২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

মুক্তিযোদ্ধাদের ভাতা বেড়ে পাঁচ থেকে ৮ হাজার টাকা

তপন বিশ্বাস ॥ মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণকারী বীর মুক্তিযোদ্ধারা (সাধারণ) বর্ধিত হারে ভাতা পেতে যাচ্ছেন। মাসিক ভাতা ৫ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ৮ হাজার টাকা করা হয়েছে। চলতি বছরের গত জুলাই থেকে এটিকে কার্যকর করে মঙ্গলবার মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় দেশের সকল জেলাপ্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে চিঠি পাঠিয়েছে। আসন্ন ঈদ-উল-আযহার আগেই বর্ধিত এ ভাতা মুক্তিযোদ্ধাদের দেয়া হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

সূত্র জানায়, গত জুলাই থেকে মুক্তিযোদ্ধাদের ভাতা দেয়া হয়নি। তাই ঈদের আগে তিন মাসের এ বর্ধিত ভাতা একসঙ্গে দেয়ার জন্য নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে জেলা প্রশাসকদের নির্দেশ দিয়েছে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়।

দেশে বর্তমানে প্রায় দুই লাখ মুক্তিযোদ্ধা রয়েছেন। তাদের মধ্যে মুক্তিযুদ্ধে অসীম সাহসিকতাও বীরত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ১৯৭৩ সালের ১৫ ডিসেম্বর গেজেটের মাধ্যমে ৬৭৬ জন মুক্তিযোদ্ধাকে চারটি বিশেষ খেতাব প্রদান করা হয়। এর মধ্যে বীরশ্রেষ্ঠ খেতাবপ্রাপ্ত রয়েছেন ৭, বীরউত্তম ৬৮, বীরবিক্রম ১৭৫ এবং বীরপ্রতীক খেতাবপ্রাপ্ত ৪২৬।

বর্তমানে বীরশ্রেষ্ঠদের পরিবার মাসিক সম্মানীভাতা হিসেবে ১২ হাজার, বীরউত্তম ১০ হাজার, বীরবিক্রম ৮ হাজার ও বীরপ্রতীকরা ৬ হাজার টাকা করে পাচ্ছেন। আর সাধারণ মুক্তিযোদ্ধারা পাচ্ছেন ৫ হাজার টাকা করে। সাধারণ মুক্তিযোদ্ধাদের ভাতা বাড়ানোর বিষয়টি অনেক আগে সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। এরই মধ্যে আবার খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধাদের ভাতা প্রায় চারগুণ বাড়ানোর জন্য প্রস্তাব করে বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্ট।

এতে বীরশ্রেষ্ঠ খেতাবপ্রাপ্তদের ভাতা ১২ হাজার থেকে বাড়িয়ে ৪৫ হাজার, বীরউত্তমদের ১০ হাজার থেকে ৩৫ হাজার, বীরবিক্রমদের ৮ হাজার থেকে ৩০ হাজার এবং বীরপ্রতীক খেতাবপ্রাপ্তদের ৬ হাজার থেকে ২৫ হাজার টাকা প্রস্তাব করা হয়েছে। পাশাপাশি দুই ঈদ উৎসবে ভাতার সমপরিমাণ উৎসব বোনাসের কথাও প্রস্তাবে বলা হয়েছে। এ জন্য সরকারের অতিরিক্ত ব্যয় হবে ৫ কোটি ১৯ লাখ ২২ হাজার টাকা। ট্রাস্টের সুপারিশযুক্ত এ প্রস্তাব যাচাই-বাছাই করতে গত ২৩ আগস্ট মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম-সচিবকে (প্রশাসন) প্রধান করে ৫ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করে দেয় মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়। কমিটির সদস্য হিসেবে রয়েছেন বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টের পরিচালক (কল্যাণ), জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের পরিচালক (প্রশাসন) ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপসচিব (হিসাব)। সদস্য সচিব দায়িত্ব পালন করবেন উপসচিব (বাজেট)। ১৫ কর্মদিবসের মধ্যে এ সংক্রান্ত সুপারিশ জমা দিতে কমিটিকে সময়সীমা বেঁধে দেয়া হয় বলে জানা যায়।

সূত্র জানায়, জেনারেল (সাধারণ) মুক্তিযোদ্ধাদের মাসিক সম্মানী ভাতা (৫ হাজার থেকে) ৮ হাজার টাকা করা হয়েছে। গত সোমবার অর্থ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন পেয়েছি। প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঠানো হয়েছিল, তিনি অনুমোদন দিয়েছেন। ঈদের আগেই এ অর্থ ছাড় করতে হবে। তারা (সাধারণ মুক্তিযোদ্ধা) ঈদের আগেই বর্ধিত ভাতা পাবেন।

খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধাদের ভাতা বৃদ্ধির বিষয়টি সুরাহা কতদিন নাগাদ হচ্ছে- জানতে চাইলে সূত্র জানায়, ‘খেতাবপ্রাপ্তদের আরেকটু সময় লাগবে। কারণ খেতাবপ্রাপ্তরা তো শুধু একা না। যুদ্ধাহত আছে, শহীদ পরিবার আছে। মন্ত্রণালয় থেকে একটা কমিটি করে দেয়া হয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে একজন সদস্য দেবে। তারা সদস্য দিলে বৈঠক হবে। এরপর তা অর্থ মন্ত্রণালয়ে যাবে।

সূত্র জানায়, ঈদের আগে তাদের (খেতাবপ্রাপ্ত) ভাতার বিষয়টি (বর্ধিত) ফাইনাল করতে পারা যাবে কিনা, বলা যায় না। অনেক প্রসিডিউর আছে। জেনারেল (সাধারণ) মুক্তিযোদ্ধাদের ভাতা বাড়ানোর বিষয়টা নিয়েই কিন্তু অনেক দিন লেগেছে। সুতরাং ঈদের আগে না হলেও খেতাবপ্রাপ্তদের ভাতা বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত অতিদ্রুতই হবে।