২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

পদ্মা সেতু প্রকল্পে ব্যবহার করা হচ্ছে ড্রোন

পদ্মা সেতু প্রকল্পে ব্যবহার করা হচ্ছে ড্রোন

স্টাফ রিপোর্টার,মুন্সীগঞ্জ ॥ ড্রোনের মাধ্যমে পদ্মা সেতুর নির্মাণকাজ তদারকি করছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চায়না মেজর ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি । পদ্মা নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে এখন টেস্ট পাইলিংয়ের কাজ পর্যবেক্ষণে এ ড্রোন ব্যবহার হচ্ছে। বাংলাদেশের কোনো প্রকল্পের কাজ পর্যবেক্ষণে ড্রোন ব্যবহারের এটিই প্রথম। ছোট আকারের ড্রোনটিতে অত্যাধুনিক ক্যামেরা স্থাপন করা আছে, যার মাধ্যমে মাওয়ার সাইট অফিস থেকে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে কাজের অগ্রগতি। পদ্মায় এখন প্রচুর ¯্রােত থাকার কারণেই বারবার সাইটে না গিয়ে ড্রোনের সাহায্যে কাজের পর্যবেক্ষন করা হচ্ছে।

পদ্মা সেতুর নির্বাহী প্রকৌশলী (মূল সেতু) দেওয়ান আব্দুল কাদের জানান, মূল সেতু নির্মাণ প্রস্তাবে ড্রোন ব্যবহারের কথা উল্লেখ করে চায়না মেজর ব্রিজ। সম্প্রতি এটি চীন থেকে আনা হয়েছে। এর জন্য পৃথক কোনো মূল্য নেয়া হচ্ছে না। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নিজস্ব ব্যয়ে এটি সংগ্রহ ও পরিচালনা করছে। এর জন্য কোন বিশেষ অনুমতিরও প্রয়োজনও নেই। সাধারণত ড্রোন ব্যবহারে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ ও বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অনুমোদন নিতে হয়। এক্ষেত্রেও পদ্মা সেতুর নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা সেনাবাহিনীর ৯৯ ব্রিগেডের সেনা কর্মকর্তরা এ ড্রোন চালানোর সময় পর্যবেক্ষন করেছেন। এতে তাদের কোন অপত্তি ছিলনা।

প্রচুর ¯্রােতের কারণে মাঝ নদীতে নির্মাণকাজ পর্যবেক্ষণ করা বেশ কঠিন। এজন্য ড্রোনের সাহায্যে তদারকির কাজ চলছে। ফড়িং আকৃতির প্রায় দুই ফুট দীর্ঘ ও দুই ফুট প্রস্থ ড্রোনটিতে পাখা রয়েছে চারটি। এতে বসানো আছে হাই রেজুলেশন ক্যামেরা, যা দিয়ে নির্মাণকাজের স্থির ও ভিডিও চিত্র সংগ্রহ করে দোগাছির সার্ভিস সেন্টার হতে প্রয়োজনীয় দিক নির্দেশনা দেয়া হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, পদ্মা সেতু দেশের অগ্রধিকার প্রাপত একটি বিশেষ প্রকল্প। আর পদ্মা একটি খরস্রোতা নদী। তাই এ নদীতে সেতু নির্মাণ বেশ জটিল প্রক্রিয়া। এজন্য প্রকল্পের চূড়ান্ত প্রস্তাবেই ড্রোন ব্যবহারের কথা জানায় চায়না মেজর ব্রিজ। আর সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের অনুমতি নিয়েই এটি ব্যবহার করা হচ্ছে। নির্মাণ শেষে এটি ফেরত নিয়ে যাবে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চায়না মেজর ব্রিজ।

অক্টোবরে পদ্মা সেতুর মূল কাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হবে। চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কেকিয়াংয়ের বাংলাদেশ সফরের সময় দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী সেতুটির নির্মাণকাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করার কথা রয়েছে। এজন্য ৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ চেয়েছে সেতু বিভাগ। সেতু বিভাগের তথ্যমতে, ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যে পদ্মা সেতুতে ৪২টি পিলার থাকবে। ১৫০ মিটার পর পর পিলার বসানো হবে। এজন্য দুই পাড় ও নদীর বিভিন্ন স্থানে টেস্ট পাইল করা হচ্ছে।

