২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

লাব্বায়েক আল্লাহুম্মা লাব্বায়েক

লাব্বায়েক আল্লাহুম্মা লাব্বায়েক

অধ্যাপক মনিরুল ইসলাম রফিক ॥ পবিত্র জিলহজ মাস আমরা অতিবাহিত করে চলেছি। কুরআনুল কারীম ও হাদীস শরীফের বিভিন্ন স্থানে এ মাসে হজ ও কোরবানির পাশাপাশি নফল ইবাদত ও নফল রোজা প্রভৃতির তাগিদ রয়েছে। তৃতীয় যে ইবাদতটি এ দিনগুলোতে পালনের জন্য রাসূলুল্লাহ (সা) উৎসাহ দিয়েছেন তা হলো জিকর। তাবারানী, বাইহাকী ও অন্যান্য মুহাদ্দিস সংকলিত হাদীসে বর্ণিত হয়েছে :

‘জিলহজ মাসের প্রথম দশ দিনের চেয়ে আল্লাহর নিকট অধিক মর্যাদাময় কোন দিন নেই এবং নেক আমল করার জন্য এগুলোর চেয়ে বেশি প্রিয় দিন আর নেই। অতএব তোমরা এ দিনগুলোতে বেশি বেশি তাসবীহ (সুবহানাল্লাহ), তাহমীদ (আলহামদু লিল্লাহ), তাহলীল (লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ) ও তাকবীর (আল্লাহু আকবার) আদায় করবে। এ মাসের কোরবানিপরবর্তী তিন দিন ১১, ১২ ও ১৩ তারিখে আল্লাহর জিকরের নির্দেশ দিয়ে আল্লাহতায়ালা ইরশাদ করেন :

ওয়াজ কুরুল্লাহা ফী আয়্যামিম মা’দুদাত ফামান তাআযযালা ফী ইয়াওমাইন ওমান তাআখখরা ফালা ইসমা আলাইহ...। অর্থাৎ ‘তোমরা নির্দিষ্টসংখ্যক দিনগুলোতে আল্লাহর জিকর করবে। যদি কেউ তাড়াতাড়ি করে দুই দিনে চলে আসে তবে তার কোন পাপ নেই, আর যদি কেউ বিলম্ব করে তবে তারও কোন পাপ নেই, এটি ওই ব্যক্তির জন্য যে ব্যক্তি তাকওয়া অবলম্বন করে।’

এ নির্দেশের ভিত্তিতে হাজীগণ ৯ তারিখে আরাফার মাঠে, ১০ তারিখে মুযদালিফা ও মিনার মাঠে হজের আনুষ্ঠানিকতার মাধ্যমে আল্লাহর জিকর সম্পন্ন করার পর ১১, ১২, ও ১৩ অথবা ১১ ও ১২ জিলহজ মিনার প্রান্তরে অবস্থান করে আল্লাহর জিকর করেন। আর যারা হজে যান না অর্থাৎ সারাবিশ্বের সকল মুসলিম এ আয়াতের নির্দেশ অনুসারে জিলহজ মাসের ৯ তারিখ আরাফার দিবস থেকে ১৩ তারিখ পর্যন্ত প্রত্যেক সালাতের পরে আল্লাহর জিকর করেন। আল্লাহর জিকর অর্থ ইচ্ছামতো আল্লাহর নাম জপ করা নয়। বরং যেখানে যেভাবে জিকর করতে রাসূলুল্লাহ (সা) শিক্ষা দিয়েছেন সেভাবে জিকর করা। সুন্নাতের শিক্ষা অনুসারে এ ৫ দিনে মোট ২৩ ওয়াক্ত সালাতের শেষে ‘আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ। ওয়াল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার ওয়ালিল্লাহিল হামদ’ বাক্য একবার সশব্দে বলতে হবে।

এভাবে আমরা দেখছি যে, জিলহজ মাসের প্রথম ১৩ দিন বিশেষভাবে আল্লাহর জিকিরের জন্য নির্ধারিত। ‘জিকর অর্থ স্মরণ করা বা স্মরণ করানো। যে কোন প্রকারে মনে, মুখে, অন্তরে, কর্মের মাধ্যমে, চিন্তার মাধ্যমে, আদেশ পালনের মাধ্যমে বা নিষেধ মান্য করার মাধ্যমে আল্লাহর নাম, গুণাবলী, বিধিবিধান, তার পুরস্কার, শাস্তি ইত্যাদি স্মরণ করা বা এ সকল বিষয়ে ওয়াজ, দাওয়াত বা আলোচনা করে অন্যকে স্মরণ করানো সবই আল্লাহর জিকর। তবে কুরআন ও হাদীসে বিশেষ ইবাদত হিসেবে জিকরের পারিভাষিক অর্থ হলো রাসূলুল্লাহ (সা)-এর শেখানো আল্লাহর মর্যাদা জ্ঞাপক বিশেষ বাক্যাদি মুখে উচ্চারণ ও আউড়ানোর মাধ্যমে আল্লাহর জিকর করা। যেমন সকল দু’আ বা প্রার্থনাকেই আরবীতে সালাত বলা হয়, তবে সাধারণ দু’আর মাধ্যমে ‘সালাত’ নামক পারিভাষিক ইবাদত পালন হবে না। জিকরের গুরুত্ব সম্পর্কে সহীহ হাদীসে এসেছে :

‘যে ব্যক্তি ফজরের সালাত জামাতে আদায় করবে, এরপর বসে সূর্যোদয় পর্যন্ত আল্লাহর জিকররত থাকবে। অতঃপর সে দুই রাক’আত সালাত আদায় করবে, সে একটি হজ ও একটি ওমরার সাওয়াব পাবে, পরিপূর্ণ, পরিপূর্ণ, পরিপূর্ণ।’ তিরমিযী, আস-সুনান ২/৪৮১।

আসুন, নানা প্রকার জিকরের মাধ্যমে এ মাসের প্রথমদিকে নিজেকে আল্লাহর ঘনিষ্ঠতায় পৌঁছানোর চেষ্টা করি।