২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

৩ দিনের রিমান্ডে হামজা বিগ্রেড সদস্য

৩ দিনের রিমান্ডে হামজা বিগ্রেড সদস্য

নিজস্ব সংবদদাতা, বাঁশখালী ॥ জঙ্গি সংগঠন ‘হামজা বিগ্রেড’এর ফের এক সদস্যকে বাঁশখালী আদালতে হাজির করেছে র‌্যাব। জঙ্গি সদস্য মোঃ আনোয়ারকে বৃহস্পতিবার দুপুরে বাঁশখালী সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে হাজির করে ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন করেছে র‌্যাব। রিমান্ড শুনানী শেষে বিজ্ঞ আদালত অভিযুক্ত আসামীর বিরুদ্ধে ৩ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে। বাঁশখালী সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট মোঃ সাজ্জাদ হোসেনের আদালতে ঐ জঙ্গি সদস্যকে হাজির করে রিমান্ড আবেদন করে র‌্যাব। রিমান্ড শুনানীতে সরকার পক্ষে কৌশুলী অতিরিক্ত পিপি এ্যাড. বিকাশ রঞ্জন ধর ও বাঁশখালী আদালতের বার কাউন্সিলের সাধারণ সম্পাদক এ্যাড.আ.ন.ম শাহাদত আলম অংশ নেন। অপরদিকে আসামীপক্ষে কোন আইনজীবি শুনানীতে অংশগ্রহণ ও জামিন প্রার্থনা করেনি।

শুনানী চলাকালে আসামী নিজেই আদালতকে বক্তব্য প্রদান করে বলেন, আমি কোন ধরণের জঙ্গি কর্মকান্ডের সাথে জড়িত নয়। আমি ষড়যন্ত্রের শিকার। চট্টগ্রাম বন্দরে চাকুরি করি। আমার সাথে ‘হামজা বিগেড’এর কোন ধরণের সম্পর্ক নেই।

আটক জঙ্গি সদস্য মোঃ আনোয়ার কুমিল্লা জেলার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার মোঃ কুদ্দুছের পুত্র। বাঁশখালী সাধনপুর লটমনি পাহাড়ে অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ঐ মামলায় তাকে আটক দেখানো হয়েছে বলে জনকন্ঠকে নিশ্চিত করেছে মামলার বাদী র‌্যাবের এএসপি রুহুল আমিন।

র‌্যাব সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরের ফেব্র“য়ারী মাসে চট্টগ্রাম নগরীর হালিশহর এলাকায় র‌্যাব “শহীদ হামজা ব্রিগ্রেড”এর একটি জঙ্গি আস্তানায় অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমান বোমা, অস্ত্র, গোলাবারুদ তৈরীর খারখানা আবিস্কার করে। এ ঘটনায় র‌্যাবের পক্ষ থেকে মামলা দায়ের করা হয়। মামলা দায়েরের পর জঙ্গি সদস্য আনোয়ারকে ঐ এলাকা থেকে গ্রেফতার করে র‌্যাব। গ্রেফতারের পর তাকে চট্টগ্রাম জজ আদালতে হাজির করে রিমান্ডে নেয় র‌্যাব-৭। পরে সে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি প্রেরণ করেন ঐ আদালতে।

পরবর্তীতে বাঁশখালীর সাধনপুর লটমনি পাহাড়ে বিপুল পরিমান অস্ত্র, গোলাবারুদ, গ্রেনেড ও যুদ্ধ সরঞ্জামসহ প্রশিক্ষণ কেন্দ্র আবিস্কার করে র‌্যাব। অভিযানে ঐ জঙ্গি আস্তানা থেকে ৫ জঙ্গিকে আটক করে র‌্যাব। এ মামলায় মোঃ আনোয়ারকে আটক দেখিয়ে রিমান্ডে নিয়েছে র‌্যাব।

রাষ্ট্রপক্ষের কৌশুলী অতিরিক্ত পিপি এ্যাড. বিকাশ রঞ্জন ধর জানান, জঙ্গি সংগঠন ‘শহীদ হামজা ব্রিগ্রেড’এর অন্যতম সদস্য মোঃ আনোয়ার। সে প্রত্যক্ষভাবে জঙ্গি কর্মকান্ডের সাথে জড়িত বিধায় সুষ্ঠ তদন্তেরস্বার্থে আমরা আদালতে ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন করেছি। বিজ্ঞ আদালত আমাদের আবেদন আমলে নিয়ে ৩ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে আসামীর বিরুদ্ধে। তাছাড়া মোঃ আনোয়ার হালিশহর ঐ জঙ্গি কারখানায় অস্ত্র, গোলাবারুদ তৈরীতে সহযোগিতা করার সুস্পষ্ঠ অভিযোগ পাওয়া গেছে।

বাঁশখালীর লটমনি পাহাড়, হালিশহর বোমা তৈরীরর কারখানা ও হাটহাজারীর একটি মাদ্রাসা ‘শহীদ হামজ ব্রিগেড’এর জঙ্গি কর্মকান্ড পরিচালনার শাখা হিসেবে ব্যবহার হয়ে আসছিল। এ ৩টি শাখার মুল পরিচালক হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন মনিরুজ্জমান ডন। এর পূর্বে সুপ্রিমকোর্টের ৩ আইনজীবি ও এক ব্যবসায়ী এ আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি প্রেরণ করেছে।

উল্লেখ্য, ‘শহীদ হামজা ব্রিগেড’ জঙ্গি সংগঠনের ৩টি শাখা রয়েছে। ৩টি শাখায় ৭ জন করে পরিচালক রয়েছে। বাঁশখালীর সাধনপুর লটমনি পাহাড়ে গত ফেব্র“য়ারী মাসে জঙ্গি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ও বিপুল পরিমান অস্ত্র, গোলাবারুদ, যুদ্ধ সরঞ্জাম সহ ৫ জনকে আটক করে র‌্যাব। জঙ্গি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ও জঙ্গি আটকের ঘটনায় র‌্যাবের পক্ষ থেকে মামলা দায়ের করা হয়। এ মামলায় রিমান্ড শেষে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবি ব্যারিষ্টার শাকিলা ফারজানা ও তার দুই সহযোগী এবং ঢাকার গার্মেন্টস ব্যবসায়ী জঙ্গি অর্থায়নের দায় স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় বাঁশখালী সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে জবানবন্দি প্রদান করেছে।