২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

বড়পুকুরিয়া দুর্নীতির মামলায় খালেদার আবেদন খারিজ

স্টাফ রিপোর্টার ॥ বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি দুর্নীতির মামলার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার করা আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে যে স্থগিতাদেশ ছিল তাও তুলে নেয়া হয়েছে। এ আদেশের ফলে এ মামলার কার্যক্রম (নিম্ন) বিচারিক আদালতে চলতে আর কোন বাধা রইল না বলে জানিয়েছেন দুদকের আইনজীবী খুরশীদ আলম খান। কয়লাখনি দুর্নীতি মামলার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টের জারি করা রুলের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি করে বৃহস্পতিবার হাইকোর্টের বিচারপতি মোঃ নূরুজ্জামান ও বিচারপতি আব্দুর রবের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ রায় দেন। এ নিয়ে গত চার মাসে খালেদার তিনটি দুর্নীতি মামলা দীর্ঘদিন আটকে থাকার পর সচল হলো। গ্যাটকো ও নাইকো দুর্নীতি মামলা বাতিল চেয়ে খালেদা জিয়ার করা আবেদনও হাইকোর্টে খারিজ হয়ে গেছে। এ দুটি মামলায় বিএনপি চেয়ারপার্সনকে বিচারিক আদালতে আত্মসমর্পণ করতেও নির্দেশ দেয়া হয়েছে। বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি দুর্নীতি মামলার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে খালেদা জিয়ার আবেদন খারিজ হবার পর আসামি পক্ষের আইনজীবী জানিয়েছেন তারা এর আদেশের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপীল করবেন।

বৃহস্পতিবার আদালতে খালেদা জিয়ার পক্ষে উপস্থিত ছিলেন আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন, এজে মোহাম্মাদ আলী, ব্যারিস্টার রাগিব রউফ চৌধুরী ও এছাড়া রাষ্ট্রপক্ষে ডেপুটি এ্যাটর্র্নি জেনারেল ইয়াসমিন বেগম, সহকারী এ্যাটর্নি জেনারেল আব্দুর রাকিব। এবং দুদকের আইনজীবী খুরশীদ আলম খান। আদেশের পর খালেদা জিয়া আইনজীবী ব্যারিস্টার রাগিব রউফ চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেন, ‘বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি দুর্নীতি মামলার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার করা আবেদন খারিজ করে দিয়েছে আদালত। যে স্থগিতাদেশ ছিল সেটিও বাতিল করেছেন। এ রায়ের বিরুদ্ধে আমরা সংক্ষুব্ধ হয়েছি। আমরা এ রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে যাব।

অন্যদিকে দুদকের আইনজীবী খুরশীদ আলম খান জনকণ্ঠকে বলেন, ‘এই মামলায় খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে। এ আবেদন চলতে পারে না বলে আদালত রুল খারিজ করে দিয়েছেন এবং স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। ফলে নিম্ন আদালতে এ মামলার বিচার চলতে আর কোন বাধা নেই।

তার আগে গত ৩০ আগস্ট মামলার শুনানি শেষে যে কোন দিন রায়ের জন্য (সিএভি) রেখেছিল সংশ্লিষ্ট আদালত। পরে গত ১৫ সেপ্টেম্বর রায়ের জন্য ১৭ তারিখ আজকের কার্যতালিকায় রাখেন। আদালতে খালেদা জিয়ার পক্ষে শুনানি করেন সিনিয়র আইনজীবী এজে মোহাম্মদ আলী, ব্যারিস্টার এএম মাহবুব উদ্দিন খোকন, ব্যারিস্টার রাগিব রউফ চৌধুরী ও এহসানুর রহমান প্রমুখ। অপরদিকে শুনানি করেন দুদকের পক্ষে আইনজীবী খুরশীদ আলম খান।

তার আগে খালেদা জিয়া মামলাটি বাতিল চেয়ে হাইকোর্টে আবেদন করেছিলেন ২০০৮ সালে। দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি উত্তোলন, ব্যবস্থাপনা ও রক্ষণাবেক্ষণে ঠিকাদার নিয়োগে অনিয়ম এবং রাষ্ট্রের ১৫৮ কোটি ৭১ লাখ টাকা ক্ষতি ও আত্মসাত করার অভিযোগে ২০০৮ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি শাহবাগ থানায় মামলাটি দায়ের করা হয়। ওই বছর ৫ অক্টোবর ১৬ জনের বিরুদ্ধেই অভিযোগপত্র দাখিল করে দুদক। এক আবেদনের প্রেক্ষিতে ২০০৮ সালের ১৬ অক্টোবর খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে এ মামলার কার্যক্রম স্থগিত করে হাইকোর্ট। মামলাটি কেন বাতিল করা হবে না, তা জানতে চেয়ে সংশ্লিষ্টদের প্রতি রুলও জারি করা হয়।

বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি দুর্নীতি সংক্রান্ত মামলায় চারদলীয় জোট সরকারের প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ওই সরকারের ১০ মন্ত্রীসহ ১৬ জনকে আসামি করা হয়। মামলায় খালেদা জিয়া ছাড়া অপর আসামিরা হলেন- সাবেক অর্থমন্ত্রী এম সাইফুর রহমান (মৃত), সবেক স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী আবদুল মান্নান ভূঁইয়া (মৃত), সাবেক শিল্পমন্ত্রী মতিউর রহমান নিজামী, সাবেক সমাজ কল্যাণমন্ত্রী আলী আহসান মুহাম্মদ মুজাহিদ, ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, এমকে আনোয়ার, এম শামসুল ইসলাম (মৃত), আলতাফ হোসেন চৌধুরী, ব্যারিস্টার আমিনুল হক, একেএম মোশাররফ হোসেন, জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সচিব নজরুল ইসলাম, পেট্রোবাংলার সাবেক চেয়ারম্যান এস আর ওসমানী, সাবেক পরিচালক মঈনুল আহসান, বড়পুকুরিয়া কোল মাইনিং কোম্পানির সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোঃ সিরাজুল ইসলাম ও খনির কাজ পাওয়া কোম্পানির স্থানীয় এজেন্ট হোসাফ গ্রুপের চেয়ারম্যান মোয়াজ্জেম হোসেন।

এই দুর্নীতি মামলা নিয়ে জামায়াতে ইসলামীর আমির মতিউর রহমান নিজামী ও সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদের করা দুটি আবেদন আপীল বিভাগে খারিজ হয়ে গেছে। এই দুই জামায়াত নেতাই সে সময় খালেদার সরকারের মন্ত্রিসভায় ছিলেন। একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে তাদের ফাঁসির রায় হয়েছে। এছাড়া এ মামলায় বিচারিক আদালতে জামিনে থাকা খালেদা জিয়া চিকিৎসার জন্য আগের রাতে লন্ডনে গেছেন। সেখানে বড় ছেলে তারেক রহমান ও তার পরিবারের সঙ্গে ঈদ করে এ মাসের শেষ দিকে তার দেশে ফেরার কথা রয়েছে।