২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

চৌদ্দগ্রামে ট্রাকের ধাক্কায় গাড়ির গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে পুলিশসহ নিহত ২

  • দগ্ধ হয়েছেন মাইক্রোবাসে থাকা ৫ আসামি ও ৪ পুলিশ

স্টাফ রিপোর্টার ॥ গত বুধবার রাতে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে ট্রাকের ধাক্কায় আসামিসহ পুলিশ বহনকারী মাইক্রোবাসের গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে ঘটনাস্থলেই ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের কনস্টেবল আবদুুল জলিলের মৃত্যু হয়। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন আসামি শওকত হোসেনের মৃত্যু হয়। দগ্ধ হয়েছেন মাইক্রোবাসটিতে থাকা ৪ আসামি ও ৪ পুলিশ। হতাহতদের দেখার পর বিষয়টি নিছক দুর্ঘটনা, নাকি নাশকতা তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত চলছে বলে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন ভারপ্রাপ্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক মোখলেছুর রহমান ও ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার মোঃ আছাদুজ্জামান মিয়া।

আহতদের মধ্যে এক পুলিশ কর্মকর্তা ও একজন আসামির অবস্থা গুরুতর। তাদের ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের বার্ন ইউনিটের আইসিইউতে রাখা হয়েছে। দগ্ধ অন্যরা আপাতত আশঙ্কামুক্ত। বৃহস্পতিবার নিহতের পরিবারকে ঢাকা মহানগর পুলিশের তরফ থেকে নগদ ২ লাখ ৩৫ হাজার টাকা দেয়া হয়েছে। কর্মরত অবস্থায় মৃত্যু হওয়ায় পুলিশ সদর দফতর থেকে আরও ৫ লাখ টাকা অনুদান হিসেবে পাবে নিহতের পরিবার।

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের পশ্চিম বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনার সাইফুল ইসলাম জনকণ্ঠকে জানান, গত ১৪ সেপ্টেম্বর ঢাকা থেকে ইয়াবাসহ দুই মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করা হয়। দুই মাদক ব্যবসায়ীর দেয়া তথ্যমতে ঢাকায় পাইকারি ইয়াবা বিক্রির সঙ্গে জড়িতদের গ্রেফতারে ডিবির পশ্চিম বিভাগের সহকারী কমিশনার আবু নাসের জনির নেতৃত্বে একটি দল চট্টগ্রামে অভিযানে যায়। বুধবার চট্টগ্রামের বেশ কয়েকটি জায়গায় অভিযান চালিয়ে ৭ ইয়াবা ব্যবরসায়ীকে ২০ হাজার পিস ইয়াবাসহ গ্রেফতার করে। গ্রেফতারকৃতদের নিয়ে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হয় ডিবি পুলিশ। ৩টি গাড়িতে করে আসামিসহ ডিবি পুলিশ ঢাকার দিকে আসছিল। একেকটি গাড়ির মধ্যে অন্য গাড়িগুলোর দূরত্ব ছিল।

বুধবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের চৌদ্দগ্রাম থানাধীন আমজাদের বাজারের সুজাতপুর এলাকা দিয়ে ঢাকার দিকে আসছিল। চৌদ্দগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ ফরহাদ জনকণ্ঠকে জানান, এ সময় চট্টগ্রাম থেকে স্টিলের কয়েল বোঝাই আর্মি ওয়েল ফেয়ার ট্রাস্টের ঢাকা মেট্রো-ট-১১-৯০৯৪ নম্বরের একটি ট্রাক পুলিশ ও আসামি বহনকারী ঢাকা মেট্রো-ছ-৫৩-৪২০৬ নম্বরের ১২ সিটের হাইয়াস মাইক্রোবাসটিকে ধাক্কা দেয়। ওই সময় মাইক্রোবাসটি ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৪৫ কিলোমিটার গতিতে চলছিল।

