১০ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

নিজের বিরুদ্ধে প্রচারের জন্য কোটি কোটি টাকা ব্যয়

  • মুনতাসীর মামুন

আমরা যেটিকে ইসলামী শিক্ষা ব্যবস্থা বলি, তার অবস্থা যে কত অরাজক সে সম্পর্কে আমাদের ধারণা প্রায় নেই বললেই চলে। এই শিক্ষার ভিত্তি বিভিন্ন ধরনের মাদ্রাসা এবং বিশ্ববিদ্যালয়সমূহের আরবী ও ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ। এ সম্পর্কে সুষ্ঠু কোন জরিপ হয়নি এবং যুগ যুগ ধরে একই ধরনের ব্যবস্থা চলে আসছে। কোন পাঠক্রমই সম্পূর্ণ সময়োপযোগী নয়। বরং অনেক ক্ষেত্রে ভুল ও বিকৃত তথ্য পরিবেশন করা হচ্ছে। আজকে যে জঙ্গী ও মৌলবাদের উত্থান হচ্ছে, তার ভিত্তিও এই শিক্ষা ব্যবস্থা। এমনকি ইসলামী ব্যাংক ও ইসলামী ব্যাংক ফাউন্ডেশন যে সব কার্যক্রম পরিচালনা করছে তাও সম্পূর্ণ ইসলামী নয়। সম্প্রতি ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক সামীম মোহাম্মদ আফজালের এ বিষয়ে দুটি জরিপ গ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে। একটি, ‘গবেষণার ধারণাপত্র’ [২০১৪], অন্যটি ‘আলিয়া মাদ্রাসার পাঠক্রম পর্যালোচনা’ [২০১৪]। দুটি গ্রন্থেরই প্রকাশক ইসলামিক ফাউন্ডেশন। আমার এই নিবন্ধের ভিত্তি ঐ দুটি গ্রন্থ।

যে সব প্রতিষ্ঠানে ‘ইসলামী শিক্ষা’ দেয়া হয় তার মধ্যে আছে মক্তব, হেফজখানা ও এতিমখানা, খানকাহ [প্রায় ১০ হাজার], স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, কওমী, আলীয়া এবং তাখাসসুস বা উচ্চতর আরবী শিক্ষা। সব মিলিয়ে এসব প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৬৭ লাখ ২৫ হাজার ২১১ জন। বাংলাদেশ সরকার ২০১৩-১৪ বছরে শিক্ষা খাতে বরাদ্দ ২,৫০,৫০,৭০,০০০ টাকা। এর মধ্যে সরকারী মাদ্রাসাসমূহে বরাদ্দ [হাজার টাকায়] ৬৪৭৬০। বেসরকারী মাদ্রাসাসমূহে ২০৫১৯০০৭, বেসরকারী মাদ্রাসাসমূহ (ভোকেশনাল ও বিজনেস ম্যানেজমেন্ট) ২৭১৮১, এবতেদায়ী মাদ্রাসাসমূহ ১৪৪১০৯ এবং বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষক প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে ৩৩৬৪২, সর্বমোট ২,০৭,৮৮,৬৯৯ টাকা।

