২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

পেশোয়ারে তালেবান হামলায় সেনা ক্যাপ্টেনসহ হত ৪৩

জনকণ্ঠ ডেস্ক ॥ পাকিস্তানে বিমানবাহিনীর একটি ক্যাম্পে জঙ্গী হামলায় সেনাবাহিনীর ক্যাপ্টেন আসফান্দ ইয়ারসহ ২১ নিরাপত্তা কর্মকর্তা ও ১৩ জঙ্গীসহ অন্তত ৪৩ জন নিহত হয়েছে। শুক্রবার ভোরে পেশোয়ারের ইনকিলাব রোডের বাদাবর ক্যাম্পে এই হামলা চালানো হয়। এ ঘটনায় ১০ সেনা সদস্যসহ ২০ জন আহত হয়েছে। আহতদের মধ্যে পাক সেনাবাহিনীর এক মেজরও রয়েছেন। নিহত ১৬ জন ওই ক্যাম্পের মসজিদে ফজরের নামাজ আদায় করছিলেন। তবে নিহতদের মধ্যে ঠিক কতজন সামরিক আর কতজন বেসামরিক তা পরিষ্কার নয়। ক্যাম্পটি পাক বিমানবাহিনীর সদস্যদের প্রশিক্ষণ কাজে ব্যবহৃত হয়ে আসছিল। খবর ডন, এক্সপ্রেস ট্রিবিউন, বিবিসি ও এএফপির।

ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন পাক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরীফ, প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ, সেনাপ্রধান জেনারেল রাহিল শরীফ ও বিমানবাহিনী প্রধান সোহেল আমান। হামলার কড়া নিন্দা জানিয়ে পাকিস্তান থেকে জঙ্গীদের শেকড় উৎপাটনে ফের দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন নওয়াজ শরীফ। তিনি বলেন, চলমান জঙ্গীবিরোধী অভিযান থেকে সরে আসবে না পাকিস্তান। এ ঘটনাকে স্রেফ কাপুরুষোচিত আখ্যা দিয়েছেন তেহ্রিক ই-ইনসাফ প্রধান ইমরান খান। হামলার দায় স্বীকার করে ই-মেলে বার্তা পাঠিয়েছে জঙ্গী সংগঠন তেহ্রিক-ই তালেবান পাকিস্তান। পুলিশের পোশাক পরা হামলাকারীরা তিন ভাগে ভাগ হয়ে ক্যাম্পটিতে ঢোকে। এদের মধ্যে দুই ভাগ ক্যাম্পের আবাসিক এলাকা এবং অপরভাগ মসজিদে প্রবেশ করে। হামলাকারীদের কাছে একে-৪৭ রাইফেল, হ্যান্ড গ্রেনেড ও মর্টার ছিল। হামলাকারীদের একটি দল মসজিদে ঢুকে গুলি চালায়। এ সময় সেনা সদস্যদের সঙ্গে জঙ্গীদের কয়েক ঘণ্টা গুলিবিনিময় হয়। হামলার বিষয়ে পাকিস্তানের আন্তবাহিনী জনসংযোগ পরিদফতর আইএসপিআর-এর পরিচালক মেজর জেনারেল আছিম বাজওয়া এক টুইটার বার্তায় জানিয়েছেন, আমাদের সেনা সদস্যরাও জঙ্গীদের রুখে দেয়ার চেষ্টা করে। এ সময় ১৩ জঙ্গী নিহত হয়। আহতদের পেশোয়ারের সম্মিলিত সামরিক হাসপাতাল এবং লেডি রিডিং হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ সময় টুইটারে একটি রক্তমাখা লাশের ছবি পোস্ট করেন তিনি। তিনি আরও বলেন, ক্যাম্পের মধ্যে কোন জঙ্গী লুকিয়ে রয়েছে কি না তার খোঁজ চলছে।

হামলার দায় স্বীকার করে টিটিপির মুখপাত্র মোহাম্মদ খোরাসানি ই-মেইল বার্তায় বলেন, টিটিপির আত্মঘাতী ইউনিট এই হামলা চালিয়েছে। বার্তায় আরও বলা হয়েছে, বিমানবাহিনীর অফিসাররাই এখন তাদের অন্যতম টার্গেট। তাদের গুলি করে মারা হবে এবং প্রতিহত করা হবে।

সকালে হামলা শুরুর পরপরই কুইক রিএ্যাকশন ফোর্সের (কিউআরএফ) বিপুলসংখ্যক সদস্যকে ওই ঘাঁটিতে ঢুকতে দেখা যায়। আশপাশের সড়কগুলোও বন্ধ করে দেয়া হয়। গোলাগুলির শব্দ পাওয়া যায় দূর থেকেও। এ সময় ১৫ জনকে আটক করা হয়। স্থানীয় টেলিভিশনে প্রচারিত ভিডিওতে বিমান ঘাঁটির ওপর দিয়ে হেলিকপ্টারের টহল দিতে দেখা যায়। হামলাকারীদের পরনে পুলিশের কালো পোশাক ও পায়ে সাদা জুতা ছিল।

২০১৪ সালের ডিসেম্বরে এই পেশোয়ারেই সেনাবাহিনী পরিচালিত একটি স্কুলে হামলা চালিয়ে দেড় শতাধিক শিক্ষার্থীকে হত্যা করে তালেবান জঙ্গীরা।