১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

পশুরহাট জমে উঠেছে সর্বত্র ॥ আসছে প্রচুর ভারতীয় গরু

  • কুড়িগ্রাম করিডরে সরবরাহ ভাল

অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ কোরবানির ঈদ সামনে রেখে সারা দেশে জমে উঠেছে গরুর হাট। একেক হাটের চিত্র একেক রকম। কোথাও দাম বেশি আবার কোথাও দাম কম। কোন হাটে দেশী গরুর আধিক্য কোথাও ভারতীয় গরুতে সয়লাব। এসব খবর পাঠিয়েছেন স্টাফ রিপোর্টার ও নিজস্ব সংবাদদাতারা।

কুড়িগ্রাম থেকে রাজু মোস্তাফিজ জানান, ঈদ সামনে রেখে কুড়িগ্রামের বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে আসছে বিপুলসংখ্যক ভারতীয় গরু। হাটবাজারগুলো জমে উঠেছে। দেশী গরুর চাহিদা থাকলেও ভারতীয় গরুর দাম কিছুটা কম হওয়ায় ক্রেতা ছুটছে ভারতীয় গরুর দিকে। কুড়িগ্রামের ভুরুঙ্গামারী, নাগেশ্বরী ও সদর উপজেলার কয়েকটি পয়েন্ট দিয়ে প্রতিদিন সহস্রাধিক ভারতীয় গরু আসছে। পরবর্তীতে করিডর হয়ে এসব গরু ট্রাকযোগে যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে। এক সপ্তাহে সহস্রাধিক গরু করিডর করা হয়েছে। এতে সরকারের রাজস্ব খাতে জমা হয়েছে প্রায় অর্ধকোটি টাকা। কুড়িগ্রামের সবচেয়ে বড় হাট ব্রহ্মপুত্রপারের যাত্রাপুর হাট। এ হাটে সারা বছরই প্রচুর ভারতীয় গরু-মহিষ বেচাকেনা হয়। ভারতী গরু আমদানি না হলে গোমাংসের দাম দ্বিগুণ হতো বলে জানান ব্যবসায়ীরা। কোরবানির হাট উপলক্ষে হাটে উঠেছে প্রচুর ভারতীয় গরু। যাত্রাপুর হাটের গরু ব্যবসায়ী শামীম জানান, একই সাইজের দেশী গরুর চেয়ে ভারতীয় গরুর দাম অনেক কম। কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার গরুর খামারী জাহাঙ্গীর আলম জানান, দেশী গরুর সঙ্গে ভারতীয় গরু বাজারে ওঠায় গরুর দাম একদম কমে গেছে। উচ্চমূল্যে খাদ্যসামগ্রী কিনে কম দামে গরু বিক্রি করলে এ বছর খামারীদের প্রচুর ক্ষতি গুনতে হবে। কুড়িগ্রাম সদর উপজেলা প্রাণীসম্পদ কর্মকর্তা হাবিবুর রহমান জানান, সময় যত যাচ্ছে গরু ততই হাটে উঠছে।