সূত্র জানায়, পদ্মা সেতুর বিভিন্ন প্রকল্পের কাজ শুরু হলেও এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়নি এখনও। প্রকল্পের ব্রীজ নির্মাণ ও নদী শাসন প্রধান দুটি অংশ চীনের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানই করছে। তাই আগামী মাসে চীনের প্রধানমন্ত্রীর বাংলাদেশ সফরের সময় সেতুটির নির্মাণকাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের সম্ভাব্য তারিখ নির্ধারণ করা করা হয়েছে। বাংলাদেশ-চীন কূটনৈতিক সম্পর্কের ৪০ বছর পূর্তি উপলক্ষে চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কেকিয়াং ঢাকা আসবেন । সে সময় তার সঙ্গে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সেতুটির নির্মাণকাজ উদ্বোধন করবেন। এরই মধ্যে প্রকল্পটির উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবনায় (ডিপিপি) উদ্বোধন বাবদ ৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে।

নির্বাহী প্রকৌশলী বলেন, পদ্মা সেতুর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্টদের সাথে আলোচনা চলছে। শিগগিরই চূড়ান্ত করা হবে অনুষ্ঠানের তারিখ।

দেওয়ান আব্দুল কাদের বলেন, পদ্মার দুই পাড়সহ নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে টেস্ট পাইুলংয়ের কাজ চলছে। তবে নদীতে খর¯্রােত থাকায় কাছের গতি কিছুটা স্লো হয়েছে। এতে করে কোন সিডিউল বিপর্যয় হয়নি। এখন পানি কমতে শুরু করেছে। তাই কাজের গতি আবার বাড়িয়ে দেয়া হয়েছে। সেস্ট পাইলিংয়ের পাশাপাশি বোল্ড পাইলিং করা হচ্ছে। এজন্য নদীর দুই পাড়েই প্রচুর লোহার পাইপ আনা হয়েছে। আর পাইপ দিয়ে পাইলিংয়ে ব্যবহার করা হচ্ছে জার্মানের দুটি হ্যামার। এর মধ্যে একটির ওজন আড়াই হাজার টন ও অন্যটির ১০ হাজার টন। সব মিলিয়ে মূল সেতুর কাজ যথাযথভাবেই এগিয়ে চরছে।

এদিকে এ প্রকল্পের নদী শাসনের কাজ অনেকটা পিছিয়ে আছে। এর মধ্যে সেপ্টেম্বরের শুরুর দিকে নদীভাঙন শুরু হওয়ায় কনস্ট্রাকশন ইয়ার্ড রক্ষায় দ্রুত ব্যবস্থা নেয় চীনের সিনোহাইড্রো করপোরেশন। তবে আসন্ন শুস্ক মৌসুমে নদী শাসনের কাজ পুরোদমে শুরু হবে বলে ষংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

অপর দিকে নদীর দুই পাড়ে সেতুর সংযোগ সড়ক নির্মাণকাজও পুরোদমে এগিয়ে চলেছে। এপারে মুন্সীগঞ্জ জেলার লৌহজং থানার মেদেনীমন্ডলও কুমারভোগ ইউনিয়নের মধ্য দিয়ে নির্মাণ করা হচ্ছে এ সংযোগ সড়ক। ওপারে শরীয়তপুর জেলার জাজিরা থানার নাওডোবা ইউনিয়নের মধ্য দিয়ে সাড়ে ১০ কিলোমিটার সংযোগ সড়ক নির্মাণকাজ চলছে। উভয় সংযোগ সড়কের কাজই যৌথভাবে করছে বাংলাদেশের আবদুল মোনেম লিমিটেড ও মালয়েশিয়ার এইচসিএল কনস্ট্রাকশন্স। আর এ সব কাছের তদারকি করছেন সেনাবাহিনীর একটি টিম। সেতু এলাকার নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করছেন সেনা বাহিনীর ৯৯ কম্পোজিট ব্রিগ্রেড।

নির্বাচিত সংবাদ