২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

তিন দিনব্যাপী জাতীয় ভাষা উৎসব শুরু

  • সংস্কৃতি সংবাদ

স্টাফ রিপোর্টার ॥ বাংলাভাষার উচ্চারণসহ বানানরীতিতে বিরাজ করছে নানা নৈরাজ্য। আর এই ভাষার শৃঙ্খলা রক্ষার প্রত্যয়ে এবং জাতীয় পর্যায়ে শিক্ষার্থীদের প্রমিত বাংলা চর্চায় উৎসাহিত করার লক্ষ্যে শুরু হলো জাতীয় ভাষা উৎসব। তিন দিনের এ উৎসবের সূচনা হয় বৃহস্পতিবার। যৌথভাবে উৎসবের আয়োজন করেছে বাংলা একাডেমি, ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজ ও মাই একাডেমি। সকালে বাংলা একাডেমির আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ মিলনায়তনে উৎসব উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি প্রধান অতিথি ছিলেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর। স্বাগত ভাষণ দেন রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজের অধ্যক্ষ ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোঃ আসাদুজ্জামান সুবহানী। শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক শামসুজ্জামান খান ও মাই একাডেমির চেয়ারম্যান মেজর (অব) এ টি কে এম ইকবাল। সভাপতিত্ব করেন একাডেমির সভাপতি ইমেরিটাস অধ্যাপক আনিসুজ্জামান।

অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেন, বাংলাভাষা ও বানানরীতিতে সমতা বিধানের জন্য আমাদের সবাইকে ভাষা ও বানান শৃঙ্খলা সম্পর্কে সচেতন হতে হবে। বাংলা একাডেমি এক্ষেত্রে বিভিন্ন সময় নানা উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। জাতীয় ভাষা উৎসব নতুন প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের মাতৃভাষা বাংলার রূপরীতি ও প্রয়োগ সম্পর্কে সঠিক ধারণা দেবে বলে আশা করি।

সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক আনিসুজ্জামান বলেন, বাংলা ভাষার চর্চাকে শুধু প্রয়োজনের সীমারেখায় আবদ্ধ রাখলে চলবে না। প্রিয় এই মাতৃভাষার সঠিক প্রয়োগে আমাদের সবাইকে সচেতন ও আগ্রহী হতে হবে।

আসাদুজ্জামান নূর বলেন, আজকাল গণমাধ্যমে নানা অনুষ্ঠানে বাংলা ভাষার যে বিকৃতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে তা রোধ করতে হবে। ভাষার সৌন্দর্য আবিষ্কার করতে না পারলে শিক্ষা লাভের কোন তাৎপর্য নেই। সারা বিশ্বে মাতৃভাষার চর্চায় বিভিন্ন দেশে প্রভূত অগ্রগতি অর্জন করেছে। কিন্তু আমরা মাতৃভাষা বাংলার শুদ্ধ ব্যবহারে পিছিয়ে রয়েছি যা কোনভাবে কাম্য নয়। তিনি বলেন, প্রথাগত শিক্ষা-কাঠামোয় শিক্ষার্থীদের প্রকৃত জ্ঞানার্জনে কতটুকু সহায়তা করছে তা প্রশ্নসাপেক্ষ।

তথ্যপ্রযুক্তির ব্যাপক বিকাশ আমাদের তথ্য দিচ্ছে কিন্তু জ্ঞানসাধনা এর চেয়েও গভীর স্তরের বিষয়। ভাষা ও শিক্ষার যথাযথ চর্চাতেই সম্ভব স্বপ্নশীল নতুন প্রজন্মের অজেয় উত্থান।

সংস্কৃতিমন্ত্রী শিশুদের ওপর পড়াশোনার অতিরিক্ত চাপের কথা উল্লেখ করে বলেন, শিক্ষার্থীদের ওপর এখন জিপিএ ফাইভ নির্যাতন চলছে। হোমওয়ার্কের ঠেলায় এই শিশুরা না খেলতে যেতে পারে, না গান শিখতে পারে, না কবিতা পড়তে পারে, না ছবি আঁকতে পারি। ফলের তাদের মননের পরিপূর্ণ বিকাশ হয় না।

শুভেচ্ছা বক্তব্যে শামসুজ্জামান খান বলেন, মাতৃভাষার যথাযথ চর্চায় উত্তর প্রজন্মের জন্য আমাদের আরও সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে কারণ মাতৃভাষার ভিত্তি সঠিকভাবে নির্মিত না হলে কাক্সিক্ষত শিক্ষা-মান অর্জন করা সম্ভব নয়। তিনি বলেন, ভাষা নিয়মিত চর্চা ও অন্বেষণের বিষয়। এ বিষয়ে নতুন প্রজন্মের ছাত্রছাত্রীরা প্রশিক্ষিত হলে ভবিষ্যতে আমরা দেশের সার্বিক ভাষা ও শিক্ষা পরিস্থিতির ক্ষেত্রে লক্ষণীয় অগ্রগতি সাধন করতে পারব।

তনুশ্রী পদক পেলেন অনিমেশ সাহা ॥ মেধাবী তরুণ নাট্যকর্মী তনুশ্রী গায়েনের অকাল প্রয়াণ আজও বিষণœতার ছায়া ফেলে মঞ্চনাটকের আঙিনায়। ২০০০ সালে ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে অসমাপ্ত রয়ে যায় তার জীবন। না ফেরার দেশে পাড়ি জমান এই নাট্যকর্মী। আর তার প্রতি ভালবাসা থেকে ২০০১ সাল থেকে নাট্যদল নাট্যধারা প্রবর্তন করে সৃজনশীল নাট্যতরুণ তনুশ্রী পদক। সেই ধারাবাহিকতায় ২০১৫ সালের তনুশ্রী পদক পেলেন অনিমেশ সাহা। বৃহস্পতিবার বিকেলে শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালার মূল মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এ পদক প্রদান করা হয়। পদক প্রদানের পাশাপাশি নাটকের গানের পরিবেশনা ও নাট্য প্রদর্শনীর মাধ্যমে স্মরণ করা হয় এই নাট্যকর্মীকে।

পদকপ্রাপ্তির প্রতিক্রিয়ায় অনিমেশ সাহা বলেন, এই সম্মাননা আমাকে প্রেরণা যোগাবে। ভবিষ্যতে আরও ভাল কাজের প্রতি কাজের আমার প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে। আর এই পদকপ্রাপ্তিতে সবচেয়ে বড় অবদান হচ্ছে বরিশালের শব্দাবলী থিয়েটার। এই নাট্যদলের মাধ্যমেই আমার কাজের ক্ষেত্র তৈরি হয়েছে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন নাট্যজন রামেন্দু মজুমদার এবং সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি গোলাম কুদ্দুছ। সভাপতিত্ব করেন নাট্যধালার প্রধান সম্পাদক মাসুদ পারভেজ মিজু। শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন আয়োজনের পৃষ্ঠপোষক প্রতিষ্ঠান অঞ্জন’স-এর কর্ণধার শাহিন আমেদ।

পদক প্রদানের পর সন্ধ্যায় মঞ্চস্থ হয় নাট্যধারার ২০তম প্রযোজনা ‘আয়না বিবির পালা।’ ময়মনসিংহ গীতিকা অবলম্বনে নির্মিত আয়না বিবির পালা নাটকের নাট্যরূপ ও নির্দেশনা দিয়েছেন রবিউল আলম। প্রযোজনাটির বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন সব্যসাচী চঞ্চল, পলাশ মাহমুদ, কাজী উজ্জ্বল, বিউটি আক্তার, ববি, শামীমা আক্তার মুক্তা প্রমুখ।

এস এম সোলায়মান স্মারক বক্তৃতা ও প্রণোদনা ॥ থিয়েটারের আকাশের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র এসএম সোলায়মান। নাট্যাঙ্গনে খ্যাপা পাগলা নামে অভিহিত এই নাট্যজন একাধারের অভিনয়ের পাশাপাশি নাটক পরিচালনা এবং তাতে সঙ্গীত পরিচালনা করতেন। নাট্য ভুবনের ভালবাসার এই মানুষটির ১৪তম প্রয়াণ দিবস ও ৬২তম জন্মদিন উপলক্ষে বৃহস্পতিবার তাঁকে স্মরণ করা হলো। সন্ধ্যায় শিল্পকলা এক্সপেরিমেন্টাল থিয়েটার হলে থিয়েটার আর্ট ইউনিট প্রবর্তিত এসএম সোলায়মান প্রাণোদনা প্রদানের পাশাপাশি স্মারক বক্তৃতার আয়োজন করা হয়। প্রণোদন করা হয় প্রতিভাবান ও সৃজনশীল তরুণ নাট্য নির্দেশক সুদীপ চক্রবর্তীকে। স্মারক বক্তৃতা করেন নাট্যব্যক্তিত্ব অধ্যাপক জামিল আহমেদ। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর। সভাপতিত্ব করেন থিয়েটার আর্ট ইউনিটের প্রধান সমন্বয়ক মোহাম্মদ বারী।

