১২ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

মাদারীপুরে ক্লিনিক থেকে নবজাতক চুরির অভিযোগ

নিজস্ব সংবাদদাতা, মাদারীপুর, ১৮ সেপ্টেম্বর ॥ আল্ট্রাসনোগ্রাম রিপোর্টে যমজ শিশুর কথা উল্লেখ থাকলেও অপারেশনের পর জন্ম নেয় একটি শিশু। ফলে বাধে গোল। প্রশ্ন ওঠে তাহলে আরেকটি শিশু গেল কোথায়? আল্ট্রাসনোগ্রাম রিপোর্ট ভুল ছিল- এ কথা পরিবারের পক্ষ থেকে প্রথমে মেনে নিলেও শিশুটি জন্মানোর কয়েক ঘণ্টা পর মারা যাওয়ায় প্রসূতির পরিবার থেকে অভিযোগ ওঠে, তাদের আরেকটি শিশু আছে এবং সেই শিশুটি চুরি হয়ে গেছে!

ক্লিনিক, ডাক্তার ও রোগীসহ একাধিক সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার রাতে শহরের ফেরিঘাট এলাকার জাকির হোসেনের স্ত্রী খালেদা বেগম নামে এক প্রসূতি অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে শহরের চৌধুরী ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়। প্রসূতির প্রেসার বেড়ে যাওয়াসহ নানা সমস্যা থাকায় রাতেই ওই ক্লিনিকের চিকিৎসক ডাঃ দিলরুবা ফেরদৌস অস্ত্রোপচার করলে একটি ছেলেসন্তানের জন্ম হয়। শিশুটি অসুস্থ থাকায় ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পথে সে মারা যায়। প্রথমে একটি শিশুর জন্মের ঘটনা মেনে নিলেও নবজাতক মারা যাওয়ায় শুক্রবার সকালে পরিবারের পক্ষ থেকে আরেকটি শিশুর দাবি তোলা হয়।

জাকির হোসেন ও তার স্ত্রী খালেদা বেগম বলেন, আল্ট্রাসনোগ্রাম রিপোর্টে আমাদের যমজ শিশুর কথা উল্লেখ আছে। কিন্তু ডাক্তার একটি শিশু হয়েছে বলে জানিয়েছেন। আমরা আরেক সন্তান ফেরত চাই। ডাঃ দিলরুবা ফেরদৌস বলেন, ‘মাদারীপুরে প্রত্যাশা ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ওই প্রসূতি খালেদা বেগম আল্ট্রাসনোগ্রাম করান। সেখানে যমজ শিশুর কথা লেখা থাকে। হঠাৎ করে ওই প্রসূতির প্রেসার বেড়ে যাওয়ায় অপারেশন করি। কিন্তু অপারেশন করার পর আমরা একটি শিশু দেখতে পাই। আসলে রিপোর্টে ভুল ছিল। তাছাড়া রোগী অসুস্থ থাকায় অপারেশন তাড়াতাড়ি করার জন্য রিপোর্টের কাগজটি খেয়াল করা হয়নি। পরে দেখি ওই রিপোর্টে স্বাক্ষর ও সিল নেই। আবার কম্পিউটারে সিঙ্গেল শিশুর কথা লেখা থাকলেও তা কেটে হাতে কলম দিয়ে টুইন শিশু লেখা হয়েছে। আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করা হয়েছে। তদন্ত করলেই সত্যতা বের হয়ে আসবে।’

মাদারীপুর জেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা মাহমুদা আক্তার কণা বলেন, খবর পেয়ে আমি ঘটনাস্থলে গিয়েছিলাম। প্রত্যাশা ডায়াগনস্টিক সেন্টারের আল্ট্রাসনোগ্রাম রিপোর্ট আমি দেখেছি। সেখানে গ-গোল আছে। কম্পিউটারে সিঙ্গেল শিশুর কথা লেখা থাকলেও তা কেটে হাতে কলম দিয়ে টুইন শিশু লেখা হয়েছে। তাই আমার মনে হচ্ছে এটি ষড়যন্ত্র। তাই তদন্ত করলেই আসল ঘটনা জানা যাবে।

প্রত্যাশা ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিক শাহিন মৃধা বলেন, একটি রিপোর্টের কাগজে সিল ও স্বাক্ষর আছে। অন্যটিতেও স্বাক্ষর আছে কিন্তু সিল দেয়া হয়নি। আর টুইন বাচ্চা হলে তা হাতের লেখার মাধ্যমেই রিপোর্ট লেখা হয়। কারণ কম্পিউটারে টুইন বাচ্চা লেখা থাকে না। সিভিল সার্জন ডাঃ দিলীপ কুমার দাস বলেন, এ ব্যাপারে পরিবারের পক্ষ থেকে তার দফতরে কোন অভিযোগ দায়ের করা হয়নি।