এখানে আমরা প্রধানত কওমী ও আলীয়া মাদ্রাসা সম্পর্কে আলোচনা করব।

১৮৬৬ সালে ভারতে ‘উলুম দেওবন্দ মাদ্রাসা’ প্রতিষ্ঠার পর উপমহাদেশে এর অনুকরণে যেসব মাদ্রাসা গড়ে উঠেছে সেগুলোকে আমরা কওমী মাদ্রাসা হিসেবে জানি। সে পরিপ্রেক্ষিতে বলা যেতে পারে বাংলাদেশের কওমী মাদ্রাসাসমূহ দেওবন্দ তরিকার অন্তর্গত। এসব মাদ্রাসা আঞ্চলিক বিভিন্ন বোর্ড দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। তবে এসবের মধ্যে সর্ববৃহৎ ‘বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া’। কওমী মাদ্রাসার শিক্ষা সনদের সরকারী স্বীকৃতির লক্ষ্যে ২০১২ সালে গঠন করা হয় ‘বাংলাদেশ কওমী মাদ্রাসা শিক্ষা কমিশন’। এর প্রধান ১৯৭১ সালে মুজাহিদ হিসেবে পরিচিত হাটহাজারী মাদ্রাসার আল্লামা আহমদ শফি। এর ১৭ জন সদস্যের অনেকে হেফাজতপন্থী বা বর্তমান সরকার উৎখাতের ‘আন্দোলনে’ হেফাজত ইসলামের সঙ্গে জড়িত। কওমী মাদ্রাসায় গণিত, ইতিহাস, ভূগোল, সমাজপরিচিতি ও ইংরেজী পড়ানো হয়। তবে এসবই ‘বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া’ বা বেফাক কর্তৃক প্রকাশিত। এসব মাদ্রাসা সাধারণের দানে পরিচালিত হয়। এই মাদ্রাসাসমূহের কার্যক্রম পর্যালোচনা করে সামীম ১০টি সুপারিশ করেছেন-

৪। “কওমী মাদ্রাসাসমূহের জন্য কোন নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা না থাকায় যত্রতত্র মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে। ফলে মাদ্রাসার সার্বিক মান নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না। তাই সঠিক মান নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে কওমী মাদ্রাসার নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষ বা সংস্থা প্রতিষ্ঠা করা জরুরী।”

৬। “যেহেতু ওহীর জ্ঞান পবিত্র কুরআন ও হাদিসের ভাষা আরবী, তাই আরবী ভাষায় দক্ষ হওয়ার জন্য আরবী স্পোকেনের ওপর শিক্ষার্থীদের উপযোগী করে গড়ে তোলার জন্য যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।” অর্থাৎ, আরবী এরা প্রায় জানেন না।

৯। “দেশের সকল কওমী মাদ্রাসায় আরবী মিডিয়ামে পাঠদান বাধ্যতামূলক করতে হবে।”

অর্থাৎ, যে জ্ঞানের ভিত্তি আরবী সে আরবী ভাষায় ছাত্র ও শিক্ষকরা দক্ষ নয় বা জানে না।

আলীয়া মাদ্রাসা সরকারী অর্থে পরিচালিত। বিভিন্ন প্রকাশক এর বিভিন্ন স্তরের জন্য পাঠ্যবই প্রকাশ করে। এর মধ্যে বিভিন্ন বই বিভিন্ন আলীয়া মাদ্রাসার ছাত্রদের জন্য পাঠ্য করে।

সামীম আলীয়া মাদ্রাসার জন্যও আরবী মাধ্যমে পাঠদান বাধ্যতামূলক করার সুপারিশ করেছেন। অন্য সুপারিশগুলোও কওমী মাদ্রাসার জন্য সুপারিশসমূহের অনুরূপ। কিন্তু অন্য একটি পর্যালোচনায় তিনি যা বলছেন তা ভয়ানক। তার মতে, “... আলীয়া মাদ্রাসাসমূহে ইলমের সঠিক চর্চা হচ্ছে না। এমনকি মাদ্রাসার সর্বোচ্চ ডিগ্রী অর্জন করার পরও একজন শিক্ষার্থী আরবী ভাষা বুঝতে পারছে না। শিক্ষার্থীরা সার্টিফিকেটসর্বস্ব পড়াশোনা করছে। এ কারণে, দেশে যোগ্য আলেম তৈরি হচ্ছে না। এরা ইসলামের ভুল ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ করছে।” ফলে অনেক সময় ভুল ব্যাখ্যা বিশ্লেষণের কারণে সমাজে বিশৃঙ্খলা পর্যন্ত সৃষ্টি হচ্ছে।

