২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

বাগেরহাটে ছাত্রীর আপত্তিকর ছবি ফেসবুকে ॥ অভিযুক্তকে না পেয়ে বাবা-মাকে মারপিট

স্টাফ রিপোর্টার, বাগেরহাট ॥ বাগেরহাটের শরণখোলায় ছাত্রীর আপত্তিকর ছবি সামাজিক যোগাযেযাগের মাধ্যম ফেজবুকে ছেড়ে দেয়ার ঘটনায় অভিযুক্ত রাজিবকে না পেয়ে শুক্রবার তার পিতা সুনীল হালদার (৫৫) ও মাতা মালা রানীকে(৩৫) বেধড়ক মারপিট করেছে ক্ষতিগ্রস্থ ছাত্রীর অবিভাবকরা। গুরতর আহত অবস্থায় সুনীল ও তার স্ত্রীকে এলাকাবাসী উদ্ধার করে প্রথমে শরণখোলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। পরে সুনীলের অবস্থার অবনতি ঘটলে তাকে বাগেরহাট সদর হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়।

উপজেলার চাল রায়েন্দা গ্রামের বাসিন্দা তাফালবড়ী স্কুল এন্ড কলেজের ম্যনেজিং কমিটির সদস্য মোঃ আলমগীর হোসেন জমাদ্দারের পুত্র নবম শ্রেনীর ছাত্র মোঃ রাব্বি জমাদ্দার (১৪) ও তার সহযোগী লাকুড়তলা গ্রামের বাসিন্দা সুনীল হালদারের পুত্র একই বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেনীর ছাত্র রাজিব হালদার (১২) দু বখাটে মিলে গত ১৫ সেপ্টেম্বর বিকেলে কোচিং ক্লাস শেষে ওই ছাত্রীর ছবি মোবাইল ফোনে ধারন করে। পরবর্তীতে স্থানীয় বাজারের একটি কম্পিউটারের দোকান থেকে ওই ছাত্রীর আপত্তিকর ছবি তৈরি করে ফেজবুকে ছড়িয়ে দিলে এলাকায় ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। প্রতিবেশীদের মোবাইলফোনে নিজের আপত্তিকর এমন ছবি দেখে ছাত্রীটি অসুস্থ্য হয়ে পড়ে। এ ঘটনায় ছাত্রীর পিতা আঃ মান্নান কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের নিকট অভিযোগ দাখিল করলে জরুরী সভায় হয়। অভিযুক্ত দুই ছাত্রকে বিদ্যালয় থেকে সাময়ীক ভাবে বরখাস্ত করা হয়। এ ঘটনা তদন্তে পরিচালনা ম্যানিজিং কমিটির সদস্য ফরিদ খান মিন্টুকে আহবায়ক করে পাঁচ সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করা হয়।

এরপর শুক্রবার সকালে ছাত্রীর পিতা আঃ মান্নান (৬০), স্ত্রী নার্গিস বেগম (৪০) দুই পুত্র আজিম (২৫) ও মনিরুজ্জামান বাবু (২৭) অভিযুক্ত রাজিবকে না পেয়ে ক্ষিপ্ত হয়ে তার পিতা সুনীল হালদার ও তার মাতা মালা রানীকে বেদম মারপিট করে। তাদের ডাকচিৎকারে স্থানীয় ইউপি সদস্য শাহজাহান বাদল জমাদ্দার, নিহার হালদার, শামসু জমাদ্দারসহ এলাকাবাসি এগিয়ে এসে গুরুতর আহত অবস্থায় তাদেরকে উদ্ধার করে শরণখোলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। পরে সুনীলের অবস্থার অবনতি ঘটলে তাকে বাগেরহাট সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

তবে আঃ মান্নান মারপিটের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, সুনীল কে বা কারা মারপিট করেছে তা তিনি জানেন না। অন্যদিকে শরণখোলা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি তদন্ত) মোঃ আঃ রহমান জানান, ক্ষতিগ্রস্থদের অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।