১৪ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

মেডিক্যাল ও ডেন্টালে শান্তিপূর্ণ ভর্তি পরীক্ষা ॥ ৮৭ হাজার ৭৮৪ পরীক্ষার্থী

স্টাফ রিপোর্টার ॥ এমবিবিএস ও বিডিএস ভর্তি পরীক্ষা সারাদেশে একযোগে অনুষ্ঠিত হয়েছে শুক্রবার। দেশের ২৩টি কেন্দ্রের ৪৪টি ভেন্যুতে সকাল ১০টা থেকে ১১টা পর্যন্ত এ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এ বছর এমবিবিএস ও বিডিএস কোর্সে ১১ হাজার ৯৯টি আসনের বিপরীতে ৮৭ হাজার ৭৮৪ জন ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নেন। মেডিক্যাল ভর্তি পরীক্ষায় মোবাইল, ক্যালকুলেটর, ঘড়ি, ব্লুটুথ ডিভাইসসহ সকল প্রকার ইলেক্ট্রনিক্স উপকরণ নিষিদ্ধ ছিল। সুষ্ঠু ও সৃশৃঙ্খল পরিবেশে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। পরীক্ষা কেন্দ্র পরিদর্শনে গিয়েও শিক্ষার্থীদের অসুবিধার বিষয়টি বিবেচনা করে পরীক্ষা হলে প্রবেশ করেননি স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম। শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টায় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা ভবনে মেডিক্যাল ভর্র্তি পরীক্ষা পরিদর্শনে যান। তবে পরীক্ষার্থীদের পরীক্ষায় ব্যাঘাত হবে বলে পরীক্ষার হলে প্রবেশ করেননি স্বাস্থ্যমন্ত্রী। কলা ভবনের মূল ফটকে মোহাম্মদ নাসিম সাংবাদিকদের বলেন, এক মিনিটের জন্যও যদি আমি পরীক্ষার হলে প্রবেশ করি, তাহলে আপনারাও (সাংবাদিকরা) আমার সঙ্গে প্রবেশ করবেন। এতে পরীক্ষার্থীদের ‘ডিস্টার্ব’ হবে। পরীক্ষার হলে শিক্ষার্থীদের প্রতিটি সেকেন্ডই অনেক মূল্যবান। তিনি বলেন, পরীক্ষা অত্যন্ত সুষ্ঠু ও স্বচ্ছভাবে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। জালিয়াতি ঠেকাতে তিনদিন আগে থেকেই কোচিং সেন্টারগুলো বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। এ সময়ে স্বাস্থ্য সচিব এমএম নিয়াজ উদ্দিন, স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক প্রফেসর দীন মোহাম্মদ নূরুল হক উপস্থিত ছিলেন। স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম পরে কলাভবনের প্রধান ফটকে অপেক্ষমাণ অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলেন। এ সময় অভিভাবকরা নিজেদের বিভিন্ন দাবির কথা মন্ত্রীর কাছে তুলে ধরেন। অভিভাবকদের একজন বলেন, সরকারী মেডিক্যালে আসন সংখ্যা সীমিত হওয়ার কারণে আমরা ছেলেমেয়েদের প্রাইভেটে পাঠাতে বাধ্য হচ্ছি। সরকারী মেডিক্যালের আসন সংখ্যা বাড়ানো হলে আমাদের প্রাইভেটে যাওয়া লাগত না। টাকা-পয়সার খরচও কমত। এ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোন জবাব দেননি স্বাস্থ্যমন্ত্রী। দেশে সরকারী মেডিক্যাল কলেজ ৩০টি, ডেন্টাল কলেজের সংখ্যা ৯টি। এর বিপরীতে বেসরকারী মেডিক্যাল কলেজের সংখ্যা ৬৫টি ও ডেন্টাল কলেজের সংখ্যা ৩৩টি। বেসরকারী মেডিক্যাল ও ডেন্টালে ৭ হাজার ৩৫৫টি আসনের বিপরীতে সরকারী মেডিক্যালের আসন সংখ্যা ৩ হাজার ৭৪৪টি।

একজন অভিভাবক প্রশ্নফাঁস ঠেকানো ও মেধাবীদের জন্য সুযোগ অবারিত রাখার দাবি জানালে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, আমরা ভর্তি প্রক্রিয়া মেধাবীদের উপযোগী করে গড়ে তুলছি। আমরা কোচিং বন্ধ করে দিয়েছি। তবুও কিছু অসদুপায় অবলম্বনের চেষ্টা করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অসদুপায় অবলম্বনকারীদের ‘ধরছে’ মন্তব্য করে এজন্য তাদের ধন্যবাদ জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। নাসিম বলেন, যারা মেধাবী তারা যাতে চিকিৎসক হতে পারে, আমাদের চিকিৎসা ব্যবস্থাকে উন্নত করতে পারে সেই লক্ষ্য নিয়ে আমরা কাজ করছি।