২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

দক্ষতা জরুরী

জনগণের বন্ধু হিসেবে যাদের অবস্থান শীর্ষে, মানুষের পাশে নিরাপত্তা বর্ম নিয়ে যাদের সদাসতর্ক থাকার কথা। সে বন্ধু যদি না হয় বন্ধু, না দেয় নিরাপত্তা, রক্ষা না করে শান্তি-শৃঙ্খলা, তখন সংশয় জাগে। উল্টো তারাই যদি হয়ে যায় নিপীড়ক, অযথা হয়রানির দ-মু-ের কর্তা, অপরাধ দমনের নামে নিজেই সংঘটিত করে অপরাধ, তখন আতঙ্ক জাগে। কিন্তু তা হওয়ার কথা নয় তাদের। আইনশৃঙ্খলা রক্ষা যাদের ব্রত, যারা প্রশিক্ষণ শেষে কর্মে যোগ দিয়েছে, তাদের যোগ্যতা ও দক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠবে কেন, তাদের তো রয়েছে গৌরবময় অতীত। জনগণের পাশে দাঁড়িয়ে তাদের সেবক হিসেবে শান্তি বজায় রাখা এবং অপরাধ নিরসনে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণে তৎপর হওয়া তো কাজের পরিধিতেই রয়েছে।

অথচ দেশে যারা নানাভাবে নানা কারণে নিন্দিত, সমালোচিত, অভিনন্দনহীন, বহির্বিশ্বের বিভিন্ন দেশে তারাই অনবদ্য অবদান রাখছেন শান্তি ও শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠায়। দেশে এক রকম, বিদেশে অন্যরকম- এই যাদের অবস্থা, তাদের দক্ষতা, যোগ্যতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন ওঠার নয়। কতিপয়ের অযোগ্যতা তো আর সবার ওপর বর্তায় না। মাঠ পর্যায়ে দক্ষতার প্রশ্ন আসবেই জনমানুষের কাছে। পরিবেশেই বুঝি দক্ষতার স্বরূপ বদলায়। নিজে দেশে ও সমাজ পরিবর্তনের প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করার কথা জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী বাহিনীর পুলিশ সদস্যের। জাতিসংঘের অধীনে নারীর প্রতি সহিংসতা, পারিবারিক সহিংসতা, নারী অধিকার নিয়ে কাজ করায় বিভিন্ন দেশের অভিজ্ঞতা তারা অর্জন করলেও নিজ দেশে তা কাজে লাগানোর সেই সক্ষমতা দৃশ্যমান নয়। দৃষ্টিভঙ্গি এবং আচরণ পরিবর্তনে এটা অত্যন্ত ইতিবাচক প্রয়াস। গত আড়াই দশক ধরে বিশ্বশান্তি রক্ষায় দক্ষ, পেশাদার বাংলাদেশ পুলিশের অবদান জাতিসংঘ বার বার স্বীকার করে বলেছে, শান্তি রক্ষায় বাংলাদেশ এখন একটি ব্রান্ড ন্যাম।

শৃঙ্খলা রক্ষায় বাংলাদেশ পুলিশ অত্যন্ত দক্ষ। বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীরা সত্যিই পেশাদার বলে মন্তব্য জাতিসংঘের। এটা অবশ্য ঠিক, বাংলাদেশের পুলিশ সদস্যদের সক্ষমতা, নিষ্ঠা, আন্তরিকতা পরীক্ষিত। কিন্তু অপরাধ তদন্ত এবং অপরাধীর সন্ধান খুঁজে পাওয়া ও আটক করার ক্ষেত্রে দেশে পুলিশের দক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন সবসময়ই রয়েছে। বহু খুনের এমনকি চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলার কোন সুরাহা করতে পারছে না দীর্ঘদিন ধরে পুলিশ। বোমাবাজি, গ্রেনেড হামলাসহ নাশকতার কাজে জড়িতদের গ্রেফতারে দক্ষতার নমুনা যেমন নেই, তেমনি মামলা তদন্ত কাজেও যথাযথ পদক্ষেপ নিতে পারে না বলে দুর্বল চার্জশীটের কারণে মামলাও দুর্বল হয়ে পড়ে। অপরাধী পেয়ে যায় পার। অনেক হত্যাকা- বিশেষত, পূর্বঘোষণা দিয়ে যারা ব্লগারদের হত্যা করেছে, সেই সব সংঘবদ্ধ খুনীদের দ্রুত আটক করে বিচারের সম্মুখীন করতে কেবলি সময় বয়ে যায়। যেমন গুরুত্বপূর্ণ অনেক মামলারই নেই তদন্তে অগ্রগতি। এজন্য জবাবদিহির বালাই নেই। আবার কোন কোন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা বার বার বদলানো হয়। পুলিশের অদক্ষতা এবং অজ্ঞতাও অনেক সময় তদন্তকে এগিয়ে যেতে দেয় না। প্রযুক্তির ব্যবহার করে যেখানে দ্রুত অপরাধী শনাক্ত করা যায়, সেখানে পুলিশী তদন্ত পদ্ধতি এখনও মান্ধাতার আমলের ধারায় পরিচালিত হচ্ছে। কোন কোন ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে, হত্যাকা-ের মূল আসামিদের বাদ দিয়ে নিরপরাধীদের আসামি করে চার্জশীট দেয়া হয়। হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন করতে পারে এমন দক্ষতা পুলিশের মধ্যে গড়ে ওঠেনি। অথচ থাইল্যান্ডের পুলিশের দক্ষতা উদাহরণ হতে পারে। রাজধানী ব্যাঙ্ককের মন্দিরে বোমা হামলার প্রধান সন্দেহভাজন আসামি ঢাকায় এসে ১৫ দিন অবস্থান করে আবার চলেও গেল, অথচ পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো কিছুই জানতে পারল না Ñচিন্তার বিষয় বৈকি। থাই পুলিশ তাদের দেশে বসে ঠিকই অনুসন্ধান করে ফেলেছে। এমনকি মালয়েশিয়ায় পলাতক অপরাধীদের শনাক্ত করে আটকও করেছে। সে তুলনায় আমাদের দেশের পুলিশ অনেক পিছিয়ে আছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশ যত দক্ষতা দেখাতে পেরেছে, অপরাধ তদন্তে তত পিছিয়ে। তাদের দক্ষতা বাড়াতে দ্রুত পদক্ষেপ জরুরী।