এ আয়োজনে বহুমাত্রিক আনুষ্ঠানিকতার মাধ্যমে স্মরণ করা হয় এসএম সোলায়মানকে। অনুষ্ঠিত হয় তাঁর পরিচালিত সঙ্গীত পরিবেশনা। সব শেষে মঞ্চস্থ হয় থিয়েটার আর্ট ইউনিটের নাটক গোলাপজান।

চিত্রশিল্পী মুস্তাফা মনোয়ারকে সম্মাননা প্রদান ॥ বরেণ্য চিত্রশিল্পী মুস্তাফা মনোয়ারকে সম্মাননা প্রদান করল ইউনিভার্সিটি অব ডেভেলপমেন্ট অল্টারনেটিভের (ইউডা) চারুকলা অনুষদ। চারুকলায় অসামান্য অবদানের জন্য তাঁকে সম্মাননা জানানো হয়। ইউডার চারুকলা অনুষদের চৌদ্দ বছরে পদার্পণ উপলক্ষে শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় চিত্রশালায় প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়। ইউডার চারুশিক্ষার্থীদের শিল্পকর্ম নিয়ে অনুষ্ঠিত সপ্তাহব্যাপী প্রদর্শনীর শেষ দিন ছিল বৃহস্পতিবার। সমাপনী দিনে চিত্রশালা মিলনায়তনে শিক্ষার্থী শিল্পীদের পুরস্কার প্রদানের পাশাপাশি মুস্তাফা মনোয়ারকে জানানো হয় সম্মাননা। এ অনুষ্ঠানে অতিথি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ে মঞ্জুরি কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান ও নগর পরিকল্পনাবিদ অধ্যাপক নজরুল ইসলাম এবং প্রখ্যাত চিত্রশিল্পী মনিরুল ইসলাম। মুস্তাফা মনোয়ারের হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেন ইউডা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এমাজউদ্দীন আহমেদ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সভাপতি অধ্যাপক মুজিব খান।

রানা প্লাজা চলচ্চিত্রের প্রদর্শন স্থগিত ॥ রানা প্লাজা চলচ্চিত্রটির প্রদর্শনীর ওপর আবার নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। সুপ্রীমকোর্টের আপীল বিভাগ থেকে আলোচিত রানা প্লাজা ছবি প্রদর্শনের অনুমতি পেলেও এবার সেন্সর সার্টিফিকেট সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে সরকার।

বৃহস্পতিবার বিকেলে সরকারী তথ্য বিবরণীতে জানানো হয়, সুপ্রীমকোর্ট, আপীল বিভাগের পর্যবেক্ষণের আলোকে ফিল্ম সেন্সর আপীল কমিটি কর্তৃক আপীল সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত না পাওয়া পর্যন্ত রানা প্লাজা চলচ্চিত্রের সেন্সর সার্টিফিকেট স্থগিত করা হয়েছে।

এর আগে সকালে রানা প্লাজা চলচ্চিত্রের প্রদর্শনী বন্ধের রিভিউ আবেদন খারিজ করে দেন সুপ্রীমকোর্টের আপীল বিভাগ। এই রায়ে চলচ্চিত্রটি প্রদর্শনে বাধা কেটে যায়। প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বাধীন চার সদস্যের আপীল বেঞ্চ এ রায় দেয়।

অভিনয়শিল্পী দিলীপ চক্রবর্তী স্মরণানুষ্ঠান ॥ গুণী অভিনয়শিল্পী দিলীপ চক্রবর্তীর তৃতীয় প্রয়াণবার্ষিকী ছিল বৃহস্পতিবার। এ উপলক্ষে ম্যুভিয়ানা ফিল্ম সোসাইটি এবং দেশ নাটক যৌথভাবে স্মরণসভা এবং দিলীপ চক্রবর্তী অভিনীত চলচ্চিত্রের প্রদর্শনীর আয়োজন করে। শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালার সেমিনার কক্ষে ‘বন্ধুত্বে বিদায় বলে কিছু নেই’ শীর্ষক এ স্মরণানুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

সান্ধ্যাকালীন আয়োজনের শুরুতেই ছিল ‘স্মরণ স্মৃতিতর্পণ।’ স্মৃতিতর্পণে অংশগ্রহণ করেন দিলীপ চক্রবর্তীর বন্ধু, সহকর্মী ও স্বজনরা। এতে অকাল প্রয়াত এই অভিনেতা সম্পর্কে আলোকপাত করেন নাট্য নির্দেশক ইশরাত নিশাত, নাট্যকার মাসুম রেজা, অভিনয়শিল্পী রোজী সিদ্দিকী, অধ্যাপক সাবরিনা সুলতানা চৌধুরী, চলচ্চিত্র নির্মাতা নোমান রবিন এবং চলচ্চিত্র সংগঠক বেলায়াত হোসেন মামুন।