মাগুরা থেকে নিজস্ব সংবাদদাতা জানান, ক্রেতা-বিক্রেতার পদচারণায় মুখরিত মাগুরার কোরবানির পশুর হাটগুলো। প্রতিদিন বিভিন্ন এলাকায় কোরবানির হাট বসছে। হাটে প্রচুর পরিমাণে দেশী গরু ও ছাগলের আমদানি হচ্ছে। বিক্রি হচ্ছে ভাল। তবে দাম নিয়ে ক্রেতা-বিক্রেতার ভিন্ন মত রয়েছে। ক্রেতা বলছেন, দাম গত বছরের থেকে কিছুটা বেশি কিন্তু বিক্রেতা বলছেন দাম ঠিক আছে। এ বছর জেলার আড়পাড়া, কাটাখালী, রামনগর, আলমখালী, কাজলী, আলোকদিয়া, বেথুলিয়া, সীমাখালী, লাঙ্গলবান্ধ এলাকায় কোরবানির পশুর হাট বসেছে। হাটে দেশী গরু ও ছাগলের আমদানি হয়েছে পর্যাপ্ত। সরেজমিনে মাগুরার পশুর হাট পরিদর্শনে দেখা যায় ভারতীয় গরু না এলেও প্রচুর পরিমাণে দেশী গরু ও ছাগলের আমদানি হচ্ছে। নছিমন-ভটভটিতে গরু-ছাগল আসছে হাটে। হাজার হাজার মানুষের সমাগম ঘটছে। ক্রেতা-বিক্রেতা ব্যস্ত সময় পার করছেন। বিভিন্ন হাটে যাচ্চেন গরু-ছাগল ক্রয় করতে। প্রতিটি ছোট গরু প্রকারভেদে বিশ থেকে পঁচিশ হাজার টাকা, মাঝারি পঁয়ত্রিশ থেকে ষাট হাজার টাকা এবং বড় গরু আশি থেকে এক লাখ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ছাগল প্রতিটি প্রকারভেদে পাঁচ থেকে পনেরো হাজার টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে। এই দাম গত বছর থেকে প্রতিটি গরুতে পাঁচ হাজার টাকা এবং ছাগলের ক্ষেত্রে এক হাজার টাকা বেশি। মাগুরা সদরের কাটাখালী পশুর হাট ইজারাদার মহম্মদ রাতুল জানান, গরুর হাটে প্রচুর পশুর আমদানি হচ্ছে। বিক্রি হচ্ছে ভাল। ভারতীয় গরু না এলেও হাটে কোন প্রভাব পড়েনি ।

কেরানীগঞ্জ থেকে নিজস্ব সংবাদদাতা জানান, কেরানীগঞ্জে সম্পূর্ণ প্রাকৃতিকভাবে গরু লালনপালন ও মোটাতাজা করে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে শরীফ এ্যাগ্রোভেট নামে একটি গরুর খামার। দেশের অন্যান্য খামারের মতো এটি একটু ব্যতিক্রম । এটা খামার কাম-বিক্রি কেন্দ্র। রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে বিশেষ করে সৌখিন ক্রেতা তাদের পছন্দের গরু ক্রয় করতে প্রতিদিন এখানে ভিড় করছে। খামারটি ২০০৮ সালে ক্ষুদ্র পরিসরে প্রতিষ্ঠিত হলেও এ বছর কেরানীগঞ্জ উপজেলার কোনাখোলা এলাকায় শরীফ নগরে বিশাল জায়গায় বড় পরিসরে গড়ে তোলা হয়েছে। খামারটিতে সর্বনিম্ন ১ লাখ থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ১২ লাখ টাকা মূল্যের গরু রয়েছে। ঈদ-উল-আযাহার এক মাস আগে থেকে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ব্যবসায়ীরা গরু এনে এ খামারে পরিচর্যা করছে। রায়হান হোসেন নামে এক গরু ব্যবসায়ী জানান, এ খামারে কিছু গরু মজুদ করেছিÑ এর মধ্যে সাতক্ষীরা, চুয়াডাঙ্গা, আলমডাঙ্গা, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, ঝিনাইদহ, মেহেরপুরসহ বিদেশের নেপাল, ভুটান ও ভারত থেকে গরু আমদানি করা হয়েছে। এ ব্যাপারে খামারের সহকারী ম্যানেজার এস এম ফয়েজ বলেন, আমরা এ খামারটি একটু পরিকল্পিতভাবে করার চেষ্টা করেছি। আগে গরুর খামারীরা নোংরা পরিবেশে গরু লালনপালন করত। আমরা এখন খুব স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশে গরু লালন করছি। শরীফ এ্যাগ্রোভেট খামারের স্বত্বাধিকারী রায়হান শরীফ সোহান বলেন, দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে দেশী ও বিদেশী জাতের গরু ক্রয় করে খামারে এক থেকে দেড় বছর লালনপালন করা হয়ে থাকে। গরুর খাবার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে প্রাকৃতিক ঘাস, খড়, খৈল, ভুসি ও খেসারি ডাল । এখানে কোন প্রকার ইনজেকশন বা রাসায়নিক দ্রব্য ব্যবহার করা হচ্ছে না । এ ছাড়াও এবার ঈদে কেরানীগঞ্জে ছোটবড় ৭টি গরুর হাট বসবে। এ ব্যাপারে উপজেলার শাহিন আহমেদের সঙ্গে কথা হলে তিনি জানান, এ বছর নয়াবাজার ও বুড়িগঙ্গা ২য় সেতুর ওপর কোন অবৈধ গরুর হাট বসতে দেয়া হবে না তাই এর প্রভাবটা কেরানীগঞ্জের হাটে পড়বে।

