১০ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

‘মেসির ১০০’

‘মেসির ১০০’
  • যেন এভারেস্ট জয় করেছেন ফ্লোরেঞ্জি!

স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ অবাক করা ব্যাপারই বলতে হবে। উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লীগে লিওনেল মেসির ১০০তম ম্যাচে সব আলো কেড়ে নিলেন এমন একজন, ফুটবল-দুনিয়ায় যার খুব একটা পরিচিতি নেই। কিন্তু পরশু রাতে রোমের অলিম্পিক স্টেডিয়ামে যে কীর্তি গড়েছেন তাতে আলেসান্দ্রো ফ্লোরেঞ্জিকে নিয়ে হৈচৈ হওয়ারই কথা। চ্যাম্পিয়ন বার্সিলোনার বিপক্ষে তার গোল দেখে অনেকের কাছেই অবিশ্বাস্য লাগতে বাধ্য! যে কারণে প্রশংসায় ভাসছেন ইতালিয়ান এই ফুটবলার। সফল হতে না পারলেও খেলা শেষে মেসিও জানিয়ে দিয়েছেন, শততম ম্যাচ খেলতে পেরে তিনি দারুণ খুশি।

রোমার বিপক্ষে ম্যাচ শেষে মেসি নিজের ফেসবুক পেজে লেখেন, বিশ্বের সেরা দলগুলোর প্রতিযোগিতায় ১০০ ম্যাচ খেলতে পেরে আমি খুব খুশি। ইউরোপিয়ান ফুটবলের অনেক রাত আমার স্মৃতিতে আছে। সামনে আরও কিছু জাদুকরী ইউরোপিয়ান রাত আসবে। নতুন মৌসুমের প্রথম ম্যাচে মাঠে নেমে মেসি গড়েন সর্বকনিষ্ঠ ফুটবলার হিসেবে শততম ম্যাচ খেলার রেকর্ড। আর রেকর্ডের পাতায় আরেকটি নাম লিখিয়ে মেসি জানান, এখন অনেক ফুটবল জাদু দেখানো বাকি রয়েছে। সাফল্যের জন্য আমি এখনও ক্ষুধার্ত। সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়ে গত মৌসুমে বার্সিলোনাকে ঐতিহাসিক ট্রেবল শিরোপা পাইয়ে দেন মেসি। চ্যাম্পিয়ন্স লীগের শিরোপা জিততেও ২৮ বছর বয়সী মেসি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। শততম ম্যাচ স্মরণীয় করতে না পারলেও চ্যাম্পিয়ন্স লীগে এখন পর্যন্ত ১০০ ম্যাচে ৭৭ গোল করেছেন মেসি। ৮০ গোল করে সবার উপরে আছেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো। ২০০৪ সালের ডিসেম্বরে শাখতার ডোনেস্কের বিপক্ষে চ্যাম্পিয়ন্স লীগে অভিষেক ম্যাচ খেলেন মেসি। এরপর তাকে আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। একে একে টুর্নামেন্টটির ১২টি আসরে অংশ নেন। কাতালানদের হয়ে ইউরোপ সেরা হয়েছেন চারবার।

অভিষেকের প্রায় এক বছর পর চ্যাম্পিয়ন্স লীগে প্রথম গোল পান মেসি। ২০০৫ সালের নবেম্বরে প্যানাথিনাকোসের বিপক্ষে বার্সার গ্রুপ ম্যাচে ৫-০ ব্যবধানে জয়ের ম্যাচে গোল করেন মেসি। সেবার চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরবও অর্জন করে স্প্যানিশ ক্লাবটি। পেপ গার্ডিওলার অধীনে ২০০৮-০৯ মৌসুমে মেসি ১২ ম্যাচে নয় গোল করে বার্সাকে আবারও চ্যাম্পিয়নের মুকুট পরান। সেবার রোমের অলিম্পিক স্টেডিয়ামে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের বিপক্ষে ফাইনালে জয় পায় বার্সা। ফাইনালে অসাধারণ একটি গোলও করেন মেসি। মজার বিষয় হচ্ছে, নিজের ১০০তম ম্যাচও সেই মাঠেই খেললেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। মেসির মাইলফলককে স্মরণীয় করতে তাকে উপহার দেয়া হয়েছে ‘১০০’ লেখা সংবলিত একটি জার্সি।

নিজেদের মাঠে বার্সার বিপক্ষে তখন ১-০ গোলে পিছিয়ে রোমা। ম্যাচের ৩১ মিনিটে নিজেদের অর্ধে বল পেয়ে দৌড় শুরু করেন ফ্লোরেঞ্জি। হাফলাইন পেরিয়ে ডান দিকের টাচলাইনের কাছে এসে দেখলেন, বার্সার গোলরক্ষক গোলপোস্ট থেকে কিছুটা বেরিয়ে এসেছেন। প্রতিপক্ষের পোস্ট তখন প্রায় ৫০ মিটার দূরে। এতদূর থেকেই শট নিলেন রোমার ২৪ বছর বয়সী মিডফিল্ডার। সবাইকে বিস্ময়াভিভূত করে বল চলে গেল জালে! বার্সার জার্মান গোলরক্ষক অবশ্য পড়িমরি করে ফেরার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু যখন দেখলেন লাভ নেই, হাল ছেড়ে দিলেন। বল শূন্যে ভেসে পোস্টে আসছে, অথচ গোলরক্ষক ঠেকানোর চেষ্টা করছেন না! ফুটবল মাঠে এমন দৃশ্য সত্যিই বিরল। এমন গোল যে খুব বেশি হয় না, তা ভালমতো বুঝতে পেরেছেন ফ্লোরেঞ্জিও। ম্যাচ শেষে তার মন্তব্যেই তা পরিষ্কার। তিনি বলেন, এমন ঘটনা প্রতিদিন ঘটে না। ভিডিওতে গোলটা দেখে বেশ আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েছিলাম। ফ্লোরেঞ্জি আরও বলে, আমরা যেন এভারেস্ট জয় করেছি! সেই গোলের পর আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে লড়াই করে ওদের (বার্সিলোনা) রুখে দিয়েছি। আমরা ওদের শক্তি-সামর্থ্য সম্পর্কে জানতাম। আর সেভাবে প্রস্তুতিও নিয়েছিলাম।