২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

পশ্চিমাঞ্চল রেলে সেবার মান উন্নত হওয়ায় আয় বেড়েছে

ডি.এম তালেবুন নবী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ॥ পশ্চিমাঞ্চল রেল আবার ঘুরে দাঁড়িয়েছে। দীর্ঘদিনের অচলাবস্থা কাটিয়ে যোগ্য নেতৃত্বের কারণে পশ্চিমাঞ্চল রেলের এই উত্তোরণ। যা সবার নজর কেড়েছে এবং মানুষ এসব এলাকার রেলে ভ্রমণে উৎসাহ আর উদ্দীপনা পেয়েছে। জনগণের এই সহযোগিতা ও বেশি বেশি করে রেল ভ্রমণের কারণে অতীতের দুর্নাম এবং ‘অলাভজনক অবস্থা সৃষ্টির দুর্নাম’ কাটিয়ে বেরিয়ে এসে লাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করায় এই ঘুরে দাঁড়ানোকে সাধুবাদ জানিয়েছে এ অঞ্চলের রেলের সুবিধাভোগী জনসাধারণ। দীর্ঘ সময় ধরে অলাভজনক ট্রেনকে তুলে এনে লাভজনক বানাবার মধ্যদিয়ে আবার প্রমাণিত হলো অঞ্চলজুড়ে যে সন্দেহ ও রেলপথ বিলুপ্তির দিকে এগিয়ে যাওয়া রুখে দেবার পথ প্রশস্ত হলো।

বাংলাদেশ রেলওয়ের পশ্চিমাঞ্চল পাকশি বিভাগ লোকসানের বোঝা হটিয়ে চলতি অর্থ বছরে নতুন দিগন্তের সৃষ্টি করল যাত্রী সেবা উন্নত হবার কারণে ও পার্সেল বেড়ে যাবার ফলে এখন সবাই নিশ্চিত হয়েছে রেলে মালামাল বহনে আর কোন ঝুঁকি নেই। সব মিলিয়ে এবার পশ্চিমাঞ্চল রেলের পাকশি জোন অতিরিক্ত আয় করেছে প্রায় ৬১টি কোটি টাকা। যা গত প্রায় দুই দশকের রেকর্ড ভেঙ্গে গুঁড়িয়ে দিয়েছে। রেলের খুবই দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের ভাষ্য হতে এসব উন্নয়ন তথ্য উঠে এসেছে। ২০১৩-১৪ অর্থবছরে যাত্রী বহনে ১৩৬ কোটি ৬৪ লাখ, পার্সেল ৬ কোটি ৭৬ লাখ, মালামাল বহনে ৯৩ কোটি ১০ লাখ ও বিবিধ খাত থেকে ৪ কোটি ৭ লাখ টাকা মিলে মোট আয় করেছে ২৫২ কোটি ৩৭ লাখ টাকা। যা তার আগের অর্থবছরের চেয়ে অতিরিক্ত ৬১ কোটি টাকা বেশি। ১৪-১৫ অর্থবছরেও অতিরিক্ত লাভের দিকে এগুচ্ছে রেল। এই জোনের ব্যবস্থাপক আফজাল হোসেন জনকণ্ঠকে জানান, রেলের নানাবিধ সমস্যা থাকার পরেও কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের একাগ্রতা ও দুর্নীতি থেকে দূরে থাকার কারণে অতীতের রেকর্ড ভেঙ্গে অতিরিক্ত আয় করা সম্ভব হয়েছে। তবে ঢাকামুখী ট্রেনে অধিক কোচ সংযোজন ও বন্ধ স্টেশনগুলো খোলা থাকলে এবং বিশেষ করে চালক ও গার্ড সঙ্কট না থাকলে আয়ের পরিমাণ দ্বিগুণের কাছাকাছি চলে যেত।

পশ্চিমাঞ্চল রেলের মহাব্যবস্থাপক খাইরুল আনাম নিশ্চিত করেছেন নিকট ভবিষ্যতে প্রধানমন্ত্রী ও রেলমন্ত্রণালয়ের প্রতিশ্রুত ইচ্ছা বাস্তবায়নের কারণেই একদিকে যাত্রীসেবা বৃদ্ধি পাওয়াসহ রেলের আয় ম্যাজিকের মতো চক্রবৃদ্ধি হারে বেড়ে যাবে। ইতোমধ্যেই নানান সঙ্কট সমাধানে কাজ শুরু হয়ে গেছে। যার পরিপূর্ণ চিত্র পাওয়া যাবে ২০১৫-১৬ অর্থবছরে।

নির্বাচিত সংবাদ