১১ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

নেত্রকোনায় উক্তত্যের প্রতিবাদ করায় বাবা ও মামাকে মারধরের অভিযোগ

নিজস্ব সংবাদদাতা, নেত্রকোনা ॥ নেত্রকোনায় সপ্তম শ্রেণির এক স্কুল ছাত্রীকে(১৪) উক্তত্য করার প্রতিবাদ চাইতে গিয়ে গত বৃহস্পতিবার ওই ছাত্রীর বাবা ও মামাকে জুতাপেটা করে মারধর এবং মাথা ন্যারা করে গ্রাম ছাড়ার হুমকির অভিযোগ উঠেছে গ্রাম্য সালিশের মাতাব্বরদের বিরুদ্ধে। গুরুতর আহত ওই ছাত্রীর বাবা ও মামাকে নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছেন। এ ঘটনায় গতকাল শুক্রবার দুপুরে নয়জনকে আসামী করে মামলা করা হয়েছে।

পুলিশ, এলাকার কয়েকজন বাসিন্দা ও ছাত্রীর পরিবার সূত্রে জানা গেছে, নেত্রকোনা সদর উপজেলার বর্নি গ্রামে আবদুল হামিদের ছেলে রতন মিয়া(৩০) শহরের একটি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণিতে পড়–য়া এক ছাত্রীকে প্রায়ই উক্তত্য করতো। চলতি মাসের ১১ তারিখ শুক্রবার দুপুরে ওই ছাত্রী পুকুরে গোসল করতে গেলে রতন মিয়া তখন তার উপর যৌন নির্যাতন চালায়। ছাত্রীর ডাক চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে গেলে রতন পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় ওই দিন সন্ধ্যায় গ্রামে সালিশ বসে। সালিশে রতনকে অপমান করা হয়। এতে রতন ও তার লোকজন ক্ষিপ্ত হয়ে ওই ছাত্রী ও তার পরিবারকে গালিগালাজ করে এবং দেখে নেওয়ার হুমকি দেয়। গত বৃহস্পতিবার দুপুরে রতনের লোকজন ফের সালিশের ডাক দেয়। সালিশে ছাত্রীকে দোষী সাব্যস্ত করে বলা হয় ছাত্রী রতনকে মোবাইল ফোনে বাড়িতে ডেকে এনে অসামাজিক কাজের জন্য। এক পর্যায়ে সিদ্ধান্ত হয় মেয়ে ও তার বাবাকে ইসলামী শরিয়া মোতাবেক মাটিতে পুতে বেত মারা অথবা মাথা ন্যারা করে গ্রামে ঘুরানো। তা না হলে তাদেরকে গ্রাম ছেড়ে দিতে হবে। শালিসের এ সিন্ধান্ত মেনে না নিয়ে ছাত্রীর বাবা ও মামা প্রতিবাদ করলে রতনের লোকজন তাদেরকে জুতাপেটা ও বেধরক মারপিট করে। গুরুতর আহত অবস্থায় ওই ছাত্রীর বাবা ও মামাকে নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

এ ঘটনায় ছাত্রীর বাবা বাদী হয়ে নেত্রকোনা মডেল থানায় শুক্রবার দুপুরে নয়জনকে আসামী করে মামলা করেছেন। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত রতন মিয়া পলাতক থাকায় তার সাথে কথা বলা সম্ভব হয়নি।

যৌনহয়রানীর শিকার ওই ছাত্রীর বাবা বলেন, বর্নি গ্রামের আবদুল হামিদের ছেলে রতন মিয়া সবসময় আমার মেয়েকে উক্তত্য করে আসছে। আমি তার বিচার চাইতে যাওয়ায় গ্রাম্য মাতাব্বরদের সিদ্ধান্তে রতনের লোকজনরা আমাকে ও আমার মেয়ের মামাকে জুতাপেটা করে মারধর করেছে। তারা আমার মাথা ন্যারা করে গ্রাম ছাড়ার হুমকি দিয়েছে।

ঠাকুরাকোনা ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মুঞ্জুরুল হক বলেন, ঘটনাটি আমি শুনেছি। সালিশে মাতাব্বররা যা সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন তা আইন সম্মত ও বৈধ নয়। আমি চাই অভিযুক্তদের বিচার হোক।

নেত্রকোনা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) মাছুদুর আলম বলেন, এ ঘটনায় নয়জনকে আসামী করে আজ শুক্রবার দুপুরে মামলা করা হয়েছে। আসামীদের ধরতে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে।