিয়ে সাজিয়েছেন তাঁর কথায় নতুন মিশ্র এ্যালবাম, ‘খুব খেয়াল কইরা’। এই লাইনটি খুব প্রচলিত, তবে গানের এ্যালবামের ক্ষেত্রে নাম হিসেবে একটু অদ্ভুত। সালমা, সজল ও ঐশীর কণ্ঠবাণে পরিপূর্ণ এই ‘খুব খেয়াল কইরা’। এ্যালবামটির বিশেষত্ব হচ্ছে, সবই লোকগান। তবে অন্যান্য এ্যালবামের তুলনায় এতে গানের সংখ্যাও কম। মাত্র ছয়টি।

সব গানের সুর করেছেন লুৎফর হাসান। সঙ্গীতায়োজন করেছেন শাহরিয়ার মার্শেল ও রেজওয়ান শেখ। ‘ঈগল মিউজিক’ বাজারে আনছে এ্যালবামটি।

শফিক তুহিন, ইমরান ও বেলাল খানের ‘প্রেমকাব্য’ : এই তিন সঙ্গীতশিল্পীর মিশ্র এ্যালবাম এটি। প্রত্যেকের তিনটি করে গান থাকছে প্রেমকাব্যে। এর মধ্যে দুটি করে একক ও একটি করে দ্বৈত। শফিক তুহিন, ইমরান ও বেলালের পাশাপাশি এ্যালবামের গানগুলোর সুর-সঙ্গীত করেছেন সজীব দাশ, ফাজবীর তাজ, মার্শাল, অয়ন চাকলাদার ও রেজওয়ান। সবগুলো গান ফয়সাল রাব্বিকীনের লেখা।