২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ইন্টারনেটের গ্রাহক সুবিধা

ব্যবসায়িক ইন্টারনেট কিনছেন কম দামে, কিন্তু গ্রাহকদের কাছে আগের দামেই বিক্রি করছেন। তাহলে দাম কমার ফলে গ্রাহকদের কি সুবিধা হলো? সরকার বিভিন্ন সময়ে দফায় দফায় ইন্টারনেটের দাম কমালেও মানুষ তার সুফল পায়নি। ইন্টারনেট ব্যবহার সাশ্রয়ী, সহজলভ্য ও সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছানোর লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা যথাযথভাবে পালন না করা অনভিপ্রেত। ইন্টারনেট ব্যবহারের ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রীর স্পষ্ট নির্দেশ ছিল দাম কমানোর। দৃশ্যত এর দাম কমানো হলেও কার্যত গ্রাহক পর্যায়ে কমেনি এবং সুফলও তারা ভোগ করতে পারছে না। মুষ্টিমেয় কিছু ব্যক্তি ও মুনাফাখোর মাঝখান থেকে মুনাফা লুটছে বলাবাহুল্য। এ বাস্তবতা প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ পুরোপুরি পালন না করার শামিল।

মানব সমাজ এখন নানা ক্ষেত্রেই ইন্টারনেটনির্ভর। ইন্টারনেট যুগে বিশ্ব প্রবেশ করা এক যুগান্তকারী ঘটনা, তা আর কাউকে এখন বুঝিয়ে বলতে হয় না। যোগাযোগের এই মাধ্যমটি বিশ্ব মানব সমাজ তথা সভ্যতাকে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনে দিয়েছে। সব ক্ষেত্রে গতিশীলতার পাশাপাশি সবাইকে এনে দিয়েছে নৈকট্য। এক কথায় বলতে গেলে ইন্টারনেট মাধ্যম বিশ্ববাসীকে করেছে এক গ্রামভুক্ত। এই বাস্তবতায় বাংলাদেশ পিছিয়ে থাকবে এমনটা ভাবা যায় না। এই প্রবাহে যুক্ত থেকে উন্নয়ন যাত্রাকে সমৃদ্ধ করতে সরকার সচেতন শুরু থেকেই। এ খাতে বরাদ্দও করা হয় আশানুরূপভাবে। এ দেশে ইন্টারনেটের ব্যবহার ও ব্যাপক চাহিদা বৃদ্ধিতে জনকল্যাণে বর্তমান সরকার ইতিবাচক পদক্ষেপ নেয়। সর্বসাধারণে যে ধারণাটি প্রতিষ্ঠিত হয় তা হলো- ইন্টারনেট ব্যবহার শুধু সেবামাধ্যম নয়, এটা এখন অধিকারের পর্যায়ে। গণতান্ত্রিক সরকারের অন্যতম দায়িত্ব নাগরিকের মৌলিক অধিকার রক্ষা ও নিশ্চিত করা। এ দায়িত্ব পালনের বোধ থেকেই প্রধানমন্ত্রী বৃহত্তর জনগোষ্ঠীকে এর আওতায় আনতে ও ব্যবহার সহজলভ্য করতে ইন্টারনেট সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন। যাতে একেবারে সাধারণ আয়ের মানুষটিও সারাবিশ্বের সঙ্গে যুক্ত হতে পারেন। ৪১ শতাংশ দাম কমিয়ে বাংলাদেশ সাবমেরিন কেবল কোম্পানি লিমিটেড (বিএসসিসিএল) ৬টি সুপারিশ পাঠায় বিটিআরসিকে। সে সুপারিশ বাস্তবায়িত হওয়ার কথা ছিল চলতি মাসের শুরু থেকে। তা বাস্তবায়িত না হওয়া দুঃখজনক। তবে বিএসসিসিএলের উদ্যোগ প্রশংসার যোগ্য। ব্যান্ডউইথ কম দামে কিনলেও সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা গ্রাহক পর্যায়ে কোন দাম কমায়নি। শুধু তাই নয়, একচেটিয়া ব্যবসা করার হীনমানসিকতায় গ্রাহক সরকারী ইতিবাচক সিদ্ধান্তের ফল ভোগ করতে পারছে না। এসব ব্যবসায়ীর এমন কার্যক্রম আইনত সিদ্ধ নয়। এদের কর্মকা-ে সিন্ডিকেটই স্পষ্ট হচ্ছে ক্রমান্বয়ে, যা এ মুহূর্তে প্রতিরোধ করা জরুরী। এটি জোরালো মনিটরিংও দাবি করে।

ফাইবার অপটিক্যালের ব্যাপারে যে বাস্তবতা বিরাজ করছে সে ব্যাপারে সংশ্লিষ্টদের নতুন করে ভাবা দরকার। কেননা দেশের কিছু নির্দিষ্ট এলাকায় এ অপটিক্যাল সিস্টেম প্রভাব ফেলছে। ফলে অন্য এলাকায় গ্রাহক সুবিধা হচ্ছে বিঘিœত। এটা যে স্পষ্ট বৈষম্য তা বলার অপেক্ষা রাখে না। একই দেশে একই ক্রয়মূল্যে এক অঞ্চলের গ্রাহক সেবা নির্বিঘ্ন থাকব আর আরেক এলাকায় ঘটবে বিঘ্ন- এটা ভোক্তার অধিকারকে স্পষ্টত ক্ষুণ্ণ করে এবং অস্বাভাবিক ব্যাপারও বটে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পুরো বিষয়টি বিবেচনায় রেখে দ্রুত যথাযথ পদক্ষেপ নেবে বলে আমাদের প্রত্যাশা।