২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

আইজিসিসিতে স্বস্তিকার গানে মুগ্ধ শ্রোতা

আইজিসিসিতে স্বস্তিকার গানে মুগ্ধ শ্রোতা

গৌতম পাণ্ডে ॥ মিলনায়তনের বাইরে মাইকে মৃদুস্বরে ভেসে আসছে রবীন্দ্রসঙ্গীত ‘সীমার মাঝে অসীম তুমি বাজাও আপন সুর, আমার মধ্যে তোমার প্রকাশ তাই এত মধুর’। ছায়ানট রাগের একতালের এ গানটিতে সুর এবং বাণীর মিলনে যেন একাকার হয়ে যাচ্ছিল শিল্পী স্বস্তিকার মুখার্জীর কণ্ঠে। গুলশানের ইন্দিরা গান্ধী সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় এই গানের মধ্য দিয়েই একক গানের আসরের সূচনা করেন ভারতের শান্তি নিকেতনের গুণী এই শিল্পী। তাঁর একক এ সঙ্গীত সন্ধ্যার আয়োজন করে ইন্দিরা গান্ধী সাংস্কৃতিক কেন্দ্র। মিলনায়তনে প্রবেশ করে দেখা যায় একটি আসনও খালি নেই। উৎসুক শ্রোতা নিঃশব্দে গান শুনছেন। শিল্পী স্বস্তিকা একে একে পরিবেশন করেন গীতিকবিদের গান। কোন বক্তব্য নয়, শুধু গান আর গান তন্ময় হয়ে শুনছিলেন সবাই, আর প্রতিটি গানের শেষে চিরাচরিত নিয়মে হাততালি দিয়ে শিল্পীকে সম্মান জানাচ্ছিলেন। শিল্পীর দ্বিতীয় পরিবেশনা ছিল রবীন্দ্রনাথের ‘আমারে তুমি অশেষ করেছ এমনি লীলা তব, ফুরায়ে ফেলে আবার ভরেছ জীবন নব নব’ গানটি। যে শান্তি নিকেতনে বসে ১৯১২ সালে কবিগুরু ছায়ানট রাগে ও ঝম্পক তালে রচনা করেছিলেন গানটি, সেই বিশ্বভারতীরই রবীন্দ্রসঙ্গীতের সিনিয়র অধ্যাপক শিল্পী স্বস্তিকা মুখার্জী। অসাধারণ এক গায়কীতে তিনি যেন গানের মধ্যে নিমগ্ন ছিলেন। পরে তিনি আরও দুটি রবীন্দ্রসঙ্গীত পরিবেশন করেন। গান দুটি হলো-‘আজ যেমন করে গাইছে আকাশ তেমনি করে গাও গো’ ও ‘নাইবা এলে সময় যদি নাই, ক্ষণেক এসে বোলোনাকো যাই যাই যাই’। চোখ বন্ধ করে শিল্পী গানলোকের মর্মবাণীকে ধারণ করে একের পর এক গান গাইছিলেন। শ্রোতারাও যেন গানের ভেতর নিজেকে সঁপে দেয়ার এক প্রাণান্ত চেষ্টা চালাচ্ছিলেন। শিল্পীর পরের পরিবেশনায় ছিল রজনীকান্ত সেনের গান। বাংলা কাব্যসঙ্গীতের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান অধিকার করে আছেন রজনীকান্ত সেন। সুমধুর ভক্তিসঙ্গীত ও উদ্দীপনাপূর্ণ স্বদেশী সঙ্গীত রচনার জন্য তিনি খ্যাতি লাভ করেছেন। তবে ভক্তি সঙ্গীত রচয়িতা রূপেই তিনি বাংলা গানের ইতিহাসে অধিকতর স্থায়ী আসনটি অধিকার করেন। শিল্পী স্বস্তিকা পরপর চারটি রজনীকান্ত সেনের গান পরিবেশন করেন। এগুলো হলোÑ‘তুমি অরূপ স্বরূপ সগুন নির্গুণ’, ‘আমি অকৃতি অধম বলেওতো মোরে কম করে কিছু দাওনি’, ‘দ্যাখ দেখি মন নয়ন মুদে ভাল করে’ ও ‘জাগাও পথিকে ওসে ঘুমে অচেতন’(কেদার রাগ)। রবীন্দ্রনাথের গানের পর যখন শিল্পী রজনীকান্ত’র গান পরিবেশন শুরু করলেন, একটুও যেন গায়কী থেকে বিচ্যুত হলেন না। যার গান যেমন ঠিক তেমনই গায়কী ও সুরের মায়াজালে আবদ্ধ ছিলেন তিনি। এর পরের পরিবেশনায় ছিল অতুল প্রসাদের গান।

তিনি পর পর অতুল প্রসাদের পাঁচটি গান পরিবেশন করেন। এগুলো হলো- ‘আপন কাজে অচল হলে চলবে নারে চলবে না’, ‘এসো গো একা ঘরে একারো সাথী’, ‘বলোগো সজনী কেমনে ভুলিব তোমায়’, ‘সংসারে যদি নাহি পাই সাড়া’ ও ‘আমরা এসে ভেসে যাই’। এরপ তিনি দিলিপ কুমার রায়ের তিনটি গান পর পর পরিবেশন করেন। এগুলো হচ্ছে- ‘একবার গালভরা মা ডাকে’, ‘সে কেমন দেখা দিলরে’, ও ‘এই কথাটি যেন আমার সাদা মনে রয়’। শিল্পীর সব শেষ পরিবেশনা ছিল ডিএল রায়ের ‘ধনধান্য পুষ্পভরা আমাদের এই বসুন্ধরা’ গানটি। তিনি হিন্দি, বাংলা ও ইংরেজিতে গানটি পরিবেশন করেন।