পুলিশ কর্মকর্তা বলছেন, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে দেখা গেছে ট্রাকের গতি বেশি থাকায় মাইক্রোবাসটি দুমড়ে মুচড়ে যায়। মাইক্রোবাসটির গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরিত হয়ে আগুন ধরে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই দগ্ধ হয়ে কনস্টেবল আব্দুল আজিজের (৩৫) মৃত্যু হয়। তার পিতার নাম আব্দুল বাসেদ শিকদার। বাড়ি টাঙ্গাইল জেলার মির্জাপুর থানাধীন চিতেস্বরী এলাকার তেলিনা গ্রামে।

খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। দগ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করা হয় ৯ জনকে। যাদের মধ্যে ৫ জন পুলিশ ও ৫ জন আসামি ছিল। পুলিশ সদস্য পুলিশের নিজস্ব মাইক্রোবাসটি চালাচ্ছিলেন। আহতদের প্রথমে কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়। বৃহস্পতিবার ভোরে তাদের ভর্তি করা হয় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে।

বার্ন ইউনিটের আবাসিক চিকিৎসক পার্থ শঙ্কর পাল জানান, আহতদের মধ্যে শরীরের ৩৮ ভাগ দগ্ধ হওয়া ডিবির উপ-পরিদর্শক (এসআই) আব্দুল মালেক (৩৫) এবং ৮৭ ভাগ দগ্ধ হওয়া আসামি শওকত হোসেন (৩০) আইসিইউতে রাখা হয়েছে।

আর বার্ন ইউনিটের ৫ তলায় চিকিৎসাধীন কনস্টেবল শরিফুল ইসলামের (৩২) শরীরের ৪ শতাংশ, আনোয়ার হোসেনের (৩৮) ৫ শতাংশ ও নুরুল ইসলামের (৩৭) ৮ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে। তাদের অবস্থা আপাতত আশঙ্কামুক্ত।

আর আসামিদের মধ্যে সাদ্দাম হোসেনের (২৫) ১৮ শতাংশ, নাজিম উদ্দিনের (৪০) ৩৩ শতাংশ, আবদুস শুকুরের (৫০) ২৮ শতাংশ ও বশির উদ্দিনের (৩৫) ২৭ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে।

বার্ন ইউনিটের সমন্বয়কারী চিকিৎসক সামন্তলাল সেন জানান, দগ্ধদের মধ্যে এসআই মালেক ও আসামি শওকতের অবস্থা আশঙ্কাজনক। আর যারা চিকিৎসাধীন তারাও শঙ্কামুক্ত নন। তাদের অনেকেরই শ্বাসনালী পুড়ে গেছে। তাদের সম্পর্কে এখনই সুস্পষ্টভাবে কিছুই বলা যাচ্ছে না।

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের পশ্চিম বিভাগের উপ-কমিশনার সাজ্জাদুর রহমান জনকণ্ঠকে জানান, দগ্ধদের সার্বিক খোঁজখবর নেয়া হচ্ছে। তাদের সুস্থ করে তুলতে সব ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত আছে। ঘটনাটি নিছক দুর্ঘটনা। ঘটনার পর পরই এ ব্যাপারে পর্যালোচনা করা হয়েছে। ঘটনার পেছনে নাশকতামূলক কোন কর্মকা-ের সত্যতা মেলেনি।

বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার দিকে পুলিশের ভারপ্রাপ্ত মহাপরিদর্শক মোখলেছুর রহমান এবং ডিএমপি কমিশনার মোঃ আছাদুজ্জামান মিয়াসহ উর্ধতন পুলিশ কর্মকর্তারা হতাহতদের দেখতে হাসপাতালে ছুটে যান। পরে ভারপ্রাপ্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক মোখলেছুর রহমান সাংবাদিকদের জানান, সার্বিক দিক পর্যালোচনা করে ঘটনাটি নিছক দুর্ঘটনা বলেই ধারণা করা হচ্ছে। তবে নাশকতার বিষয়টিও উড়িয়ে দিচ্ছি না। ঘটনাটি নিছক দুর্ঘটনা নাকি নাশকতা সে বিষয়টিও খতিয়ে দেখতে তদন্ত চলছে।