বিশ্ববিদ্যালয়সমূহের আরবী বিভাগগুলোর শিক্ষক ও ছাত্রদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করে তিনি যে সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন তা’হলো- “কুরআন ও হাদিসের ভাষা আরবী হলেও আরবী ভাষা ও সাহিত্য বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় স্তরে পাঠদানের ক্ষেত্রে টেক্সট হিসেবে পবিত্র কুরআন ও হাদিস যেভাবে পাঠদান করা উচিত ছিল সেভাবে পাঠদান করা হচ্ছে না। আরবী বিভাগের সিলেবাসে পবিত্র কুরআন ও হাদিসের বিষয়সমূহ প্রতিফলিত হয়ে উঠেনি। ফলে একজন শিক্ষার্থী দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ থেকে আরবী ভাষায় অনার্স ও মাস্টার্স ডিগ্রী সমাপ্ত করার পরও পবিত্র কুরআন ও হাদিসের পূর্ণ জ্ঞানার্জনে সক্ষম হচ্ছে না।”

ইসলামিক স্টাডিজ সম্পর্কেও তিনি একই ধরনের মন্তব্য করেছেন। সে জন্য আর পুনরুক্তি করছি না।

দুই.

আমার অনেক পরিচিত বন্ধুবান্ধব, আত্মীয়স্বজন সারাজীবন পাশ্চাত্য শিক্ষা গ্রহণ করে সেক্যুলার প্রতিষ্ঠানে চাকরি করে। ছেলে-মেয়েদের নাসারাদের দেশে পাঠিয়ে পরিতৃপ্ত হয়ে, অবসর গ্রহণের পর থুতনিতে খানিকটা দাড়ি রেখে, ইসলামী ব্যাংকে টাকা রাখেন, কেন? তাদের মতে, সুদ খাওয়া হারাম। ইসলামী ব্যাংক সুদ দেয় না, নেয় না। এরা হয় জ্ঞানপাপী, না হয় মূর্খ। বাংলাদেশের ইসলামী ব্যাংক পরিচালিত হয় জামায়াতমনা ব্যক্তিদের দ্বারা, যারা জামায়াতের আদর্শকেই ইসলামী আদর্শ বলে মানে এবং আমরা জানি জামায়াতের আদর্শের সঙ্গে প্রকৃত ইসলামী আদর্শ সঙ্গতিপূর্ণ নয়। সামীম ইসলামী ব্যাংক ও ইসলামী ব্যাংক ফাউন্ডেশন সম্পর্কে কিছু পর্যালোচনা রেখেছেন বিভিন্ন আলেম-উলেমার সঙ্গে আলোচনার পর। আমরা অবশ্য অনেক আগেই এসব সিদ্ধান্তে পৌঁছেছি। তিনি লিখেছেন-

“...এ কথা নির্দ্বিধায় বলা যায় যে, ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিঃ মূলত ইসলামী ব্যাংক নয়। ব্যাপক পর্যালোচনায় লক্ষ্য করা গেছে যে, ব্যাংকের আগে ‘ইসলাম’ শব্দ ব্যবহার করে ইসলামী ব্যাংক নাম দিয়ে মূলত ধর্মপ্রাণ জনগোষ্ঠীর সঙ্গে এক ধরনের প্রতারণা করা হয়েছে। কাজেই এটিকে সঠিক অর্থে ‘ইসলামী ব্যাংক’ বলা যায় না।”

সামীম মন্তব্য করেছেন- যেহেতু ইসলামী শরিআহ সম্পূর্ণভাবে এই ব্যাংক অনুসরণ করে না সেজন্য এই ব্যাংকের শিরোনামে ‘ইসলামী’ শব্দটি ব্যবহার করা অবৈধ।

ইসলামী ব্যাংক গঠন করেছে ইসলামী ব্যাংক ফাউন্ডেশন। মূল ব্যাংক থেকে তারা টাকা বিভিন্ন খাতে সরিয়ে নেয় ফাউন্ডেশনে এবং তা বিভিন্ন খাতে ব্যয় করে নিজেদের প্রভাব বিস্তারে। সামীম এখানে জামায়াতে ইসলামীর কথা লেখেননি। কিন্তু, আমরা অনুমান করে নিতে পারি, যেহেতু জামায়াতের সমর্থকরা এই ব্যাংক পরিচালনা করে সেহেতু ফাউন্ডেশনের অর্থ ব্যয় করা হয় জামায়াতের সাংগঠনিক কাঠামো শক্তিশালী করে এর প্রভাব বৃদ্ধিতে। সামীম লিখেছেন-