রাজশাহী থেকে স্টাফ রিপোর্টার জানান, অবশেষে কোরবানির ঈদ সামনে রেখে জমে উঠেছে রাজশাহীর পশুহাটগুলো। হাটে হাটে এখন দেশীয় গরুর পাশাপাশি ভারতীয় গরুর আধিক্যও ছড়িয়ে পড়েছে। কেনাবেচাও শুরু হয়ে গেছে রাজশাহীর হাটে। দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকার পর হাটগুলোতে বেড়েছে ভারতীয় গরুর আমদানি। হঠাৎ করে ভারতীয় গরুর আমদানিতে তুলনামূলক দাম কমে যাওয়ায় হতাশ দেশী গরুর খামারি ও বাড়িতে পালনকারীরা। অনেকেই রয়েছেন পুঁজি হারানোর আশঙ্কায়। রাজশাহী অঞ্চলের সর্ববৃহৎ পশুরহাট হিসেবে পরিচিত রাজশাহী সিটিহাট। এখনে প্রতিদিন আমদানি হচ্ছে হাজার হাজার গরু। এ হাটে প্রচুর পরিমাণ দেশী গরুর পাশাপাশি এখন একাকার ভারতীয় গরুতে। কয়েকদিন ধরে এসব হাটে আমদানি শুরু হয়েছে ভারতীয় গরু। রাজশাহীর সুলতানগঞ্জ করিডরের কাস্টম কর্মকর্তা জানান, আগস্ট আসে এ করিডরের মাধ্যমে ১৮ হাজার ভারতীয় গরু এসেছে। চলতি মাসে ভারতীয় গরু আমদানি বেড়েছে। মাসের প্রথম ১৫ দিনেই ১০ হাজারের বেশি গরু এসেছে ভারত থেকে। রাজশাহী সিটি হাটে গরু কিনতে আসা ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ব্যবসায়ী আব্দুস সালাম বলেন, গত বছরের চেয়ে এবার হাটে গরু আমদানি কম। তাই বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। জেলার পবার কৃষক আমজাদ হোসেন বলেন, এক বছর ধরে ভারতীয় গরু আমদানি বন্ধ থাকায় এবার বেড়েছে দেশী গরু পালন। তিনি এবার দুটি গরু বাড়িতে লালনপালন করেছেন। তার টার্গেট প্রায় আড়াই লাখ টাকায় গরু দুটি বিক্রি করবেন। কিন্তু হাটে তোলার পর তার দুইটি গরু দাম উঠেছে ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা পর্যন্ত। এ দামে গরু বিক্রি করলে তার লোকসান হবে। হঠাৎ ভারতীয় গরুর আমদানি হওয়ায় দেশী খামারের গরুর দাম পড়ে যাচ্ছে বলে তার শঙ্কা। নগরীর ভাটাপাড়া এলাকার খামারী জাফর ইকবাল জানান, এবার তিনি তার খামারে ৪০টি গরু পালন করেছেন। কোরবানির ঈদের আগেই সব গরু তিনি বিক্রি করে দেবেন। ইতোমধ্যেই কয়েক ব্যবসায়ী তার খামারে গিয়ে গরু দেখে গেছেন। যে দাম বলেছে তাতে ভাল লাভ হবে বলেও আশা করছেন তিনি। তবে ভারতীয় গরুর আমদানিতে খামারের গরুর দাম পড়ে যেতে পারে বলেও শঙ্কায় তিনি।

রাজশাহীর সিটি হাট ইজারাদার আতিকুর রহমান কালু জানান, রাজশাহী সিটি হাট সপ্তাহে বুধ ও রবিবার বসে। তবে কোরবানির ঈদ সামনে রেখে এখন প্রতিদিনই বেচাকেনা হচ্ছে গরু-মহিষ। এ হাট থেকে প্রতিদিন শতশত ট্রাক গরু-মহিষ যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন জেলায়। গরুর সুস্থতা নির্ণয় ও জাল টাকা চিহ্নিত করতে বসানো হয়েছে বিজিবি ও পশু চিকিৎসা ক্যাম্প বলেও জানান তিনি।

