২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

দুই হাজার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্রছাত্রী তথ্যপ্রযুক্তির সর্বোচ্চ সুবিধা পাবে

  • শেখ রাসেল কম্পিউটার ল্যাব স্থাপন প্রকল্প

ফিরোজ মান্না ॥ ছাত্রছাত্রীকে তথ্যপ্রযুক্তির (আইসিটি) সর্বোচ্চ সুবিধা দিতে সারা দেশে ২ হাজার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ‘শেখ রাসেল কম্পিউটার ও ভাষা প্রশিক্ষণ ল্যাব স্থাপন প্রকল্প’ হাতে নেয়া হয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নের কাজ শুরু হবে আগামী মাসে। প্রকল্পের জন্য ২ হাজার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আসবাবপত্র সরবরাহের জন্য আসবাবপত্র প্রস্ততকারী চারটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তিও করা হয়েছে। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি অধিদফতরের তত্ত্বাবধানে এই প্রকল্পের কাজ বাস্তবায়ন করা হবে।

সূত্র জানিয়েছে, প্রকল্পের আওতায় ৬৪ জেলায় ভাষা প্রশিক্ষণ ল্যাবসহ সারাদেশে ২ হাজার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে (মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক ও সমমানের মাদ্রাসা) কম্পিউটার ও ভাষা প্রশিক্ষণ ল্যাব স্থাপনের কার্যক্রম শুরু হচ্ছে। সারাদেশের ২ হাজার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে চারটি পর্যায়ে আসবাবপত্র সরবরাহ করা হবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে আগামী বছরের জুনের মধ্যে ২ হাজার কম্পিউটার ল্যাব স্থাপন হবে। এতে প্রতি জেলায় একটি করে মোট ৬৪ ভাষা প্রশিক্ষণ ল্যাব স্থাপনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী প্রথম লটের আওতায় ঢাকা বিভাগের ১৭ জেলায় ৫৪৩ টি, দ্বিতীয় লটের আওতায় চট্টগ্রাম বিভাগের ১১ জেলায় ৩৮৭ টি ও সিলেট বিভাগের ৪ জেলায় ১৪৬ টিসহ মোট ৫৩৩ টি, তৃতীয় লটের আওতায় খুলনা বিভাগের ১০ জেলায় ২২৮ টি এবং বরিশাল বিভাগের ৬ জেলায় ১৮৩ টিসহ মোট ৪১১ টি এবং চতুর্থ লটের আওতায় রাজশাহী বিভাগের ৮ জেলায় ২৯৫ টি ও রংপুর বিভাগের ৮ জেলায় ২১৮ সহ মোট ৫১৩ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ সর্বমোট ২ হাজার কম্পিউটার ল্যাবে ৩৪ হাজার চেয়ার ও ১৮ হাজার টেবিল সরবরাহ করা হবে। ৪ টি লটে ফার্নিচার সরবরাহ করবে নাভানা ফার্নিচার লিমিটেড, আকতার ফার্নিশার্র্স, হাতিল, পারটেক্স ফার্নিচার ইনাস্টিজ লিমিটেড। সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানকে আগামী ৪ মাসের মধ্যে প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ফার্নিচার সরবরাহ নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে।

তথ্য ও প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলক বলেন, বাংলাদেশ আইটি সেক্টর একটি অমিত সম্ভাবনাময় খাত। এদেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ তরুণ প্রজন্মকে প্রশিক্ষিত করে দেশকে মধ্যম আয়ের দেশ হিসেবে গড়ে তোলা হবে। এরপর উন্নত দেশে রূপান্তরের জন্য আইটি, আইটিইস, হাইটেক শিল্প ও এই শিল্পের বিকাশ উন্নয়নে হাইটেক পার্ক, সফটওয়ার টেকনোলজি পার্ক অতন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। হাইটেক শিল্পের বিকাশের লক্ষ্যে ইতোমধ্যে একটি পরামর্শক প্রতিষ্ঠানকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। পলিসি প্রণয়ন করা হয়েছে। ফাইবার অপটিক কেবলের মাধ্যমে ১৮ হাজার ১৩২ সরকারী সংস্থাকে অবিভক্ত নেটওয়ার্কের মধ্যে নিয়ে আসা হচ্ছে। প্রযুক্তি খাতে দক্ষ পেশাজীবী তৈরির জন্য ৩৪ হাজার তরুণ-তরুণীকে প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে। এই প্রশিক্ষণের আওতায় এ পর্যন্ত সাড়ে তিন হাজারের বেশি তথ্যপ্রযুক্তিবিদ তৈরি করা হয়েছে। তারা বিশ্বমানের সনদ পেয়েছেন। এই সনদ বিশ্বের সব দেশেই সমান গুরুত্ব বহন করবে। ২০১৬ সালের মধ্যে সাড়ে ৪ হাজার ইউনিয়ন পরিষদ ফাইবার অপটিক্যাল কেবলের আওতায় চলে আসবে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলা গভ নেট ও ইনফো সরকার’ প্রকল্পের আওতায় দেশের প্রায় সব উপজেলা বর্তমানে ফাইবার অপটিক কেবলে সংযুক্ত হয়েছে। ফলে দেশের ১৮ হাজার ১৩২ সরকারী সংস্থা অচিরেই অবিভক্ত নেটওয়ার্কের আওতায় আসবে। এ ছাড়া কম্পিউটর কাউন্সিল থেকে সচিবালয় পর্যন্ত ৩১ কিলোমিটার ফাইবার অপটিক কেবল স্থাপন করে সংযোগ দেয়া হয়েছে। সচিবালয় উচ্চ গতির নিরবচ্ছিন্ন ইন্টারনেট সেবার আওতায় এসেছে। দেয়া হয়েছে ওয়াইফাই সুবিধাও। সারাদেশের মানুষকে একটি নম্বরে নাগরিক সেবা সম্পর্কিত তথ্য প্রদানের উদ্দেশে ‘ন্যাশনাল কল সেন্টার’ তৈরি করা হচ্ছে।