“৪. ইসলামী ব্যাংকিং ব্যবস্থায় যেহেতু সুদী লেনদেনের কোন বিধান নেই, কাজেই ২নং অনুচ্ছেদে বর্ণিত ব্যাংকিং ব্যবস্থায় অর্জিত সুদ এবং জরিমানার নামে অর্জিত আয় সন্দেহজনক খাত দেখিয়ে অন্য ফান্ডে স্থানান্তর করা হয়। ইসলামী ব্যাংক সন্দেহজনক উক্ত অর্থ ইসলামী ব্যাংক ফাউন্ডেশনে স্থানান্তর করে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে। এসব কার্যক্রমের মধ্যে যেমন রয়েছে সেবামূলক কার্যক্রম, তেমনি আছে সুদভিত্তিক বা মুনাফাভিত্তিক ক্ষুদ্র ঋণ প্রকল্প। এ ক্ষুদ্র ঋণ প্রকল্পের মাধ্যমে সন্দেহজনক বা সুদযুক্ত আয়কে পুনরায় লাভজনক কাজে বিনিয়োগ করে মুনাফা অর্জন করা হয়ে থাকে। সন্দেহজনক সুদের অর্থ দিয়ে ক্ষুদ্র ঋণের নামে মুনাফাজনক ব্যবসায় পরিচালনা করা শরীয়তসম্মত নয় বলে ওলামায়ে কেরাম মনে করেন।”

শুধু তাই নয়, ইসলামী ব্যাংকের একটি ব্যবসা হলো মানুষকে “ধোঁকা দেয়া” ও “সরকারের কর ফাঁকি দেয়া”, যাকে কোনভাবে ইসলামী বলা যায় না।

ইসলামী ব্যাংক ‘সন্দেহজনক খাত’ নাম দিয়ে মুনাফার একটি অংশ সরিয়ে নেয় ইসলামী ব্যাংক ফাউন্ডেশনে এবং সেই টাকা “বিধিমত সেবামূলক বিভিন্ন কাজের নাম দিয়ে প্রদান করা হয় একমাত্র দলীয় লোক বা প্রতিষ্ঠানকে।”

তিন.

কওমী মাদ্রাসায় কী পড়ানো হয় তার বিস্তারিত পর্যালোচনা করা সম্ভব হয়নি। কিন্তু আলীয়া মাদ্রাসায়- সামীম পর্যালোচনা করে দেখিয়েছেন-

১. আলীয়া মাদ্রাসার শিক্ষাক্রমে বাংলাদেশ রাষ্ট্রের “নীতি-আদর্শের বাইরেও এমন কিছু বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে যা বর্তমান বিশ্বের ৫৬টি মুসলিম অধ্যুষিত দেশের কোন শিক্ষা কারিকুলামে খুঁজে পাওয়া যাবে না।” ইউনিক পাঠক্রম বলতে হবে!

২. যে বিষয়টি শুধু আপত্তিকর নয় মারাত্মক, তা হলো এই পাঠক্রমে “এমন একটি মতাদর্শের চর্চার সুযোগ অবারিত করা, অর্থাৎ মওদুদীর ভ্রান্ত আক্বিদা প্রচারের সুযোগ সৃষ্টি করা।”

৩. শুনে আশ্চর্য হবেন যে, আলীয়া মাদ্রাসায় ইসলামের ইতিহাস পড়ানো হয় যার সিলেবাসের শুরু আইয়ামে জাহেলিয়াত থেকে ১৯৪৭ সাল পর্যন্ত। সেখানে পাকিস্তানের ইতিহাস আছে, বাংলাদেশের নেই।

৪. মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড আলিম শ্রেণীর পাঠসূচী শুধু তৈরি করে; কিন্তু তারা এ সম্পর্কিত কোন বই প্রকাশ করে না। সিলেবাস অনুযায়ী বইগুলো প্রকাশ করে বিভিন্ন প্রকাশনা যাদের ওপর জামায়াতে ইসলামীর প্রভাব বেশি। প্রকাশিত অধিকাংশ বইয়ে লেখা থাকে ‘বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড কর্তৃক অনুমোদিত’। ফাজিল, কামিল ও অনার্স শ্রেণীর পাঠক্রম তৈরি করে কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়। সে পাঠক্রম অনুসারে বই করে ওই ধরনের প্রকাশনাগুলো।

যেসব প্রকাশনা সংস্থা এই বইগুলো প্রকাশ করে তার একটি সংক্ষিপ্ত তালিকা রচনা করেছেন সামীম। এগুলো হলো- আল ফাতাহ পাবলিকেশনস, আল বারাকা প্রকাশনী, পাঞ্জেরী প্রকাশনী, কামিয়াব প্রকাশনী, আল মদীনা প্রকাশনী, মিল্লাত প্রকাশনী, ইমতেহান প্রকাশনী, ইসলামিয়া কুতুবখানা, আল-আরাফা প্রকাশনী প্রভৃতি। তিনি সুনির্দিষ্টভাবে লিখেছেন- “বিভিন্ন তথ্য থেকে জানা যায়, এসব প্রকাশনা অধিকাংশই মওদুদী দর্শন ও জামায়াতী আদর্শ দ্বারা পরিচালিত। এসব প্রতিষ্ঠানের কোন কোনটি ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিঃ-এর আর্থিক সহায়তায় গড়ে উঠেছে বলে অনেকেই মনে করেন।”

আলীয়া মাদ্রাসায় যেসব বই পড়ানো হয় সেসব থেকে প্রচুর উদ্ধৃতি দিয়েছেন সামীম। এসব পড়লে আপনি স্তম্ভিত হয়ে যাবেন। শেখ হাসিনার শাসনকালে, যেখানে প্রাক্তন মার্কসবাদী বর্তমানে উদারচেতা শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ ও শিক্ষা সচিব যিনি অবকাশ পেলে সেক্যুলার ইতিহাস/পৌরবিজ্ঞান এসব তুলে দিতে বলেন- তাঁর/তাঁদের আমলে এসব পড়ানো হচ্ছে। অসংখ্য উদাহরণের মধ্যে আমি কয়েকটি উদাহরণ দেব সামীমের জরিপ থেকে।

বর্তমান আওয়ামী লীগ বা ১৪ দলীয় জোটের নেতারা যে কত বড় মুসলমান তা অহরহ তাঁরা প্রমাণে সচেষ্ট থাকেন। বক্তৃতা শুরু করেন বিসমিল্লাহ বলে, হেজাবিদের দেখলে প্রেমিকের মতো মধুর হাসি হাসেন। কিন্তু, আমরা জানলাম বা শিশুরা জানছে ছেলেবেলা থেকে আসলে পৃথিবীতে ইসলামের ঝা-া তুলে ধরে আছে মানবতাবিরোধী অপরাধীর দল জামায়াত ও ছাত্রশিবির। উদাহরণ-

বর্তমানে ‘মুসলিম বিশ্বে’ ইসলামী মূল্যবোধ জাগ্রত রাখছে কারা? “মধ্যপ্রাচ্যে ইখওয়ানুল মুসলেমীন, ইন্দোনেশিয়ায় শরীয়ত পার্টি, মালয়েশিয়ায় প্যান মালোয়ান ইসলামী এ্যাসোসিয়েশন, ভারতীয় উপমহাদেশ ও আফগানিস্তানে জামায়াতে ইসলামী, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম, নেজামে ইসলাম প্রভৃতি রাজনৈতিক দল এবং ছাত্রদের মধ্যে সাবেক ইসলামী ছাত্রসংঘ, ছাত্রশক্তি পরে ইসলামী ছাত্রশিবির প্রভৃতি ছাত্র সংগঠনের যৌথ প্রচেষ্টায় মুসলিম সমাজে অভূতপূর্ব পরিবর্তন সাধিত হয়েছে বা হচ্ছে।” [আলিম শ্রেণীর পৌরনীতি, আল ফাতাহ পাবলিকেশনস, বাংলাবাজার, ঢাকা, ২০১৩ পৃ. ৫৬] চলবে...