২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

বায়ান্ন বাজার তিপ্পান্ন গলি

বায়ান্ন বাজার তিপ্পান্ন গলি

মোরসালিন মিজান ॥ পৃথিবীর প্রায় সব অভিজাত শহরে স্থাপত্যকলার নানা নিদর্শন আলাদাভাবে চোখে পড়ে। উল্টো চিত্র রাজধানী শহর ঢাকায়। এখানে ওখানে সেখানে বিল্ডিং। যেন ইট সিমেন্টের জঞ্জাল। একটি বিল্ডিং থেকে অন্যটিকে তেমন আলাদা করা যায় না। ঘুরে ফিরে একই নক্সা। বার বার দেখা। এলোমেলো ডিজাইন। আর যেসব বিল্ডিং ইতিহাসের স্মারক, আধুনিক নির্মাণশৈলীর গৌরব নিয়ে দাঁড়িয়ে, সেগুলোর অবস্থা অধিকাংশ ক্ষেত্রেই নরবড়ে। খুব যতœ করা হয় না। বরং সুযোগ পেলেই বহু পুরনো বাড়ি ভেঙ্গে ফেলা হয়। এ বাস্তবতা অনেক দিনের। আর একেবারে সাম্প্রতিক উদাহরণ- ধানম-ি লেকের পাশে অবস্থিত ‘জাহাজবাড়ি’। এ নামেই বিশেষ পরিচিতি। নামটি আসলে ‘চিশতিয়া প্যালেস’। যতদূর তথ্য, ১৯৯৩ থেকে ১৯৯৪ সালের মধ্যে নির্মিত। ‘রহস্য বাড়ি’ বললেও অনেকে আঙুল তুলে এ বাড়ি দেখিয়ে দিতেন। বাড়ির ভেতরে কাদের বাস, জানার সুযোগ ছিল না। কাউকে তেমন বের হতে দেখা যেত না। প্রবেশ করতেও দেখা যেত না। এ কারণেই রহস্য বাড়ি। অনেকে একে ধর্মীয় কোন উপাসনালয় ভেবে ভুল করতেন। আর তারপর বাড়ির সীমানাপ্রাচীর ভেঙ্গে দেয়ার ঘটনা। দখলে থাকা লেকের জায়গা উদ্ধারে ওই অভিযান চালিয়েছিল ঢাকা সিটি কর্পোরেশন। সেই ভাঙ্গা অংশ মেরামত ও নতুন সীমানাপ্রাচীর করার সময় জাহাজের আকৃতি পায় আলোচিত বাড়িটি। কাঠামো আগেই কিছুটা জাহাজের মতো ছিল। উপরের দিকে মাস্তুলের মতো দেখতে সরু লম্বা কাঠামো গড়া হয়েছিল। দূর থেকে দেখলে মনে হতো, নদী তীরে নোঙর করে আছে বড় কোন জাহাজ। সবুজের মাঝে লাল সিরামিক ইটে নির্মিত বাড়িটি ঢাকার স্থাপত্যকলার চমৎকার নিদর্শন। লেকের সৌন্দর্যের সঙ্গে দারুণ মিলেমিশে গিয়েছিল। লেকে বেড়াতে আসা মানুষ এ সৌন্দর্য মুগ্ধ হয়ে দেখতেন। বহুদূরের পথিককেও হাতছানি দিয়ে ডাকত বাড়িটি। মুগ্ধ করে রাখত। অথচ এখানেই এখন ভারি হেমার দিয়ে পেটানো হচ্ছে। চলছে গুঁড়িয়ে দেয়ার কাজ। সড়ক নম্বর ৫/এ। বাড়ি নম্বর ৬০। এসব নাম্বার ঠিক থাকছে। শুধু ভেঙ্গে ফেলা হচ্ছে বাড়িটি। প্রথমে এ খবর বিশ্বাস করতে কষ্ট হচ্ছিল। মনে হচ্ছিল, ভুল তথ্য। পরিশেষে সেটি সত্য প্রমাণিত হয়েছে। গত কয়েক দিন ধরে চলছে বাড়ি ভাঙ্গার কাজ। বৃহস্পতিবার বিকেলে সেখানে গিয়ে দেখা যায়, বাড়ির জানালা গ্লাস লোহার গ্রিল সব উপড়ে ফেলা হয়েছে। ভেতরের অংশ ফাঁকা। টাইলস তোলার কাজ করছেন শ্রমিকরা। সুন্দর সুইমিংপুল পানিশূন্য পড়ে আছে। জিনিসপত্র আগেই সরানো হয়েছিল। বাকি যা যা, তুলে দেয়া হচ্ছিল ট্রাকে। না, এবারও রহস্যে ঘেরা বাড়ির কাউকে খুঁজে পাওয়া গেল না। তবে জানা যায়, বর্তমান মালিক শের-ই-খাঁজা এ কে এম আনোয়ারুল হক চৌধুরী। মালিক নিজেই বাড়িটি ভাঙ্গার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এখানে বহুতল ভবন নির্মাণ করা হবে। ব্যক্তি মালিকানা যেহেতু, সিদ্ধান্ত ব্যক্তির। এরপরও ভাঙ্গা বাড়িটি দেখে মন কেমন বিষণœ হয়ে উঠে। সৌন্দর্যপ্রেমী মানুষ সত্যি আজ বিষণœ।

এবার কোরবানি ঈদের প্রসঙ্গ। আর মাত্র কয়েক দিন বাকি। আগামী ২৫ সেপ্টেম্বর পবিত্র ঈদ-উল-আযহা। এই ঈদে আর সব কেনাকাটা নেই বললেই চলে। সবাই কোরবানির গরু, ছাগল, মহিষ নিয়ে ব্যস্ত থাকেন। এরই মাঝে ঢাকার বাজারে উঠে গেছে কোরবানির পশু। গত কয়েক দিন গাবতলী হাটে গিয়ে দেখা যায়, দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ট্রাকভর্তি হয়ে আসছে গরু। না, বিক্রি তেমন চোখে পড়েনি। তবে দাম-দর করার লোক আছে। বাজার দর বুঝতে অনেকেই হাটে যাচ্ছেন। বিক্রেতারা গরু সাজাতে দেখতে আরও সুন্দর করতে ব্যস্ত। মোঃ আমানুল নামের এক বিক্রেতা বললেন, এবার কোন গরু ফেরত নিতে চাই না। তাই একটু আগেভাগে হাটে নিয়ে এসেছি। অবশ্য আগে কেনার ক্রেতা আছে বলেও জানান তিনি।

ঈদে বাড়ি ফেরার পুরনো তাড়া। এরই মাঝে ট্রেনের অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু হয়েছে। বিক্রি চলবে শনিবার পর্যন্ত। তাই কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে টিকেটপ্রত্যাশীদের ভিড় এখন সারাদিন। বাসের যাত্রীদের মধ্যেও শুরু হয়ে গেছে তাড়াহুড়ো। উত্তরবঙ্গের বাসের অগ্রিম টিকেট বিক্রি শেষ হয়ে গেছে। অন্যান্য অনেক এলাকার যাত্রীরা ব্যস্ত টিকেট সংগ্রহে। সব মিলিয়ে ঈদের প্রস্তুতিটা বেশ চোখে পড়ছে বায়ান্ন বাজার তিপ্পান্ন গলির শহর ঢাকায়।

নির্বাচিত সংবাদ