পাবনা থেকে নিজস্ব সংবাদদাতা জানান, পাবনার পশুরহাটগুলোতে প্রচুর দেশী গরু উঠছে। বিদেশী গরুর আমদানি তেমন নেই বললেই চলে। এতে দেশী গরুর দাম ও চাহিদা বেড়েছে। ফলে গোখামারী ও চাষিদের মুখে হাসি ফুটছে। এবার কোরবানির ঈদে গরু বিক্রি করে খামারী ও চাষিরা গত তিন বছরের লোকসান কাটিয়ে উঠতে পারবেন বলে অনেকেই আশা প্রকাশ করেছেন। গরু ব্যবসার সঙ্গে জড়িত কয়েক ব্যবসায়ী জানান, জেলার সিএ্যান্ডবি চতুরহাট, ধুলাউড়িহাট, পুষ্পপাড়াহাট, দাশুড়িয়াহাট, অরোণখোলা, অমৃতকু-া, কাশিনাথপুর, সুজানগর ও হাজিরহাটে দেশীজাতের প্রচুর গরু উঠছে। হাটগুলোতে ভারত, নেপাল ও ভুটানের গরু-মহিষের আমদানি তেমন নেই বললেই চলে। এ সুযোগে অতি মুনাফালোভী অসাধু ব্যবসায়ী ও ব্যাপারীরা স্থানীয় হাটগুলো থেকে গরু কিনে কৃত্রিম সঙ্কট সৃষ্টি করে গরুর দাম বাড়িয়ে দিতে পারে বলে অনেকেই আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। দেশী ক্রস পাবনা ব্রিড, অস্ট্রেলিয়ান-ফ্রিজিয়ান ব্রিড, ইন্ডিয়ান হরিয়ান ব্রিড, পাকিস্তানী সাহিয়াল ব্রিড জাতের গরু প্রচুর আমদানি হচ্ছে। কিন্তু বিক্রি হচ্ছে খুব কম। এই জাতের প্রতিটি গরু বিক্রি হয় এক লাখ থেকে তিন লাখ টাকা দামে। তবে ঢাকা, চিটাগাং ও সিলেটের ব্যবসায়ীরা এলে দেশী হাইব্রিড ক্রস জাতের গরু বেশি বিক্রি হবে বলে ব্যাপারী ও খামারীরা জানিয়েছেন। নগরবাড়ী-বগুড়া-ঢাকা মহাসড়কের বেড়া সিএ্যান্ডবি বাসস্ট্যান্ডের পাশে ইছামতি নদীপারে সিএ্যান্ডবি চতুরহাটের পশ্চিম পাশে গড়ে উঠেছে উত্তরাঞ্চলের অন্যতম প্রধান পশুরহাট। বগুড়া, টাঙ্গাইল, ঢাকা, সিলেট ও চিটাগাংসহ বিভিন্ন জেলার ব্যাপারীরা এই হাটে গরু কিনতে আসেন। মঙ্গলবার সকালে বেড়া সিঅ্যান্ডবি চতুরহাট সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, পশুরহাটে তিল ধারণের ঠাঁই নেই। দূর-দূরান্ত থেকে গরু ব্যবসায়ী ও খামারীরা শত শত ট্রাক, নসিমন, করিমন ও নৌকায় হাজার হাজার গরু নিয়ে আসছেন। হাটে ভারত, নেপাল ও ভুটানের গরু-মহিষের আমদানি নেই বললেই চলে। ফলে দেশী গরুর চাহিদা বেড়েছে। শহিদ নগরের আবুল হাসেম জানান, তিনি হাটে গরু এনে বিপাকে পড়েছেন। হাটে এত গরু আমদানি হয়েছে যে তিল ধারণের ঠাঁই নেই। তবে গত বছরের তুলনায় এ বছর গরুর দাম ও ক্রেতার সমাগম অনেক বেশি। তারা দেশী জাতের গরু ৮০ হাজার টাকায় বিক্রি করেছেন। সাঁথিয়া উপজেলার ভিটাপাড়া গ্রামের লোকমান হোসেন জানান, গত বছর ভারত, ভুটান ও নেপালের গরু-মহিষ বেশি আমদানি হওয়ায় দেশী গরু বেচাকেনা অনেক কম হয়েছে। তাই খামারীরা গত বছরের অবিক্রীত গরু এবার ঈদ উপলক্ষে হাটে বিক্রি করতে এনে ভাল দাম পাচ্ছেন। এতে তাদের লোকসান কাটিয়ে কিছুটা লাভ হবে। এদিকে পাবনার পশুরহাটগুলোর ইজারাদারের প্রতিনিধিদের কাছে গবাদিপশুর ক্রেতা ও বিক্রেতা জিম্মি হয়ে পড়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। তারা অনেকেই জানান, হাট ইজারাদারের প্রতিনিধিরা নিজেদের ইচ্ছামতো অতিরিক্ত খাজনা আদায় করছেন। নিয়ম অনুয়ায়ী হাটে টোল আদায়ের চার্ট টানানো হয়নি। কোন কোন ক্ষেত্রে ক্রেতা-বিক্রেতাকে রশিদ দেয়া হচ্ছে না।

