২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

টাঙ্গাইলে গরু মোটাতাজা করণে নিষিদ্ধ ওষুধ ব্যবহার

নিজস্ব সংবাদদাতা, টাঙ্গাইল ॥ পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে টাঙ্গাইলে গরু মোটাতাজা করণে ভেটেনারী চিকিৎসার নামে অতিমাত্রায় নিষিদ্ধ হরমোন ও অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার করা হচ্ছে। এতে গরুর কিডনি ও লিভার নষ্ট হলেও দেখতে হৃষ্টúুষ্ট-মোটাতাজা হয়। এ ধরণের রোগাক্রান্ত গরুর মাংস মানব দেঞের জন্য মারাতœক বিপদজনক বলে প্রাণিবিদরা অভিমত দিয়েছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, একটি অসাধু চক্র ভেটেনারী চিকিৎসা শাস্ত্রের নিষিদ্ধ স্ট্যারিঅয়েট হরমোন ও অ্যান্টিবায়োটিকের মত ওষুধ সেবনের মাধ্যমে গরু মোটাতাজা করার প্রদ্ধতি চালু করেছে। এ অপচিকিৎসার ফলে গরু অল্প সময়ে মোটাতাজা দেখা যায়। ফলে গরু বেশি দামে বিক্রি করা যায়। ওই চক্রের মাধ্যমে গ্রাম্য হাঁতুড়ে ডাক্তারদের খপ্পরে পড়ছে গরু লালন-পালনকারী সাধারণ কৃষক। এদের খপ্পরে পরে অনেক কৃষকের গরু মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে, অনেকে দেউলিয়া হয়েছেন বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। জেলা প্রাণি সম্পদ অধিদপ্তরের নজরদারীর অভাবে প্রতিবছর ঈদ মৌসুমেই এ চক্রের উপদ্রব বৃদ্ধি পাওয়ার অভিযোগ তুলেছেন ক্রেতারা। জেলা প্রাণি সম্পদ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, টাঙ্গাইলের ১২টি উপজেলা ও ১০৭টি ইউনিয়নে হৃষ্টপুষ্ট বা মোটাতাজাকরণ গো-খামার রয়েছে ৫ হাজার ৬৬৭টি। এতে ওই পদ্ধতির মোটাতাজাকরণ গরু রয়েছে ১৩ হাজার ২২৬টি।

এ প্রসঙ্গে টাঙ্গাইল সদর উপজেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা ডা. মোস্তাফিজুর রহমান জানান, গরু লালন-পালনে খামারীর পাশাপাশি সাধারণ কৃষক পর্যায়েও তারা সচেতনতামূলক কাজ চালাচ্ছেন। বাসা-বাড়িতে গরু লালন-পালন ও মোটাতাজাকরণের প্রকৃত ব্যবহৃত পন্থা বিশ্লেষণ করছেন। নিষিদ্ধ ওষুধ সম্পর্কেও কৃষকদের ধারণা দিচ্ছেন। নিষিদ্ধ স্ট্যারিঅয়েট হরমোন ও অ্যান্টিবায়োটিক সেবনের ফলে গরুর কলিজা, কিডনী ও পাকস্থলি নষ্ট হয়ে যায়। গরু মোটাতাজা বন্ধ বা পরিহারে সদর উপজেলাসহ জেলা ব্যাপী ভেটেনারী মেডিকেল টিম কাজ করছে বলেও জানান তিনি।

এ ব্যাপারে জেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা ডা. বিনয় কুমার নাগ জানান, জেলার মোট ৫৭টি হাটে ঈদুল আজহা উপলক্ষে গরু কেনাবেচা চলবে। সুস্থ ও নিরাপদে পশু কেনার লক্ষ্যে এ হাটগুলোতে ১৫টি মেডিকেল টিম কাজ করবে বলে জানান তিনি।