২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

উবাচ

বোঝা বড় কঠিন!

স্টাফ রিপোর্টার ॥ মাসের প্রথম সপ্তাহে সরকারের বিরুদ্ধে তিনি এক হাত নিলেন। বললেন দেশ অন্ধকার যুগে, গণতন্ত্রহীনা বাংলাদেশ। সংসদ থেকে দূরে থাকা বিএনপি কথাগুলো শুনে আবেগে মায়া কান্না শুরু করলো। রীতিমতো স্বাগত জানিয়ে সংবাদ সম্মেলন করে দলের মুখপাত্র বললেন, শোনেন শোনেন আমরাই কি শুধু বলি, এরশাদ সাহেবও এখন বলছেন। যিনি বিরোধী দলের নামে সরকারেরই অংশ। আমরা বললে তো আপনারা শোনেন না, তিনি বললেও কি আপনারা শুনবেন না, মাঠে নামবেন না।

বিএনপি হয়ত মনে করেছিল তিনি কখন কি বলবেন ঠিক ঠিকানা নেই তার পরও একটা কথা পাওয়া গেছে এটা নিয়ে মাঠ গরম করতে হবে। এরপর তিনি খুশি হয়ে প্রত্যেক সপ্তাহে সপ্তাহে এমন কথা বলবেন কিন্তু হলো তার উল্টো। গেল সপ্তাহে সেই এরশাদ বিএনপিকে অস্তিত্ব সঙ্কটে ফেলে দিয়ে বলে বসলেন বিএনপি এখন শিয়ালের গর্তে ঢুকে গেছে। সেই গর্ত থেকে মাঝে মাঝে উঁকি দেয়। বিবৃতি দিয়ে নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করছে। এবার বুঝুন তাকে বোঝা কতটা কঠিন!

দুটি পেশায় হাইব্রিড তৈরি হচ্ছে

স্টাফ রিপোর্টার॥ উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন আর অধিক ফলনশীল হিসেবে দেশের কৃষক প্রথম যে ধান চাষ শুরু করলেন তাই হাইব্রিড বলে পরিচিত। এরপর ধান থেকে গাছে, গাছ থেকে মাছে, গরুতে -সবখানে হাইব্রিড চর্চা শুরু হলো। বেশকিছু দিন হলো হাইব্রিড গাড়িও চড়ছে দেশের মানুষ। তাই বলে সবখানে কি হাইব্রিড চর্চা ভাল, না শুভ! এটি পর্যালোচনার বিষয়। নিখুঁতভাবে খতিয়ে দেখার দাবি উঠতেই পারে। গেল সপ্তাহে এক অনুষ্ঠানে সড়ক-সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের মন্তব্য করেছেন দুটি পেশায় অনেক হাইব্রিড প্রজাতি তৈরি হয়েছে। এই দুটি পেশার একটি তার নিজের রাজনীতি, অন্যটি সাংবাদিকতা। কথার যথার্থতা তুলে ধরতে গিয়ে মন্ত্রী বলছেন, ‘বাংলাদেশ এখন নেতা উৎপাদনের কারখানায় পরিণত হয়েছে, তবে নেতা ধারণ করার মতো গোডাউনের অভাব রয়েছে। এসব নেতারা আবার মাইক পাইলেই ভাষণ দিতে শুরু করে। বিলবোর্ডে দেখি সম্ভাব্য নেতা। নেতাদের পোস্টারে ছেয়ে গেছে সব জায়গার ওয়াল। মশারির মধ্যে মশারি।’

দেশের সাংবাদিকতা পেশাতে বিপুল জনসমাগম ঘটেছে। এই ছোট দেশে কয়েক ডজন টিভি চ্যানেল, কয়েক শ’ পত্রপত্রিকা আর হাজার হাজার অনলাইন নিউজ পোর্টাল। এখানে যারা কাজ করেন তারা সবাই নিজেদের সাংবাদিক পরিচয় দিতেই পছন্দ করেন। নেতাদের মতো দেশে সাংবাদিক আধিক্য ঘটেছে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে দেশের অনলাইন মিডিয়ার ওপর সরকারের কোন নিয়ন্ত্রণও নেই। যে কারখানা সব থেকে বেশি মানুষকে সাংবাদিক বানাচ্ছে। সম্পাদক তৈরি করছে। সর্বনিম্ন পাঁচ হাজার টাকায় এমন একটি মিডিয়া প্রসব করে রাতারাতি ধান্ধাবাজ শ্রেণী আখের গোছাচ্ছে।

মন্ত্রী এক সময় নিজেও সাংবাদিক ছিলেন। এসব কারণেই হয়ত আবার তার মন কাঁদছে। আবার সেই কারণেই কি মন্ত্রী ঈদ ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত অন্য এক বৈঠকে বললেন মন্ত্রিত্ব থেকে অবসর নিয়ে আবার সাংবাদিকতা শুরু করবেন!

ব্যতিক্রমী বুদ্ধিজীবী!

স্টাফ রিপোর্টার ॥ নিজের সমর্থিতদের দোষত্রুটি খুব একটা মানুষের চোখে পড়ে না। যারা দেশের কথা ভাবেন, রাজনীতি নিয়ে কথা বলেন তাদের মধ্যে বিভাজন স্পষ্ট। এক দল বলে এই ভাল হচ্ছে, অন্য দল বলে না কিচ্ছু হচ্ছে না। এরা এতটাই অন্ধ যে নিজের দলের অপরাগতাকেও চোখে দেখে না। সব সময় বলতে থাকে দমন-পীড়নের জন্য আমরা কিছু করতে পারলাম না। কিন্তু তারা যখন সরকারে ছিল তখন কী বিরোধী দলের আন্দোলনে বাহবা দিয়েছে। না ২১ আগস্টের কথা বেমালুম চেপে যেতে চান। এসব নিয়ে কেউ কোন কথা বলেন না। তিনি ব্যতিক্রম। টেলিভিশন টকশোতে বিএনপির পক্ষে পর্দা কাঁপান কিন্তু এবার বুঝতে পেরেছেন বিএনপি আসলে আন্দোলন করতে গিয়ে কাপড় নষ্ট করে ফেলেছে। বিএনপি সমর্থক পেশাজীবী নেতা বিএনপির বুদ্ধিজীবী বলে পরিচিত জাফরুল্লাহ চৌধুরী আর রাখঢাক না রেখে বলেন, দেশের পাঁচ কোটি লোকের সমর্থন নিয়ে বিএনপি নড়তে, বসতে পারছে না। তাদের কাপড়-চোপড় নষ্ট করে ফেলেছে। সম্প্রতি অন্যএক যায়গাতে এই ব্যতিক্রম বুদ্ধিজীবী বলেন, জিয়া অরফানেজ ও জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় সাজা হয়ে বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া যদি কারাগারে যান তাহলে দলের দায়িত্ব কে নেবেন সে বিষয়ে আলোচনা করতে হবে। তিনি আরও বলেন, লন্ডনপ্রবাসী তারেক রহমানের ‘হুকুমে’ দল চালানো যাবে না। বিএনপির এই বুদ্ধিজীবীর ধারণা তারেক রহমানই বিএনপির বারোটা বাজাচ্ছেন।