২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

কাজ না করলে শাস্তি, এ বার মন্ত্র মোদীর

অনলাইন ডেস্ক ॥ কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীদের জন্য ৬% মহার্ঘ ভাতা ঘোষণা করেছেন আগের বুধবার। তার ঠিক সাত দিনের মাথায় আজ তাঁদের ঘাড়ে শাস্তির খাড়া ঝুলিয়ে দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী!

স্বচ্ছ ও দক্ষ প্রশাসন দিতে চান, গতি আনতে চান সরকারি কাজে— কথাগুলি তিনি কেন্দ্রে ক্ষমতায় আসার আগে থেকেই বলে আসছেন। প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পরপরই সরকারি দফতর সম্পর্কে আম দেশবাসী ও বিনিয়োগকারীদের ধারণাটাই আমূল বদলে দিতে তিনি কর্মীদের সময়ে আসা, দফতর পরিচ্ছন্ন রাখা, এ সবের উপরে জোর দিয়েছিলেন। এ বার নজর দিতে চান কাজের মান ও গতির দিকে।

সরকারি কর্মীদের কাজের মূল্যায়ন নতুন কোনও ঘটনা নয়। কিন্তু তার যে গত বাঁধা পদ্ধতি চালু রয়েছে, তারই খোলনলচে বদলে ফেলতে চাইছেন প্রধানমন্ত্রী। সমস্ত মন্ত্রক ও বিভাগকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, প্রতিটি অফিসারের কাজের মূল্যায়ন করতে হবে। কারা কতটা কাজ করছেন, কারা করছেন না। কাদের প্রয়োজন আছে। কাদের নেই। এই তালিকা তৈরি করে প্রত্যেকের কাজের পর্যালোচনা করতে হবে। ‘অকেজো’ প্রমাণিত হলে শাস্তি অবধারিত। ‘অকেজো’ কর্মীদের জনস্বার্থে বাধ্যতামূলক অবসর নেওয়ানো যায়। কিন্তু তার জন্য কর্পোরেট সংস্থার ধাঁচে কর্মীদের কাজের নিরন্তর মূল্যায়ন জরুরি। সেটাই করতে চাইছে মোদী সরকার।

কী ভাবে?

সরকারি সূত্রের খবর, প্রত্যেকের নামে এক একটি ফাইল হবে। কোন অফিসার কী ভাবে সরকারি ফাইল দেখেছেন, কোনও রিপোর্ট তিনি তৈরি করেছেন কি না, করলে কতটা ভাল রিপোর্ট হয়েছে। এই ধরনের সব তথ্য দেওয়া থাকবে ওই ফাইলে। এর পর সেই সব ফাইল নিয়ে পর্যালোচনা হবে। গ্রুপ-এ অফিসারদের জন্য সেটা করা হবে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রকের সচিব পর্যায়ে। যেখানে বোর্ড রয়েছে (‌যেমন রেলওয়ে বোর্ড, সিবিডিটি, সিবিইসি, টেলিকম কমিশন), সেখানে পর্যালোচনা করবেন বোর্ড চেয়ারম্যান। যেখানে এ ধরনের বোর্ড নেই, সেখানে মন্ত্রক বা বিভাগের সচিবরাই খতিয়ে দেখবেন ফাইল। গ্রুপ-বি গেজেটেড অফিসারদের ফাইল অতিরিক্ত সচিব বা যুগ্ম সচিবরা এবং নন-গেজেটেড অফিসারদের ফাইল যুগ্ম সচিব বা তাঁর নীচের কর্তৃপক্ষ পর্যালোচনা করে দেখবেন। সরকারি সূত্রের মতে, যদি কোনও অফিসারকে ‘অকেজো’ বলে মনে হয়, তাঁকে বাধ্যতামূলক অবসর নেওয়ার কথাও বলা যেতে পারে। কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীদের নিয়মেও বলা আছে, যদি প্রশাসনের ক্ষেত্রে কোনও কর্মীর উপযোগিতা না থাকে, জনস্বার্থে তাঁকে বাধ্যতামূলক অবসর নিতে বলা যেতে পারে।

সরকারি কর্মীদের সকলেই যে একে খোলা মনে স্বাগত জানাতে তৈরি, এমনটা অবশ্য নয়। মূল্যায়ন ও তার ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে নিরপেক্ষতা বজায় থাকবে কি না সেই প্রশ্নও তুলছেন কেউ কেউ। মোদীর এই তৎপরতার মধ্যে রাজনীতির গন্ধ দেখছে কংগ্রেস। দলের নেতা আনন্দ শর্মা বলেন, ‘‘প্রধানমন্ত্রী আগে বলেছিলেন, আমলাতন্ত্রে তিনি হস্তক্ষেপ করতে চান না। কিন্তু এখন তো তিনি রীতিমতো ভয় দেখাচ্ছেন আমলাদের।’’

বিজেপি অবশ্য একে ‘রুটিন’ বিষয় বলে এড়িয়ে যেতে চেয়েছে। দলীয় সূত্রের মতে, মোদী প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর থেকেই প্রশাসনে গতি আনতে চেয়েছেন। আমলাদের বিষয়ে তিনি হস্তক্ষেপ করছেন না। কিন্তু তাঁদের পারদর্শিতা বাড়াতে চাইছেন। এত দিন সরকারি কর্মীদের অনেকেই সময়ে দফতরে আসতেন না। সেই রেওয়াজ বন্ধের চেষ্টা হয়েছে শুধুমাত্র পারদর্শিতা বাড়াতেই। লালকেল্লা থেকেও প্রধানমন্ত্রীকে বলতে হয়েছে, সরকারি কর্মীরা সময়ে অফিস আসছেন, সেটিও খবর হচ্ছে। এতেই বোঝা যায়, স্বাধীনতার পর দীর্ঘদিনের কংগ্রেস শাসনে সরকারি কর্মসংস্কৃতি কোথায় গিয়ে দাড়িয়েছে। সরকারের প্রতি মানুষের আস্থা হারিয়েছে।

সেই আস্থা ফেরানোই সরকারের মূল লক্ষ্য।

কাল মোদীর জন্মদিন। দিল্লি জুড়ে প্রদর্শনী, চক্ষু ও রক্তদান শিবিরের আয়োজন করা হবে। দিল্লি বিজেপির উদ্যোগে দৌড়ও হবে রাজপথে। নাম দেওয়া হয়েছে ‘উন্নয়নের দৌড়’। বিজেপির বক্তব্য, বাস্তবের মাটিতে এই দৌড় অর্থবহ করে তুলতে পারে গতিশীল প্রশাসন। জন্মদিনের আগে দেশবাসীকে সেটাই উপহার দেওয়ার আশ্বাস দিলেন প্রধানমন্ত্রী।

সূত্র : আনন্দবাজার পত্রিকা