২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

কোরবানির হাটের বাইরে পশু বেচাকেনা করলেই ব্যবস্থা ॥ ডিএমপি কমিশনার

কোরবানির হাটের বাইরে পশু বেচাকেনা করলেই ব্যবস্থা ॥ ডিএমপি কমিশনার

স্টাফ রিপোর্টার ॥ আসন্ন ঈদ-উল-আযহায় কোরবানির হাটের চৌহদ্দির বাইরে পশু বেচাকেনা হলে জড়িত ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে পুলিশ। ঢাকা মহানগর পুলিশের মিডিয়া সেন্টারে বৃহস্পতিবার দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে ডিএমপি কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া এ হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন। তিনি জানান, বিশেষ করে নারী ক্রেতার কথা বিবেচনায় রেখে রাজধানীর বিপণিবিতানে নারী পুলিশ মোতায়েন করা হবে। মহানগরীতে ঈদ-উল-আযহায় নিরাপত্তা ব্যবস্থার বিষয় তুলে ধরতে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

ডিএমপি কমিশনার জানান, রাজধানীতে পশুবাহী ট্রাক প্রথমে হাটের ভেতরে প্রবেশ করতে বলা হবে। এর পরও কেউ নির্দেশ না মানলে সঙ্গে পশুসহ সংশ্লিষ্টদের থানায় নিয়ে যাওয়া হবে। তিনি জানান, এ ছাড়া ঢাকা মহানগর ও ঢাকা জেলার প্রত্যেকটি হাটেই নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় কাজ করবেন। কোথাও নিরাপত্তা বিঘিœত হতে দেখলে তারা তাৎক্ষণিকভাবে দোষীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবেন। সাংবাদিকের এক প্রশ্নের জবাবে ডিএমপি কমিশনার জানান, হাট নির্ধারিত করে দিলেও অনেক সময় ব্যবসায়ীরা চৌহদ্দির বাইরে চলে যান। বাস্তবতার তাগিদে সে সময় কিছু বলা যায় না। তিনি জানান, আমরা হাটের শৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রতিবছরই চেষ্টা করি। কিন্তুশতভাগ সফল হতে পারিনি। তবে আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি।

ডিএমপি অনুমোদিত কোরবানির পশুরহাটের পরিসংখ্যান তুলে ধরে আছাদুজ্জামান মিয়া বলেন, নগরবাসীর নির্বিঘœ যাতায়াত নিশ্চিত করতে ঢাকা মহানগরসহ জেলায় মোট ২৩টি পশুরহাট নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনে ১০টি ও উত্তরে ৭টি এবং মহানগরীর বাইরে ৬টি পশুরহাট বসবে।

আছাদুজ্জামান মিয়া জানান, পশুরহাটে ব্যবসায়ী ও ক্রেতার নিরাপত্তা দিতে শুক্রবার থেকে প্রতিটি হাটে পর্যাপ্ত সংখ্যক পুলিশ, র‌্যাব, আর্মড ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) সদস্য মোতায়েন করা হবে। এ ছাড়া প্রতিটি হাটে নিরাপত্তার জন্য ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরা, ওয়াচ টাওয়ার ও কন্ট্রোল রুম বসানো হয়েছে। তিনি বলেন, ছিনতাই, চাঁদাবাজি, মলম পার্টি ও অজ্ঞান পার্টি রুখতে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। তাদের বিচারের জন্য হাটে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটও থাকবেন।

বিপণিবিতানে থাকবে নারী পুলিশ ॥ ডিএমপি কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া জানান, ঈদের কেনাকাটা স্বাচ্ছন্দ্য করতে রাজধানীর বিপণিবিতানে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা দেয়া হবে। বিশেষ করে নারী ক্রেতার কথা বিবেচনায় রেখে নারী পুলিশ মোতায়েন করা হবে। ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে কমিশনার জানান, বসুন্ধরা সিটি, নিউমার্কেট, চাঁদনী চক, গুলশান ও বনানীসহ যেসব বিপণিবিতানে নারীক্রেতা বেশি করতে আসেন সেখানে পর্যাপ্ত নারী পুলিশ মোতায়েন থাকবে। তিনি আরও জানান, ঈদ উৎসবমুখর করতে পুলিশের পক্ষ থেকে সার্বিক নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। অজ্ঞান ও মলম পার্টির দৌরাত্ম্য বন্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে।

পশুহাটের পাশে সান্ধ্যকালীন ব্যাংকিং সেবা ॥ ডিএমপি কমিশনার সংবাদ সম্মেলনে জানান, ব্যবসায়ীদের সুবিধার্থে হাটের পাশের ব্যাংকগুলো সন্ধ্যার পরেও খোলা রাখা হবে। ইতোমধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকে ডিএমপি চিঠি দিয়েছে। তারা ব্যাংক খোলা রাখবে বলে আমাদের জানিয়েছেন। এ ছাড়া ছুটির দিনেও ব্যাংক খোলা রাখতে বলা হয়েছে। তিনি জানান, সন্ধ্যায় ব্যাংক খোলা থাকলে ব্যবসায়ীরা ব্যাংকের মাধ্যমে নিরাপদে টাকাপয়সা আদান-প্রদান করতে পারবেন। এ ছাড়া মোটা অঙ্কের টাকা আদান-প্রদানে পুলিশের সহায়তার জন্য মানি এস্কর্টের (পুলিশী পাহারায় অর্থ লেনদেন ও পরিবহন) ব্যবস্থা থাকবে।

প্রতিটি হাটে থাকবে নির্ধারিত হাসিলের তালিকা ॥ আছাদুজ্জামান মিয়া জানান, প্রতিটি হাটে হাসিলের তালিকা টানানো থাকবে, যাতে কেউ অতিরিক্ত হাসিল আদায় করতে না পারেন। এ ছাড়া কেউ অতিরিক্ত হাসিল আদায় করলে অভিযোগ পেলেই ব্যবস্থা নেয়া হবে।