মুন্সীগঞ্জ থেকে স্টাফ রিপোর্টার জানান, মুন্সীগঞ্জের লৌহজংয়ের পদ্মা নদী থেকে ৯৬টি গরুসহ একটি ট্রলার ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় পাইকার ও ট্রলার চালককে অপহরণ করা হলেও পরে তাদের পদ্মার একটি চরে ফেলে রেখে যায় ছিনতাইকারীরা।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার রাতে শরীয়তপুরের মাদবরচর এলাকা থেকে ৯৬টি কোরবানির পশু নিয়ে একটি ট্রলার লৌহজংয়ে যাওয়ার পথে পদ্মা নদীতে ডাকাতরা অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে গরুভর্তি ট্রলারটি ছিনতাই করে নিয়ে যায়। লৌহজংয়ের ডহরী গ্রামের গফুর মাঝির ওই ছিনতাইকৃত ট্রলারটিতে প্রায় অর্ধকোটি টাকার কোরবানির পশু ছিল। তবে ছিনতাইকৃত ট্রলারটিসহ গরুর পাইকার, গৃহস্থ ও ট্রলারের চালককে তারা নিয়ে গেলেও পরে শরীয়তপুরের শুরেশ্বরের কাছে একটি চরে নামিয়ে দিয়ে যায়। লৌহজং থানার ওসি মোল্লা জাকির হোসেন জানান, এমন একটি সংবাদ শুনেছি। তবে এ ব্যাপারে কেউ কোন রকম অভিযোগ এখন পর্যন্ত করেনি।

যশোর থেকে স্টাফ রিপোর্টার জানান, শুক্রবার থেকে ঈদ-উল-আযহা উপলক্ষে যশোরের স্থায়ী-অস্থায়ী ৩২টি গরুহাটসহ বিভিন্নস্থানে নিরাপত্তা দেয়ার কাজ শুরু করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। এ নিরাপত্তা দিতে ঢাকা থেকে ৬০ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য নিয়ে আসা হয়েছে। যশোরের প্রায় ৪০০ পুলিশের সঙ্গে জননিরাপত্তায় কাজ করবেন তারা। ১৮ থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তারা এ দায়িত্বে নিয়োজিত থাকবেন। জেলা পুলিশের বিভিন্নসূত্র থেকে এ তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে। এদিকে, কোরবানির পশুহাটে জাল টাকা রোধ এবং ব্যাংক-বীমাসহ বিভিন্নস্থানে বড় অঙ্কের কোন টাকা লেনদেন করতেও সহযোগিতা করবে পুলিশ। কোন ব্যক্তি কিংবা প্রতিষ্ঠান এজন্য সহযোগিতা চাইলে পুলিশ তাদের নিরাপত্তা দেবে বলে জানিয়েছেন পুলিশ সুপার আনিসুর রহমান। এছাড়া শহর ও মহাসড়কের যানজট নিরাসন, চামড়া পাচার রোধে পুলিশ কাজ করবে বলে তিনি জানিয়েছেন। জানা গেছে, ঐতিহ্যবাহী যশোর জেলায় স্থায়ী ও অস্থায়ী রয়েছে ৩২টি গরুহাট। তাছাড়া রয়েছে দক্ষিণবঙ্গের সবচেয়ে বড় চামড়ার হাট রাজারহাট। তাই ঈদের সময় আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ, মাদক ও চামড়া চোরাচালানকে প্রাধান্য দেয় প্রশাসন। এজন্য উর্ধতন পুলিশ কর্মকর্তারা কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে।